কোরআন খতম করতে তুর্কিদের অভিনব পদ্ধতি

কোরআন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য প্রেরিত সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এ কিতাব মানুষের দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরকালে নাজাতের জন্য তিনি প্রেরণ করেছেন। আর কেয়ামত পর্যন্ত পবিত্র এ গ্রন্থের সংরক্ষণের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন তিনি নিজেই। ইরশাদ হচ্ছে-

‘নিশ্চয় আমি কোরআনে কারিম অবতীর্ণ করেছে এবং আমি এর সংরক্ষক’। প্রায় সাড়ে চৌদ্দশো বছর পূর্বে কোরআন অবতীর্ণ হলেও আজও তা অবিকল ও সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত আছে এবং থাকবে। এর মাধ্যমেই আল্লাহর শ্বাশত এই ঘোষণা প্রতিফলিত হয়ে আসছে।

কাল পরিক্রমায় মুসলিম উম্মাহ তাঁদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন সংরক্ষণে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছেন। শুরুতে যখন রাসুল (সা.)-এর উপর কোরআনের কোন আয়াত আবতীর্ণ হতো তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওহী-লেখক কোনো সাহাবীর দ্বারা তা লিখিয়ে নিতেন।

এরপর সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-এর পবিত্র জবানে তা শুনতেন এবং মুখস্থ করে ফেলতেন। এরপর হজরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফত কালে হজরত ওমর (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের পরামর্শে কোরআনে কারিম একত্রে সংকলন করা হয়।

অতপর হজরত উসমান (রা.)-এর যুগে তা গ্রন্থাকারে এক মলাটে বাঁধাই করে একাধিক নুসখা তৈরি করা হয় এবং তা মুসলমানদের কেন্দ্রীয় শহরগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর এভাবে কোরআন মুসলিম উম্মাহর সীনায় ও লিখনি উভয়ভাবে সংরক্ষিত হয়ে যায়। আর এই ধারাবাহিকতা কালপরিক্রমায় আজও অব্যাহত রয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর ঘোষণা ‘মানবজাতির মুক্তির ঠিকানা আল কোরআন’-এর উপর উদ্বুদ্ধ হয়ে গোটা বিশ্বের অসংখ্য শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধরাও পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে মহান আল্লাহর ‘কোরআন সংরক্ষণ’ এর ঘোষণা বাস্তবায়ন করছে।

সম্প্রতি তুর্কি মুসলিমদের কোরআন তিলাওয়াতের অভিনব এক দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নানা প্লাটফর্মে। আল জাজিরা সুরিয়া আরবির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছে সেই দৃশ্যের কয়েকটি ছবি।

সেখানে দেখা যায়, দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় আরোহন করার সময়ও অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করছেন কয়েকজন তুর্কি মুসলিম। এ দৃশ্য দেখেই বোঝা যায়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে তাঁর কিতাবের সংরক্ষণ করবেন। একইসঙ্গে তাঁদের তিলাওয়াতের দৃশ্যে যে কারো মন কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি উদ্বুদ্ধ হবে নি:সন্দেহে।

আল জাজিরা জানায়, তুরস্কের এরজুরুম শহরের কয়েকজন বাসিন্দা শীত মৌসুমে সম্মিলিতভাবে অন্তত এক হাজার বার কোরআনে কারিম খতম দেয়ার নিয়ত করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সফরকালীন সময়েও তাঁরা উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় কোরআনে কারিম তিলাওয়াত করছেন। যেকোনো ভাবেই যেন তাঁদের খতম শেষ হয়-সেজন্য তাঁরা তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাস মতো সফরের মধ্যেও তিলাওয়াত করছেন নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ।

বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ব্যক্তিরা তাঁদের ব্যপক প্রশংসা করছেন। অনেকে লিখেছেন, তুর্কি মুসলিমদের কোরআন তিলাওয়াতের এই দৃশ্য তাদের কোরআনে কারিম তিলাওয়াতের প্রতি আরো বেশি উদ্বুদ্ধ করছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ ‘জমজমের পানি’: জাপানি বিজ্ঞানী

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরার সময় স্বজনদের জন্য হাজিদের বিশেষ উপহার থাকে জমজমের পানি। আগ্রহ নিয়ে সবাই জমজম কূপের পানি পান করে থাকেন। জাপানি বিজ্ঞানী মাসারু ইমোতো এই পানির ওপর সম্প্রতি গবেষণা করেছেন। পৃথিবীর বিশুদ্ধ পানিসহ অনেক তথ্য উঠে এসেছে তার গবেষণায়।

জমজমের পানি কেন পৃথিবীর বিশুদ্ধতম মাসারু ইমোতো তার গবেষণার মাধ্যমে কিছু বৈজ্ঞানিক ধারণা বের করেছেন-

এক ফোঁটা জমজমের পানিতে যে পরিমাণ আকরিক পদার্থ থাকে তা পৃথিবীর অন্য কোনো পানিতে থাকে না।

জমজমের পানির গুণগত মান কখনো পরিবর্তন হয় না।

জমজমের পানিতে এন্টিমনি, বেরিলিয়াম, ব্রোমাইন, কোবাল্ট, বিস্মুথ, আয়োডিন আর মলিবডেনামের মতো পদার্থগুলোর মাত্রা ছিল ০.০১ পিপিএম থেকেও কম। ক্রোমিয়াম, ম্যাংগানিজ আর টাইটানিয়াম এর মাত্রা ছিল একেবারেই নগণ্য।

জাপানি বিজ্ঞানীর পরীক্ষা অনুযায়ী জমজমের পানির পিএইচ হচ্ছে ৭ দশমিক ৮। যেটি সামান্য ক্ষারজাতীয়। বিজ্ঞানী তার পরীক্ষায় আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সীসা এবং সেলেনিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থগুলো ঝুঁকিমুক্ত মাত্রায় পেয়েছেন। যে মাত্রাগুলোতে মানুষের কোনো ক্ষতি হয় না।

সাধারণ কূপের পানিতে জলজ উদ্ভিদ জন্মালেও জমজম কূপে জন্মায় না।

জমজমের পানিতে যেসব আকরিক পদার্থ পাওয়া গেছে তার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফ্লোরাইড, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, সালফেট, নাইট্রেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম উল্লেখযোগ্য। ফ্লোরাইড ছাড়া বাকি মিনারেলগুলোর মাত্রা অন্যসব স্বাভাবিক খাবার পানিতে পাওয়ার মাত্রা থেকে বেশি ছিল।

মাসারু তার পরীক্ষায় জমজমের পানির এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী মৌলিক আকার পেয়েছেন যেটি খুবই চমকপ্রদ। পানির দুইটি স্ফটিক সৃষ্টি হয়- একটি আরেকটির উপরে কিন্তু সেগুলো একটি অনুপম আকার ধারন করে।