নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এস-৪০০ কেনা থেকে ফিরবে না তুরস্ক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা থেকে ফিরবে না তুরস্ক। বৃহস্পতিবার আঙ্কারার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসগ্লু এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি মূল্যায়ন করে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এস-৪০০ ক্রয় নিয়ে ন্যাটো সদস্য তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ডিরেক্টরেট প্রধান ইসমাইল দেমির এবং আরও তিনজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে তুরস্ক মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞাকে বড় ভুল বলে আখ্যায়িত করেছে।

বুধবার প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতি বৈরী আক্রমণ এবং এটি অবশ্যই ব্যর্থ হবে।

সংবাদ মাধ্যম কানাল২৪-এ দেয়া এক সাক্ষাতকারে কাভাসগ্লু বলেন, মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত তুরস্কের সার্বভৌমত্বের অধিকারের ওপর আক্রমণ এবং এটি তুরস্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

সূত্র: ইয়েনি শাফাক

প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বাধীনভাবে গড়ে তুলতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করবো

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘটনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর ‘শত্রুপক্ষীয় হামলা’। তবে তাদের এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে এমন তথ্য মিলেছে। ন্যাটো মিত্র তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প অধিদফতর ও তার প্রধান ইসমাইল দেমিরসহ তিন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

এরপর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসে এরদোগান বলেন, নিষেধাজ্ঞা উদ্ভূত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে। এ সময় একটি স্বাধীন প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ন্যাটোমিত্রকে শাস্তি দেয়ায় ওয়াশিংটনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, এটি কী ধরনের জোট? কী ধরনের অংশীদারিত্ব? এটা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বে শত্রুতপূর্ণ হামলা ছাড়া আর কিছু না।

‘তাদের আসল লক্ষ্য হচ্ছে, আমাদের প্রতিরক্ষা খাতে সম্প্রতি শুরু হওয়া অগ্রগতি থামিয়ে দেয়া। আমাদেরকে তাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে তুলতে চায় তারা।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘প্রকাশ্য হামলা’ উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, নিশ্চিতভাবে, এতে সমস্যা হবে। কিন্তু প্রতিটি সমস্যাই সমাধানের দরজা খুলে দেয়।

তিনি জানান, আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বাধীনভাবে গড়ে তুলতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করবো। প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থাগুলোর প্রকল্পগুলো ত্বরান্বিত করবো। প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি সমর্থন দেব।

এর আগে গত জুলাই মাসেও মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও তার যন্ত্রাংশ নিষিদ্ধ করে তুরস্ককে শাস্তি দিয়েছে ওয়াশিংটন।