ফোরাত নদীর পূর্বপ্রান্তে স্থল ও আকাশপথে বড় অভিযানের ঘোষণা এরদোগানের!

সিরিয়ার ফোরাত নদীর পূর্বপ্রান্তে স্থল ও আকাশপথে অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। খুব শিগগিরই এই অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার ক্ষমতাসীন একে পার্টির বার্ষিক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান এ হুশিয়ারি দেন।

সিরিয়া সীমান্তে শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল বিষয়ে তুরস্ক আর অপেক্ষা করবে না বলেও জানান তিনি। খবর ডেইলি সাবাহর। এরদোগান বলেন, ফোরাত নদীর পূর্বপ্রান্তে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের আমরা সতর্কও করেছি।

অভিযানের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন দাবি করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা নিজেদের প্রস্তুতি ঘুছিয়ে নিয়েছি। খুব শিগগিরই অপারেশন শুরু করার ব্যাপারে সব নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই স্থল ও আকাশপথে অভিযান শুরু হবে। প্রসঙ্গত, তুরস্কে আশ্রয় নেয়া সিরীয় শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন,

সে কারণে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে আঙ্কারা। ৪০ লাখের বেশি সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক। সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের বিষয়েই তুরস্ক কাজ করছে দাবি করে এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় শুধু বিদ্রোহীদের নিয়েই আমরা কথা বলি।

ইদলিব, মানবিজ ও ফুরাত নদীর পূর্বপ্রান্তে আমরা নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। পিওয়াইডি ও এর সশস্ত্র সংগঠন ওয়াইপিজির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা সিরিয়ান কুর্দিদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ নিরপরাধ কুর্দিদের আমরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে একপাল্লায় মাপতে চাই না।

এবার তুরস্কের বিরুদ্ধে নামছেন মোদি!

এমনকি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান প্রকাশ্যে যখন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তখন আঙ্কারার তিন ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া ও গ্রিসের সাথে নীরবে সম্পর্ক জোরদার করছে নয়া দিল্লি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দেয়ার পর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্টেসিয়াদেসের সাথে বৈঠক করেন। এসময় তিনি সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও ঐক্যের প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কথা আবারো ঘোষণা করেন।

ভারতের এই ঘোষণা পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এই দেশটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৯৭৪ সালে তুর্কি হস্তক্ষেপে দেশটির উত্তর অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তুরস্কের সহায়তায় তুর্কি সাইপ্রাস তথা টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাস গঠিত হয়। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তুর্কি সাইপ্রাস আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তেমন পায়নি। কেবল তুরস্কের সাথেই রয়েছে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক। উত্তর সাইপ্রাসে তুরস্কের ৩০ হাজার সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।
মোদি তার গ্রিক প্রতিপক্ষ কিরিওকোস মিতসোতাকিসের সাথে সাক্ষাত করেন শুক্রবার।

তিনি টুইটে বলেন, তিনি গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আমরা বাণিজ্যের পাশাপাশি জনগণ পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করব। তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে অনেক দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ১৯৯৬ সালে ইমিয়া আইল্যান্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সঙ্ঘাতও হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় বড় ধরনের সঙ্কট এড়ানো সম্ভব হয়। দুই দেশের মধ্যে আরো কিছু বিষয়ে জটিলতা রয়েছে। তুরস্কের তুলনায় আকারে অনেক ছোট হলেও গ্রিস সামরিক খাতে অনেক ব্যয় করে। বিশ্বে তারা প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দিক থেকে সপ্তম স্থানে রয়েছে,মাথাপিছু ব্যয় ১,২৩০ ডলার। তাদের জঙ্গি বিমানগুলো প্রায়ই তুর্কি জঙ্গিবিমানের সাথে আকাশযুদ্ধে লিপ্ত হয়।

মোদি আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সাথেও বৈঠক করেছেন। তুরস্কের সাথে এই দেশের সীমান্ত রয়েছে, তাদের মধ্যকার সম্পর্কও টানাপোড়েনের। সেই ১৯১৫ সালে উসমানিয়া সাম্রাজ্যের সময় কয়েক লাখ আর্মেনিয়ানের নিহত হওয়ার ঘটনা এখনো আর্মেনিয়া ভুলতে পারেনি।

আর তুর্কি সরকার গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পরও মোদি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলেন।
চলতি বছরের প্রথম দিকে আর্মেনিয়ান পার্লামেন্টের স্পিকার আরারাত মিরজোয়ান আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘সত্যিকার বন্ধুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছিলেন, তুরস্ককে সংযত রাখার অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশেরই।

গত জুনে সিপ্রিয়ট রাজধানী নিকোসিয়ায় প্রথমবারের মতো সাইপ্রাস, গ্রিস ও আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছিলেন।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতাকালে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট বলেন, শেষ ইউরোপিয়ান বিভক্ত দেশ হিসেবে রয়ে গেছে সাইপ্রাস। তিনি সাইপ্রাসের সার্বভৌমত্ব অধিকার লঙ্ঘনের জন্যও তুরস্কের সমালোচনা করেন।

গ্রিক প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বক্তৃতায় তুরস্কের ‘গানবোট কূটনীতির’ তীব্র সমালোচনা করেন। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীও তুরস্ককে আক্রমণ করে ওই ফোরামে বক্তৃতা করেন। তুরস্কের সাথে এই তিন দেশের গভীর বৈরিতার মধ্যেই মোদির এই তিন নেতার সাথে বৈঠক করাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মনে হচ্ছে, ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের সাথে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জ করতেই মোদি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।