লজ্জা পেয়েছে ট্রাম্প , আর জনসভা না করার ঘোষণা

বৈশ্বিক নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসের মধ্যেও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা ভাইরাসকে শুরু থেকেই তাচ্ছিল্য করে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজে মাস্ক পরতেন না, অন্যদেরও মাস্ক না পরে ‘সাহস’ দেখাতে উৎসাহ দিতেন।

এমনকি করোনা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি ওকলাহোমায় নির্বাচনি সমাবেশেরও আয়োজন করেন সম্প্রতি। তিনি বলেছিলেন, তার সমর্থকরাও করোনাকে ভয় করে না। তাই ১০ লাখ লোক তার জনসভায় আসবে। কিন্তু ১০ লাখ তো দূরের কথা, ১০ হাজার লোকও যায়নি সেখানে। পরে ট্রাম্প ভীষণ লজ্জা পেয়ে আপাতত আর জনসভা করবেন না বলে ঘোষণা দেন।

তবে ট্রাম্প বেশি ভয় পেয়েছেন হোয়াইট হাউজে বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর। এমনকি ট্রাম্পের ছেলের গার্লফ্রেন্ডও করোনায় আক্রান্ত। এখন ট্রাম্প নিয়মিত মাস্ক পরছেন। আর মাস্ক পরেই দায়িত্ব সারছেন তা নয়। এখন তিনি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়েও যথেষ্ট সতর্ক। এখানেই শেষ নয়, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য তিনি আর সরাসরি জনসভা কিংবা পথসভা করতে যাবেন না।

করোনা পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রে দিন-দিন লাগামহীন হয়ে পড়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে হোয়াইট হাউজ সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, এখন থেকে তিনি ‘ভিডিও সমাবেশ’ করবেন। অর্থাৎ অনলাইনে লাইভ ভাষণ দেবেন আর তার সমর্থকরাও অনলাইনেই শুনবে তার বক্তব্য। শনিবার তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, করোনা ভাইরাস আমাদের স্বাভাবিক জীবনের গতি কেড়ে নিয়েছে এটা আর অস্বীকার করা উচিত হবে না।

এদিকে গতকাল রবিবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চেয়েছিলেন মিশিগানে বিশাল সমাবেশ করতে কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সেই সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। খবর ইউএসএ টুডের।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের স্কুল এবং রাজ্যগুলো বন্ধ রাখছে। তবে মিশিগানের গভর্নর গ্রিচেন হুইটমার বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী সাত সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এছাড়া মিশিগানে সমাবেশ করার ট্রাম্পের কোনো আবেদন পাননি বলেও জানিয়েছেন গ্রিচেন।
করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং এক লাখ ৪৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ির পক্ষে নন। তিনি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করারও পক্ষে নন।

আরও সংবাদ

অবশেষে মঙ্গলের পথে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নভোযান ‘হোপ’

গত সপ্তাহে দুই দফা উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেয়ার পরও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মঙ্গল অভিযানের নির্ধারিত সময় থেকে সরে আসতে হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। অবশেষে সবকিছু অনুকূলে নিয়ে মঙ্গলের পথে যাত্রা শুরু করেছে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নভোযান। সফলভাবে যাত্রা শুরু করা আরব আমিরাতের এই মঙ্গল অভিযানের নাম “হোপ”।

জাপানের তেনিগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় ২০ জুলাই ৬টা ৫৮ মিনিটে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস হয়ে এইচ২-এ রকেটে করে মঙ্গল গ্রহের দিকে যাত্রা শুরু করেছে হোপ। ৫০ কোটি কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এটি পৌঁছবে মঙ্গলে; তারপর লাল এই গ্রহটির আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশ্লেষণ গবেষণা এগিয়ে নিতে তথ্য পাঠাবে পৃথিবীতে।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫০ বছর পূর্তিতে এটি মঙ্গলে পৌঁছবে। রকেটটির সফল উৎক্ষেপণ দেখে উচ্ছ্বাসিত আরব আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও এই হোপ মিশনের লিড বৈজ্ঞানিক সারাহ আল আমিরি। অনুভূতি-উত্তেজনা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এটা আমার দেশের নাগরিকদের তেমন অনুভূতি যেমনটা ৫১ বছর আগে ঠিক এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো-১১ মিশন চন্দ্রে পৌঁছার পর সেখানকার নাগরিকদের হয়েছিল।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে বড় বড় নতুন স্বপ্ন দেখার দুয়ার খুলে দিল আরব আমিরাতে এই মঙ্গল অভিযান। ‘আজ আমি সত্যি খুবই আনন্দিত যে আরব আমিরাতের শিশুরাও নতুন বাস্তবতা, নতুন সম্ভাবনার পথে তাদের যাত্রা দেখল।’ আর আরব আমিরাতের নতুন এই পৃষ্ঠা পৃথিবীর মঙ্গল অধ্যায়ে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলেও আশার কথা জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলে যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে সেখানে প্রাধান্য পেয়েছে ভূতাত্ত্বিক গবেষণা। তবে, হোপকে পাঠানো হচ্ছে মঙ্গলের জলবায়ু নিয়ে বিশদ গবেষণা করার লক্ষ্যে। ৬ বছর ধরে হোপকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এই অভিযান সম্পর্কে আরব আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও মঙ্গল অভিযান হোপ’র উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক সারাহ আল আমিরি গত জুনে এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বলেছিলেন, এই অভিযানে বিশাল চ্যালেঞ্জ আছে। তবে,

এই চ্যালেঞ্জ এমন যা অর্জন করা সম্ভব বা উৎরানো যায়। এই অভিযান বিদ্যমান প্রযুক্তি চত্বরে মানিয়ে চলার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি প্রকৌশলীদের নতুন করে সক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে স্পেসক্রাফট বিষয়ক আরও দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি হবে যারা আরব আমিরাতের অর্থনীতির বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও ওই সেমিনারে জানিয়েছিলেন সারাহ।

জ্বালানি তেল নির্ভর অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে এবং জ্বালানি খাতের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে ২০০০ সালের মাঝামাঝি কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।