মুসলিম বিশ্বের বিভাজন খুবই দুঃখজনক: শীঘ্রই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোগানের

মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন দল-উপদলের ওপর ভিত্তি করে বিভাজনকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। দেশটির দ্য প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের (ডিআইবি) সম্মেলনে তিনি মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানী আংকারায় গতকাল বৃহস্পতিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ডেইলি সাবাহর খবরে জানা গেছে। পশ্চিমাদের কাছে প্রশ্নের জবাব চাওয়ায় তিনি মুসলিম বিশ্বের সমালোচনাও করেছেন।

জাতিগত, ভাষা, সম্প্রদায় ও অস্থির পরিস্থিতির কারণে মুসলমানদের এই বিভাজন আরও ব্যাপক রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি আরও বলেন, খোলাফায়ে রাশেদিনেরর মধ্যে কোনো ফারাক দেখে না তুর্কি জাতি। কেউ কেউ শিয়া ও সুন্নিকে আলাদা ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সাম্প্রদায়িক ও স্বার্থপর মনোভাবের কারণে মুসলমান বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায় না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, উম্মাহর স্বার্থ বাদ দিয়ে নিজের স্বার্থকে সবার আগে দেখলে মুসলমানদের কিছুই দেয়া সম্ভব হবে না।

তুরস্কের এই নেতা বলেন, দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বাভাবিক প্ল্যাটফর্ম হারিয়ে ফেলেছেন। তারা একসঙ্গে ব্যবসা কিংবা সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না।

আমি বিচারক হলে বাবরি মসজিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার রায় দিতাম: ভারতের সাবেক বিচারপতি

বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর পরই মুসলিমদের পাশাপাশি এটি নিয়ে সমালোচনা করেন ভারতের কিছু বাসিন্দা। এর মধ্যে সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গাঙ্গুলিও ছিলেন। এবার বিষয়টি নিয়ে আবারও মুখ খুললেন তিনি, করলেন তীব্র সমালোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের সাবেক বিচারপতি একে গাঙ্গুলি মসজিদ ভে’ঙে মন্দির নির্মাণের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই বিচারপতি ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অবসর নেন।

একে গাঙ্গুলি বলেন, মসজিদ ভে’ঙে মন্দির নির্মাণের এই রায়ে হিন্দুদের ‘পুরস্কৃত’ করা হয়েছে। আদালত ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদে হা’মলাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও শেষ পর্যন্ত সেই অপরাধীদের কাছেই এই জায়গা তুলে দিল।

তিনি বলেন, মসজিদে আ’ক্রমণ অপরাধ বর্ণনা করেও রায়ের মাধ্যমে হিন্দুদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই বিচার একটি দুর্ভাগ্যজনক ধারার সৃষ্টি করবে, যেখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা একেবারেই গুরুত্ব পাবে না। একে গাঙ্গুলি আরও বলেন, এই মামলায় বিচারক হিসেবে যদি কেউ রায় দিতেন তাহলে মসজিদটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিতেন।

কিন্তু তারা বিচারক হিসেবে নয়, রায় দিয়েছেন রাজনীতিবিদ হিসেবে। ভারতের সাবেক এই বিচারপতি আক্ষেপ করে বলেন, আমি এই মামলার বিচারক হলে মসজিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার রায় দিতাম। এটা না হলে, কোনো পক্ষকেই কিছু নির্মাণ করতে দিতাম না। সেখানে মন্দির বা মসজিদ কোনোটাই নির্মাণ হতো না।

এর পরিবর্তে বিরোধপূর্ণ জমিটি ধর্ম নিরপেক্ষ কোনো কাজে ব্যবহার করা যেত, যেমন- হাসপাতাল কিংবা স্কুল বা কলেজ নির্মাণ। একে গাঙ্গুলি বলেন, মসজিদ উচ্ছেদের রায়ে হিন্দুদের আনন্দিত না হওয়াই উচিত। কারণ হিন্দু ধর্মে মসজিদ উচ্ছেদের কথা নেই। এটা পুরোপুরি হিন্দু ধর্মের বিশ্বাসের পরিপন্থি।