তুরস্ক নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে: এরদোগান

গ্রিসসহ ইউরোপের দেশগুলোকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান আবারও স্মরণ করিয়ের দিয়েছেন বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। তুরস্ক বিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয় এবং সেটা বাস্তবায়ন করে। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তৈরি দ্বন্দ্বে গ্রিসের পক্ষ নিয়েছে ফ্রান্সসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বেশ কিছু দেশ। বৃহস্পতিবার ইইউ’র সভায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন তুরস্কের বিরুদ্ধে আরো শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহব্বান জানান ইইউভুক্ত দেশগুলোকে। সেখানে তিনি তুরস্কের নানান কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন।

তার জবাবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ‘আপনার (ম্যাক্রন) ইতিহাস সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই। এমনকী আপনি ফ্রান্সের ইতিহাসও ভালো করে জানেন না। সুতরাং আমাদের উদ্দেশ্যে মানবতার লেকচার দিতে আসবেন না। আলজেরিয়ায় কারা ১০ লক্ষ মানুষ মেরেছিল? রুয়ান্ডায় কারা ৮ লাখ মানুষকে খুন করেছিল? তুরস্ক ও তুরস্কের মানুষের সঙ্গে লাগতে আসবেন না।’

ম্যাক্রন বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই তুরস্কের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। তবে তুরস্কের মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তারা এরদোগান সরকারের চেয়ে ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য। তুরস্ক এখন থেকে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের অংশীদার নয়।’

তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গ্রিসকে সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। গ্রিসকে এ বিষয়ে সাবধান করে দিয়ে এরদোগান শনিবার বলেছেন, ‘গ্রিস তাদেরকে বিশ্বাস করছে যারা সহায়তা করার আশ্বাস দিচ্ছে।

তারা যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে দ্বীপের চারপাশে ঘুরছে। তারা রাশিচক্রের মতো ঘুরছে। আপনারা (গ্রিস) ভুল কাজ করছেন। এই পথ থেকে সরে আসুন। প্রয়োজনের সময় আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না। তুরস্ক বিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয় এবং সেটা বাস্তবায়ন করে। যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’ তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবেদার আরব শাসকরা তাদের গোপন মুখোশ উন্মোচন করেছে মাত্র: হিজবুল্লাহ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে আরব দেশ বাহরাইন। দেশটির এ পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ বলেছে, বাহরাইন সরকার এ কাজ করে ফিলিস্তিনি জাতির প্রতি ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে। খবর রয়টার্সের।

গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়াসহ এই অবৈধ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে সিদ্ধান্ত বাহরাইন নিয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে বাহরাইনের একনায়কতান্ত্রিক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আরবের তাবেদার শাসকরা এতদিন ইসরায়েলের সঙ্গে গোপনে যে সম্পর্ক রেখে চলছিল তা এখন প্রকাশ করে দিয়েছে মাত্র। কিন্তু কোনো যুক্তি দিয়েই মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা জবরদখলকারী ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়।

গত ১৩ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাহরাইনও একই ধরনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ গতমাসে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি জাতিকে পেছন দিকে ছুরি মেরেছে।

কিন্তু কোনও যুক্তি দিয়েই মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা জবরদখলকারী ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় বলে হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: পার্সটুডে

আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা চায় তালেবান

প্রায় দুই দশকের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারানোর পরে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে ‘শান্তি’ আলোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল শনিবার দোহার একটি হোটেলে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের জাতীয় পুনর্মিলনী পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ, তালেবানের উপনেতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে হাত মেলাই এবং সততার সাথে কাজ করি, তাহলে দেশে চলমান দুর্দশার অবসান হবে।’ তিনি ‘মানবিক’ কারণে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

তালেবানের উপনেতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার বলেন, ‘আমার দলের পক্ষ থেকে আমি আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা চাই আফগানিস্তান একটি স্বাধীন ও উন্নত দেশ হোক এবং এতে ইসলামিক ব্যবস্থা কায়েম হোক, যেখানে এর সব নাগরিক নিজেদের আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। সেটা ঠিক করতে হবে খোলা মন নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যম্যই।’ তিনি বলেন, দুই পক্ষকেই একে অপরারের কথা বুঝতে হবে। দুই পক্ষকেই নিপুণভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুরো বিশ্ব আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আপনাদের সফলতা দেখতে চায়।

উদ্বোধনী ভাষণে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল থানি বলেন, ‘দুই পক্ষকেই বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। কাউকে এককভাবে বিজয়ী হওয়ার মনোভাব ত্যাগ করতে হবে।’ গত মার্চেই আন্তঃআফগান আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তির অংশ হিসাবে বন্দিবিনিময়ে মতভেদ ঘটায় তা বিলম্বিত হয়েছিল। চুক্তিতে তালেবান এক হাজার আফগান সেনা মুক্তি দিতে রাজি হয়েছিল। আর আফগান সরকার বলেছিল তারা ৫০ হাজার তালেবান বন্দীকে মুক্তি দেবে।

তবে আফগানিস্তানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ বলেছেন, আলোচনার ফলে দেশে যুদ্ধের সমাপ্তির আশা বাড়লেও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

আলোচনার টেবিলে পাঁচজন মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন, যারা আলোচনার সময় নারীর অধিকার রক্ষার এবং সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। আফগান সরকার বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সমর্থন করে; কিন্তু তালেবান ইসলামী শাসনব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা চায়। আলজাজিরা

মার্কিন শাসক গোষ্ঠী জানেই না মানবাধিকার কী জিনিস: রুহানি

মার্কিন শাসক গোষ্ঠী মানবাধিকার কী জিনিস তা জানেই না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। আজ শনিবার নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গঠিত দেশটির জাতীয় টাস্ক ফোর্সের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

হাসান রুহানি বলেন, চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের ওপর ওষুধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং এ সংকট মোকাবেলায় ইরান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ওষুধ ও করোনার টিকা কেনার জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাইলে এর বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার। যার কারণে তেহরানকে এ ঋণ দেওয়া হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংগুলোতে ইরানের অর্থ রয়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের কারণে সেসব দেশ তাদের অর্থ ছাড়ের অনুমতি দিচ্ছে না। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিক অপরাধের দৃষ্টান্ত আর নেই। মার্কিন শাসক গোষ্ঠী জানেই না মানবাধিকার কী জিনিস।

মার্কিন সরকারের এমন অমানবিকতার পরও ইরান সফলতার সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, করোনা মোকাবেলায় তেহরানের দক্ষতা ও সাফল্য দেখেও শত্রুরা ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে

আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে হলেও ফিলিস্তিনীদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে: আন্তর্জাতিক উলামা ইউনিয়ন

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে দেওয়া বাহরাইনের চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের উলামায়ে কেরামের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলারস (আইইউএমএস)।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আইইউএমএস এর সেক্রেটারি জেনারেল আলি আল-কারযাভী তার টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে ফিলিস্তিনীদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বাহরাইন- ইসরাইল চুক্তিকে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনও ব্যক্তি কীভাবে আমাদের আল-আকসা মসজিদ, এই বরকতময় ভূমিতে ফিলিস্তিনী জনগণ তথা সমস্ত মুসলমানের অধিকারকে ক্ষুন্ন করে অন্যকে স্বীকৃতি দিতে পারে!

অন্য একটি টুইটে আল-কারাদাঘী বলেছেন ইসরাইলের সাথে বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি আসন্ন চুক্তির প্রস্তাবনা।

উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেয় বাহরাইন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে এক টুইটার বার্তায় জানান, বাহরাইন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমেরিকা,

ইহুদিবাদী ইসরাইল ও বাহরাইন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহরাইনের রাজতান্ত্রিক সরকার ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্মত হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি