আমেরিকায় গড়ে উঠছে মুসলিম শহর, যেনো হিজাব নগরী!

কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!

আহা… সেই সুর মুসলিম দেশগুলোত শোনা যায় প্রতিদিন পাঁচ বার কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে কল্পনার বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। এই কল্পনার বিলাসিতাকেই বাস্তবে প্রতিফলিত করেছে আমেরিকার একটি শহরের মুসলিমরা।

হ্যাঁ বলছিলাম বাফেলোর কথা,যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পশ্চিম নিউ ইয়র্কের সর্ববৃহত শহর।ইরি লেকের তীরে অবস্থিত বাফেলো সিটি কানাডা-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত জুড়ে বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য একটি প্রধান গেটওয়ে।নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরত্বের কানাডা সীমান্তের নায়াগ্রা ফলসের অদূরে এই নগরীর অবস্থান।

অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো নায়াগ্রা ফলস ঘুরতে যাবো এবং বাফেলো শহরে কয়েকজন বাংলাদেশী আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে দেখা করবো। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা যাত্রা করি বাফেলোর উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ড্রাইভ শেষে পৌঁছালাম ছবির মতো সুন্দর সাজানো গোছানো আয়তনে ৫২ বর্গমাইলের বাফেলো শহরে।

প্রায় তিন লাখ লোকের শহর বাফেলো আরাম-আয়েশের কারণে অনেকের কাছে যাদুর আবার কারো নিকট শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত। বাফেলো সিটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ১৫ মিনিটের মতো সময় ব্যয় হয়। এর কারণ নিরিবিলি এ শহরে ট্রাফিক জ্যাম নেই বললেই চলে।

জোহর নামাজ আদায় করলাম তাকওয়া মসজিদে।পুরো লাল কার্পেট বিছানো মসজিদের সামনের দেয়ালে লাগানো বুক সেলফে কুরআন হাদিস আর ইসলামি বই থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

অবাক হলাম “জামে মসজিদ বাফেলো”তে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গিয়ে।বিশাল মসজিদের ভিতরের ডিজাইন আর চার্চের মতো গঠন দেখে। নামাজ শেষে কথা হলো মুসল্লি আনোয়ার হোসেনের সাথে তিনি বললেন,আল্লাহ খ্রিস্টানদের দিয়ে গির্জা বানিয়ে সেই গির্জায় মুসলমানদের নামাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তার কথার অর্থ তখন পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে Muslim ummah of North America (MUNA) পরিচালিত বাইতুল আমান মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের শিক্ষক জনাব আব্দুল কাইয়ুম ভাইয়ের নিকট থেকে বিস্তারিত জানতে পারলাম। তিনি বলেন,

এক সময় পুরো বাফেলো সিটি ছিলো- রিলিজিয়ন নগরী। আগেকার লোকেরা ধর্মকর্ম বেশি পালন করতো। বর্তমানে তারা উল্টো পথে চলার কারণে গির্জায় লোকজন শূন্যের কোঠায়। তাই বাধ্য হয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ গির্জাগুলো মুসলিমদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। মুসলমানরা চার্চগুলো কিনে মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামি সেন্টার বানাচ্ছে।

তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম,
শহরটিকে বর্তমানে ২২/২৩ টি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। বাফেলোর ইস্ট সাইট এলাকায় জাকারিয়া মসজিদ ও মারকাজকে ঘিরেই মূলত বাংলাদেশিদের বসতি শুরু।

আশেপাশে কয়েকশ’ বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বার্মিজ মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর রয়েছে। এছাড়া ইয়েমিনি ও সোমালিয়ান প্রচুর মুসলমানের বাস এ মসজিদকে কেন্দ্র করে।

প্রশস্ত রাস্তার দুপাশে নজরকাড়া দৃষ্টিনন্দন বাহারি ডিজাইনের বাড়ি আর সবুজে ছায়া ঢাকা মাঠ শহরের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। এই নিরিবিলি শান্ত শহরে ভারতীয় এক ধার্মিক চিকিৎসক ২৫/২৬ বছর আগে জাকারিয়া দারুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী নিয়ে আমেরিকার সর্ববৃহৎ মাদ্রাসার খেতাব জিতে নিয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী হাফেজে কোরআন ও আলেম হচ্ছে।

দুপুরের খাবারের জন্য খুঁজে পেলাম বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট আল-মদিনা,কথা হলো মালিক এন প্রধানের সাথে তিনি বললেন,
নিউইয়র্ক থেকে তুলনামূলক বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ কম এবং ইসলামি পরিবেশ থাকায় বসবাসের সুবিধার্থে নতুন অভিবাসী মুসলিমরা এ শহরে ভিড় করছেন।

এভাবে দ্রুতগতিতে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাফেলোর মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

শহরটি একসময় ছিলো- কালোদের দখলে। এখন ধীরে ধীরে চলে আসছে বাংলাদেশিসহ মুসলিমদের দখলে। এ পর্যন্ত খ্রীষ্টান্দের বড় বড় গির্জা মসজিদে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি শহরের উপকেন্দ্রে বড় একটি জেলখানা কিনে বিশাল মাদরাসা বানানো হয়েছে।

রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলার ফাকে চিকেন মাছালা, গরুর গোস্তের ঝালফ্রাই , খিচুড়ি আর বিরিয়ানি একের পর এক পেটের মধ্যে চালানের মাধ্যমে নিমিষেই শেষ করি।
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুনছিলাম বাফেলোর একমাত্র বাংলা মাসিক পত্রিকার সাংবাদিকের কথা।

তিনি বললেন,
শহরটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় বেশ উন্নত। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ধর্মবর্ন নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে বসবাস করেন। অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও এসবই সত্য।

দুই দিন বাফেলো ঘুরে চোখে পড়ার মতো ঘটনা হলো এ শহরে মুসলিম নারী ও মেয়েরা হিজাব মাথায় চলাফেরা করেন। হিজাবের আধিক্যের কারণে এ শহরকে হিজাবের নগরীও বলা যায়।

এখানে রয়েছে অনেক মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামিক সেন্টার যার ফলে বিরাজ করছে ইসলামি পরিবেশ।আজানের সময় একসঙ্গে অনেকগুলো মসজিদ থেকে ভেসে আসে সুমধুর আজানের সুর। মনে হবে আপনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শহরে আছেন।

বাফেলোর নাগরিক মুহাম্মদ কাউছার বলেন,শহরের ইসলামি পরিবেশ, আইন-কানুনের যথাযথ ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসসহ নানাবিধ ভয়ভীতি থেকে মুক্ত এ শহর এবং পুরো আমেরিকার মধ্যে বাফেলো হচ্ছে- মুসলমানদের বসবাসের জন্য সর্বসেরা শহর।

উইঘুর মুসলিমদের ‘রক্ষার’ বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু জাতিসত্তা উইঘুর মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়ন ‘ঠেকাতে’ নতুন একটি নিষেধাজ্ঞার বিলে স্বাক্ষর করেছেন। বুধবার তিনি এই স্বাক্ষর করেন।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প এমন এক সময় এই ঘোষণা দিলেন যখন তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন নতুন বইয়ে দাবি করেছেন, উইঘুর মুসলিমদের গণহারে আটকের বিষয়ে ট্রাম্প চীনকে আগে অনুমতি দিয়েছিলেন।

জানিয়েছে, এই বিলটির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মাত্র একটি ‘না’ ভোট পড়ে।উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনের আচরণের বিরোধিতা করে এই বিলের মাধ্যমে ‘শক্ত বার্তা’ পাঠাতে চায় আমেরিকা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জিনজিয়াং প্রদেশে ১০ লাখের বেশি মুসলিমকে ক্যাম্পে আটকে নিয়মিত নির্যাতন করা হয়।তবে, চীন সব সময় এই তথ্য অস্বীকার করে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলায় ৪ বেসামরিক পাকিস্তানি নিহত; চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তলব

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলার আঘাতে চার বেসামরিক পাকিস্তানি নিহত হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতেখার বিবৃতিতে বলেছেন,নিয়ন্ত্রণ রেখার নিখিয়াল ও বাগসার এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এসব গোলা ছোড়া হয়।

তিনি আরও বলেন, নিখিয়াল ও বাগসার সেক্টরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গোলা ছোড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়,সীমান্তের যে এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে তা আবাসিক অঞ্চল। সেখানে বেসামরিক লোকজনের বসবাস। নিহতদের মধ্যে এক নারী রয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েক জন আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় গোলা-গুলির জবাব দিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালিয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌরব আহলুওয়ালিকে ডেকে এনে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহাপরিচালক জাহিদ হাফিজ চৌধুরী ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে বলেছেন, ভারতীয় বাহিনী নিরপরাধ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি বিষয়ক সমঝোতা লঙ্ঘন করছে এবং মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। সুত্র: পার্সটুডে

আমার ভাই কখনো অন্যায়কে মেনে নেননি, মুহাম্মাদ মুরসির স্মৃতিচারণায় এরদোগান

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসির ইন্তেকালের এক বছর পূর্তিতে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগান।

গতকাল বুধবার এক টুইটে এরদোগান মহান এই নেতার স্মরণে বলেন, আমি আজ আমার প্রিয় ভাই, মিসরের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি এবং প্রথম শাহাদাত বার্ষিকীতে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।

টুইটারে মুহাম্মাদ মুরসির সঙ্গে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা এরদোগান আরও বলেন, আমাদের উত্তরসূরীদের জানতে হবে যে, তাদের পূর্বসূরীরা এমন মহান ছিলেন যারা অন্যায়কে মেনে নেননি।

উল্লেখ্য, গতবছর ১৭ জুন মুহাম্মাদ মুরসি দেশটির একটি আদালতে বক্তব্য রাখার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আদালতে শুনানির সময় মুরসি দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখছিলেন। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন- এসময় মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এর আগে ২০১৩ সালে এক বিক্ষোভের জের ধরে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন দেশটির সেনা প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি এবং সিসি দেশের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন। মুরসি ভক্তরা মনে করেন, আদালতে মুরসির ওপর সিসি প্রশাসনের শারীরিক মানসিক চাপ প্রয়োগই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। সূত্র: তুর্কি প্রেস