দিরিলিসের ‘হার্ট গ্র্যাটিং’ প্রচলন করছেন এরদোগান!

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বিশ্ব। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন। এক্ষেত্রে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক এর মত অভিবাদনের রীতি থেকে একেবারেই বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এমন সময়ে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেকের জায়গায় কয়েকটি শুভেচ্ছা বা অভিবাদনরীতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে- এর একটি বুকের বামপাশে ডানহাত রেখে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে অভিবাদন জানানো। ইংরেজিতে এটিকে বলা হচ্ছে ‘হার্ট গ্র্যাটিং’।

এমন অভিবাদনরীতির ব্যাপক প্রচলন শুরু করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানসহ মুসলিম বিশ্বের একাধিক নেতা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু তার ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন; যাতে তিনি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে হ্যান্ডশেক কিংবা কোলাকুলি করার পরিবর্তে ‘হার্ট গ্র্যাটিং’ (ডান হাত বাম বুকে রেখে অভিবাদনবিশেষ) অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

ভিডিও ক্লিপটির একটা অংশে দেখা যায় যে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে হ্যান্ডশেকের পরিবর্তে হৃদয়ের ওপর হাত রেখে অভিবাদন জানাচ্ছেন। চাভুসওগ্লু ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেন, আমরা অন্তরের অভিবাদনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি।

গত মার্চে এরদোগান বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সফরকালে সেখানে বেলজিয়ামের ন্যাটো বাহিনীর সেক্রেটারি-জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এরদোগান স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রেখে হ্যান্ডশেকের পরিবর্তে বুকে হাত রেখেই তাকে অভিবাদন জানান।

এমন অভিবাদন রীতি এর আগে দেখা গেছে তুরস্কের নির্মিত দিরিলিস আরতুগ্রুল নামক একটি টিভি নাটকে। আরতুগ্রুল গাজী ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের পিতা। বলা হয়ে থাকে তিনিই অটোমান সাম্রাজ্যের ভিত প্রতিষ্ঠা করে যান।

বাংলাদেশের হাতে ১০ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র!

আধুনিক বিশ্বে প্রায় সকল দেশ নিজ নিজ প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করেছে। এর ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। অত্যাধুনিক নানা যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত রয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী। বিশ্বে সমরাস্ত্রে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র। বাংলাদেশের হাতেও রয়েছে এই অস্ত্র। বাংলাদেশের হাতে এখনো পর্যন্ত ১০ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে বসেই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কাজ করে ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনী বেশ কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে, এন্টিশিপ মিসাইল বা ASHM, সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল বা SAM, এয়ার টু এয়ার মিসাইল বা AA মিসাইল এবং ATGM ও ম্যানপেড ঘরানার ক্ষেপণাস্ত্র। তবে বাংলাদেশের সামরিক বহরে এখনো যুক্ত হয়নি এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল।
আরও পড়ুন: চীন-ভারত: সামরিক শক্তিতে কে কতটা এগিয়ে

তিন বাহিনীর মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশী রেঞ্জ, কার্যকরী এবং সংখ্যার দিক থেকে মিসাইল ব্যবহারকারী ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এগিয়ে। বাংলাদেশের হাতে থাকা সর্বোচ্চ রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্রের (২১০ কি.মি) অধিকারী এই বাহিনী।
বাংলাদেশের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

১. OTOMAT_MKII_BLOCK_IV:
ইতালির কাছ থেকে ক্রয় করা এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বানৌজা-বঙ্গবন্ধু ফ্রিগেটে ব্যবহার হচ্ছে। এই ফ্রিগেট রেডি টু ফায়ার মুডে ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে। এবং আরো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজে স্টোর করা থাকে, যা পরবর্তীতে ম্যানুয়ালি লোড করতে হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ রেঞ্জ ২১০ কিঃমি পর্যন্ত। এবং এটিই বাংলাদেশের হাতে সর্বোচ্চ রেন্জের ক্ষেপণাস্ত্র।
আরও পড়ুন: সৌদি-ইরান: সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?
অটোমেট এমকে২ ব্লক৫:
২. C802A: নৌবাহিনীর বহরে থাকা C802A দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেঞ্জের ক্ষেপণাস্ত্র। সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের বহরে থাকা সর্বাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এটি। চীনের তৈরী এই মিসাইলটি দেশে তৈরী যুদ্ধ জাহাজ থেকে শুরু করে অন্য দেশ থেকে আমাদানিকৃত যুদ্ধ জাহাজে ব্যাপকহারে ব্যবহার হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেকটি ফ্রিগেট এবং স্বাধীনতা ক্লাস কর্ভেটে মিসাইলটি ইনস্টল করা আছে। C802A এর রেঞ্জ ১৯০ কি.মি পর্যন্ত। যেহেতু প্রতিবছরই নৌবাহিনী নতুন যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ করে সে হিসেবে প্রতিবছরই নতুন করে C802A ক্ষেপণাস্ত্রও বহরে যুক্ত হচ্ছে।
৩. সি৮০২এ এবং মেনপ্যাড:
C704 এন্টিশীপ ক্ষেপণাস্ত্রটিও চীনের তৈরী। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশে তৈরী দূর্জয় ক্লাস লার্জ পেট্রোল ক্রাফট, ক্যাসল ক্লঅস কর্ভেট এবং মিসাইল বোটে ব্যবহার হচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৩৭ কি.মি।
৪. FM90 সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল। এটি দেশের তিন বাহিনীর হাতেই রয়েছে। এই সার্ফেস টু এয়ার মিসাইলের রেঞ্জ ১৫ কি.মি। এই রেঞ্জের মধ্যে বিমান, হেলিকপ্টার এবং মিসাইল ধ্বংস করতে পারে। এটি একটি শর্ট রেঞ্জ SAM সিস্টেম যার মুল কাজ গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা,যুদ্ধ জাহাজ,বিমানঘাঁটির পয়েন্ট ডিফেন্স সুরক্ষা প্রদান।
আরও পড়ুন: তুরস্ক-পাকিস্তান-ইরান: যুদ্ধের ময়দানে কে এগিয়ে?
৫. FL3000N চীনের তৈরী এই SAM এর ব্যবহারকারী বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এই ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ ১০ কি.মি। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হল, সুপারসনিক মিসাইল ঠেকিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। চীন থেকে নতুন ক্রয়কৃত Type056 কর্ভেটে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়।
৬. R27 এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে থাকা সর্বোচ্চ রেঞ্জের এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার তৈরী এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রধানত আমাদের MIG29 যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৮০ কি.মি দূরে থাকা প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পারে।
৭. R73 এয়ার টু এয়ার মিসাইল। এটি রাশিয়ার তৈরী শর্ট রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্রটি। এটি মূলত ৩০ কি.মি রেঞ্জের মধ্যে ডগ ফাইটে শত্রু বিমান ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন: সামরিক সক্ষমতায় কে এগিয়ে ভারত নাকি পাকিস্তান
৮. PL5 এয়ার টু এয়ার মিসাইল। চীনের তৈরী এই ক্ষেপণাস্ত্রটিও শর্ট রেঞ্জের। ডগ ফাইটে ১৬-১৮ কি.মি এর মধ্যে প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
৯. PL9C চীনের তৈরী শর্ট রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্রও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী ব্যবহার করে।
১০. এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশের হাতে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের এন্টি ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ও ম্যানপেড রয়েছে।

সূত্র: ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম

কোরআন পুড়িয়ে কট্টরপন্থী নেতা পোস্ট করল ‘ইসলাম বাজে ধর্ম

ইসলামকে বাজে এবং আদিম ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডেনমার্কের স্ট্রাম কুর্স দলের কট্টরপন্থী নেতা রাসমুস পলদান। গত বৃহস্পতিবার এই দলের সদস্যরা কোরআন পুড়িয়ে ফেলার পর নেতা রাসমুস পলদান এই মন্তব্য করেছেন।

এছাড়া রাসমুস পলদান সামাজিক মাধ্যমে কোরআন পোড়ানোর ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কোরআন পুড়িয়ে ফেলছে।

সামাজিক মাধ্যমে রাসমুস পলদান লিখেছেন, অনেক পাপী বলেছিল আমরা কখনোই এটি (কোরআন পোড়ানো) করতে পারবো না। কিন্তু আমরা তা করেছি। ইসলাম একটি ‘বাজে’ এবং আদিম ধর্ম ,যার ডেনমার্ক, সুইডেন কিংবা কোন সভ্য সমাজে স্থান নেই।

গত মাসে সুইডেনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত মালমো চরম শহরে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এর পর গত বৃহস্পতিবারে ফের স্টকহোমের রিঙ্কবিতে কোরআন পোড়ানো হল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে করা এক বিক্ষোভের মধ্যে স্ট্রাম কুর্স দলের সদস্যরা স্টকহোমের রিঙ্কবিতে কোরআনের পুড়িয়ে দেয়।

দলটি কোরআন পোড়ানোর আগে পুলিশের কাছে অনুমতি চায়, তবে পুলিশ তা বাতিল করে দেয়। এরপরও পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে দলটি এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

সুত্র: ডেইলি সাবাহ, আল জাজিরা

‘আমেরিকার ‘গর্দভ’ প্রেসিডেন্ট ইসরাইলকে রক্ষা করতে পারবে না’

ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের যে সিদ্ধান্ত বাহরাইন সরকার ঘোষণা করেছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।

তারা বলেছেন, বাহরাইনের ‘জল্লাদ শাসক’ যেন কুদস মুজাহিদদের পাশাপাশি বাহরাইনের মুসলিম জাতির কঠিন প্রতিশোধের অপেক্ষায় থাকে। খবর মেহের নিউজের। খবর ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের।

বাহরাইনের আলে খলিফা সরকার শুক্রবার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এরই মধ্যে মানামার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, বাহরাইনের মুসলিম জাতির আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে আলে খলিফা সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা চরম কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ এবং এর কোনো বৈধতা নেই।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকার ‘ঘৃণীত ও গর্দভ’ প্রেসিডেন্টের কারসাজিতে কিছু আরব শাসক ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তেলআবিবকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, তা কোনো দিনও সফল হবে না।

এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বরং উল্টো মুসলিম উম্মাহর ইহুদিবাদবিরোধী চেতনা শানিত হবে এবং মুসলিম মানচিত্র থেকে ইসরাইল নামক বিষফোঁড়া অপসারণের পথ সুগম হবে।

মানবতার ‘লেকচার’ দিতে আসবেন না: ম্যাক্রনকে এরদোগান

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন তুরস্ককে লেকচার দেয়ার মতো অবস্থায় নেই।

এ সময় আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রুয়ান্ডা গণহত্যায় ফ্রান্সের ভূমিকার কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

তুরস্কভিত্তিক ডেইলি সাবাহের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ইস্তানবুলের কাছে মর্মর সাগরে গণতন্ত্র ও স্বাধীন দ্বীপে একটি অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, আপনার(ম্যাক্রন) কোনো ইতিহাসের জ্ঞান নেই। এমনকি আপনি ফ্রান্সের ইতিহাসও ভালোভাবে জানেন না। তুরস্কের সঙ্গে ঝামেলা করতে আসবেন না।

১৯৮০ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের চল্লিশতম বার্ষিকীতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল।

ম্যাক্রনকে উদ্দেশ্য করে এরদোগান বলেন, আমাদের মানবতার লেকচার দিতে আসবেন না।

এর আগে বৃহস্পতিবার তুরস্কের আচরণ অগ্রহণযোগ্য দাবি করে দেশটির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে ইউরোপকে আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাক্রন।

কোরসিকায় ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর একটি সম্মেলনের আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

এতে আঙ্কারার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সাংবাদিকদের ম্যাক্রন বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সরকারের ব্যাপারে আমাদের ইউরোপীয়দের আরও কঠোর ও পরিষ্কার হওয়া দরকার। তাদের আচরণ খুবই অগ্রহণযোগ্য।

ম্যাক্রনের আহ্বান যতটা না তুরস্কের বিরুদ্ধে, তার চেয়েও বেশি এরদোগানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনার সাথে আমার ঝামেলা অব্যাহত থাকবে।

তুরস্ক নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে: এরদোগান

গ্রিসসহ ইউরোপের দেশগুলোকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান আবারও স্মরণ করিয়ের দিয়েছেন বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। তুরস্ক বিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয় এবং সেটা বাস্তবায়ন করে। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তৈরি দ্বন্দ্বে গ্রিসের পক্ষ নিয়েছে ফ্রান্সসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বেশ কিছু দেশ। বৃহস্পতিবার ইইউ’র সভায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন তুরস্কের বিরুদ্ধে আরো শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহব্বান জানান ইইউভুক্ত দেশগুলোকে। সেখানে তিনি তুরস্কের নানান কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন।

তার জবাবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ‘আপনার (ম্যাক্রন) ইতিহাস সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই। এমনকী আপনি ফ্রান্সের ইতিহাসও ভালো করে জানেন না। সুতরাং আমাদের উদ্দেশ্যে মানবতার লেকচার দিতে আসবেন না। আলজেরিয়ায় কারা ১০ লক্ষ মানুষ মেরেছিল? রুয়ান্ডায় কারা ৮ লাখ মানুষকে খুন করেছিল? তুরস্ক ও তুরস্কের মানুষের সঙ্গে লাগতে আসবেন না।’

ম্যাক্রন বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই তুরস্কের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। তবে তুরস্কের মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তারা এরদোগান সরকারের চেয়ে ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য। তুরস্ক এখন থেকে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের অংশীদার নয়।’

তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গ্রিসকে সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। গ্রিসকে এ বিষয়ে সাবধান করে দিয়ে এরদোগান শনিবার বলেছেন, ‘গ্রিস তাদেরকে বিশ্বাস করছে যারা সহায়তা করার আশ্বাস দিচ্ছে।

তারা যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে দ্বীপের চারপাশে ঘুরছে। তারা রাশিচক্রের মতো ঘুরছে। আপনারা (গ্রিস) ভুল কাজ করছেন। এই পথ থেকে সরে আসুন। প্রয়োজনের সময় আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না। তুরস্ক বিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয় এবং সেটা বাস্তবায়ন করে। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’ তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবেদার আরব শাসকরা তাদের গোপন মুখোশ উন্মোচন করেছে মাত্র: হিজবুল্লাহ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে আরব দেশ বাহরাইন। দেশটির এ পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ বলেছে, বাহরাইন সরকার এ কাজ করে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে। খবর রয়টার্সের।

গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়াসহ এই অবৈধ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে সিদ্ধান্ত বাহরাইন নিয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে বাহরাইনের একনায়কতান্ত্রিক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আরবের তাবেদার শাসকরা এতদিন ইসরায়েলের সঙ্গে গোপনে যে সম্পর্ক রেখে চলছিল তা এখন প্রকাশ করে দিয়েছে মাত্র। কিন্তু কোনো যুক্তি দিয়েই মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা জবরদখলকারী ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়।

গত ১৩ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাহরাইনও একই ধরনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ গতমাসে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি জাতিকে পেছন দিকে ছুরি মেরেছে।

কিন্তু কোনও যুক্তি দিয়েই মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা জবরদখলকারী ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় বলে হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: পার্সটুডে

আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা চায় তালেবান

প্রায় দুই দশকের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারানোর পরে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে ‘শান্তি’ আলোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল শনিবার দোহার একটি হোটেলে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের জাতীয় পুনর্মিলনী পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ, তালেবানের উপনেতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে হাত মেলাই এবং সততার সাথে কাজ করি, তাহলে দেশে চলমান দুর্দশার অবসান হবে।’ তিনি ‘মানবিক’ কারণে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

তালেবানের উপনেতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার বলেন, ‘আমার দলের পক্ষ থেকে আমি আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা চাই আফগানিস্তান একটি স্বাধীন ও উন্নত দেশ হোক এবং এতে ইসলামিক ব্যবস্থা কায়েম হোক, যেখানে এর সব নাগরিক নিজেদের আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। সেটা ঠিক করতে হবে খোলা মন নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যম্যই।’ তিনি বলেন, দুই পক্ষকেই একে অপরারের কথা বুঝতে হবে। দুই পক্ষকেই নিপুণভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুরো বিশ্ব আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আপনাদের সফলতা দেখতে চায়।

উদ্বোধনী ভাষণে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল থানি বলেন, ‘দুই পক্ষকেই বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। কাউকে এককভাবে বিজয়ী হওয়ার মনোভাব ত্যাগ করতে হবে।’ গত মার্চেই আন্তঃআফগান আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তির অংশ হিসাবে বন্দিবিনিময়ে মতভেদ ঘটায় তা বিলম্বিত হয়েছিল। চুক্তিতে তালেবান এক হাজার আফগান সেনা মুক্তি দিতে রাজি হয়েছিল। আর আফগান সরকার বলেছিল তারা ৫০ হাজার তালেবান বন্দীকে মুক্তি দেবে।

তবে আফগানিস্তানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ বলেছেন, আলোচনার ফলে দেশে যুদ্ধের সমাপ্তির আশা বাড়লেও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

আলোচনার টেবিলে পাঁচজন মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন, যারা আলোচনার সময় নারীর অধিকার রক্ষার এবং সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। আফগান সরকার বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সমর্থন করে; কিন্তু তালেবান ইসলামী শাসনব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা চায়। আলজাজিরা

মার্কিন শাসক গোষ্ঠী জানেই না মানবাধিকার কী জিনিস: রুহানি

মার্কিন শাসক গোষ্ঠী মানবাধিকার কী জিনিস তা জানেই না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। আজ শনিবার নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গঠিত দেশটির জাতীয় টাস্ক ফোর্সের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

হাসান রুহানি বলেন, চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের ওপর ওষুধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং এ সংকট মোকাবেলায় ইরান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ওষুধ ও করোনার টিকা কেনার জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাইলে এর বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার। যার কারণে তেহরানকে এ ঋণ দেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংগুলোতে ইরানের অর্থ রয়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের কারণে সেসব দেশ তাদের অর্থ ছাড়ের অনুমতি দিচ্ছে না। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিক অপরাধের দৃষ্টান্ত আর নেই। মার্কিন শাসক গোষ্ঠী জানেই না মানবাধিকার কী জিনিস।

মার্কিন সরকারের এমন অমানবিকতার পরও ইরান সফলতার সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, করোনা মোকাবেলায় তেহরানের দক্ষতা ও সাফল্য দেখেও শত্রুরা ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে

আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে হলেও ফিলিস্তিনীদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে: আন্তর্জাতিক উলামা ইউনিয়ন

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে দেওয়া বাহরাইনের চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের উলামায়ে কেরামের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলারস (আইইউএমএস)।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আইইউএমএস এর সেক্রেটারি জেনারেল আলি আল-কারযাভী তার টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বাহরাইন- ইসরাইল চুক্তিকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনও ব্যক্তি কীভাবে আমাদের আল-আকসা মসজিদ, এই বরকতময় ভূমিতে ফিলিস্তিনী জনগণ তথা সমস্ত মুসলমানের অধিকারকে ক্ষুন্ন করে অন্যকে স্বীকৃতি দিতে পারে!

অন্য একটি টুইটে আল-কারাদাঘী বলেছেন ইসরাইলের সাথে বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি আসন্ন চুক্তির প্রস্তাবনা।

উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেয় বাহরাইন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে এক টুইটার বার্তায় জানান, বাহরাইন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমেরিকা,

ইহুদিবাদী ইসরাইল ও বাহরাইন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইনের রাজতান্ত্রিক সরকার ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্মত হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি