ইরানের কল পেতে টেলিফোন সেট নিয়ে বসে আছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

‘ইরানের কল পেতে টেলিফোন সেট নিয়ে বসে আছে আমেরিকা’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে ফোনকলের আশায় টেলিফোন সেট সামনে নিয়ে বসে আছে আমেরিকা।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সে ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা শুক্রবার সাংবাদিকদের একটি ছোট দলের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “এখনো ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা টেলিফোন সেটের সামনে অপেক্ষা করছি।”

আমেরিকার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-মার্কিন সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার ভেতরেই গত ৯ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফোন করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানান। একই দিন মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন জানায়, সুইস দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানের কাছে ট্রাম্পের একটি টেলিফোন নম্বরও হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে তেহরান সরাসরি ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারে।

মার্কিন যুদ্ধবাজ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দু’দেশের সুইস দূতাবাস পরস্পরের দেশে আমেরিকা ও ইরানের স্বার্থ দেখাশুনা করে।

ইরানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার জন্য ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশ করার চারদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দেয় আমেরিকা। মার্কিন যুদ্ধবাজ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, ইরানকে ‘স্পষ্ট ও নির্ভুল বার্তা’ দেয়ার জন্য ওই রণতরী পাঠানো হয়েছে।

তবে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল (শুক্রবার) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলার জন্য তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আমেরিকাকে মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল হোসেইন খানজাদি। মার্কিন বাহিনীকে তিনি পারস্য উপসাগর ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে খানজাদি বলেন, এই অঞ্চলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় আঞ্চলিক প্রতিবেশি দেশগুলোর সহায়তার জন্য হাত প্রসারিত করেছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের খবর পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, খানজাদির এই আহ্বান স্পষ্টতই উপসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে জানানো হয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর ওয়াশিংটনের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা বাড়ছে।

তেহরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার বর্ষপূতির দিনে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে রোববার আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সোমবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এরমধ্যে তাদের দুইটি তেল ট্যাঙ্কার রয়েছে। দুইটি সৌদি ট্যাঙ্কারের মধ্যে একটির অপরিশোধিত তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনায় ইরানকে সন্দেহের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানবিরোধী হুমকির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে তার ফলাফল তেহরানের জন্য ভালো হবে না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিমান শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। আমির আলি হাজী জাদেহ বলেছেন, অতীতে ৪০ থেকে ৫০টি বিমান ও ছয় হাজার সেনাসহ একটি যুদ্ধজাহাজ আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকি ছিল। কিন্তু এখন তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আর হুমকি সুযোগে পরিণত হয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকানরা কোনো পদক্ষেপ নিলে আমরা তাদের মাথা ভেঙে দেব। ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

চুক্তি অনুযায়ী ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।