তুরস্কে সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৭

তুরস্কের একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর ৭ সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ভেন প্রদেশে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সোইলু বলেন, বিমানটি দুই হাজার ২শ ফুট (৬৭০ মিটার) উচ্চতার একটি পর্বতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই দুর্ঘটনায় বিমানের দুই পাইলটও নিহত হয়েছেন। কী কারণে ওই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বান ফেরিত মেলান বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করেছিল। রাত ১০টা ৩২ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। এর ১৩ মিনিট পর থেকেই বিমানটির সঙ্গে রাডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আরও সংবাদ

আয়াসোফিয়ার ব্যাপারে তুরস্কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া

তুরস্ক কর্তৃক আয়াসোফিয়াকে মসজিদিকরণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক এবং ইসলাম ধর্মীয় দলগুলো।

গেলো শুক্রবার (১০ জুলাই) আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ের পর অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মতো ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলোও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে তুরস্কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। খবর আনাদোলু এজেন্সি

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন নাহদাতাতুল উলামার নির্বাহী কাউন্সিলের প্রধান রবিকিন এমহাস বলেছেন, তুরস্কের আদালতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

আয়াসোফিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে-কোনো দেশের বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। তবে তুরস্কের এই পদক্ষেপ অবশ্যই সম্মান পাওয়ার যোগ্য এবং সবাই এই পদক্ষেপকে সম্মান করা উচিত।

এছাড়া দেশটির প্রাচীনতম মুসলিম সংগঠন ‘মুহাম্মদিয়া’ আয়াসোফিয়ার বিষয়ে তুরস্কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সংস্থাটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক সচিব ওয়াহিদ রিদওয়ান বলেন, আয়াসোফিয়াকে মসজিদ হিসাবে পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে তুর্কি সরকার এবং জনগণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মুসলিম প্রধান স্বাধীন দেশটি তাদের ঐতিহাসিক স্থাপনাটির বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন,আইনি ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে সম্পন্ন করেছে।সুতরাং এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া এই সিদ্ধান্তটি শীর্ষ আদালতে জবাবদিহিতার চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করে এসেছে।

এছাড়াও ওয়াহিদ রিদওয়ান বলেন, ধর্মের সমন্বয়ে গড়া বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও সহিষ্ণুতার এক উৎকৃষ্ট চিত্র এই পদক্ষেপে সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করে চাপ প্রয়োগ করার কোনো মানে হয় না। কারণ তুরস্ক সমস্ত ধর্মের দর্শনার্থীদের জন্য এই ঐতিহাসিক স্থাপনা উন্মুক্ত রাখবে। চাপ প্রয়োগে সরকার ও তুরস্কের মানুষের অবস্থান বদলাবে না। পশ্চিমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে ইসলাম সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই সংকীর্ণ।

এছাড়াও প্রোস্পারাস জাস্টিস পার্টির সংসদ সদস্য সুরাহম্যান হিদায়াত বলেছেন, সিদ্ধান্তটি তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার। সকলেরই উচিত এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

তিনি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, প্রত্যেকের উচিত তুরস্কের আইনি ব্যবস্থা, কর্তৃত্ব, অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব এবং জাতির দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান করা। সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ (২য়) এটি বিজয় করে জাতির সামনে মসজিদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। মসজিদে রূপান্তরের অর্থ হচ্ছে এটা প্রতিদিনই মুসলিম-অমুসলিম সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সকল দর্শনার্থী প্রতিদিনই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন।

ইন্দোনেশিয়ার ইউনাইটেড ডেভেলপমেন্ট পার্টির এক দায়িত্বশীল আহমদ বাইদাওয়ী বলেছেন, আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করা হল তুরস্কের সার্বভৌমত্বের অংশ। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে এই ব্যাপারে তুরস্কের নিজস্ব কর্তৃত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, মুক্ত ও সক্রিয় বৈদেশিক নীতি মেনে চলা দেশ হিসাবে ইন্দোনেশিয়া তুরস্কের সিদ্ধান্তকে পরিপূর্ণভাবে সম্মান করে।

বাইদাওয়ী বলেন,এটি আদালতের রায়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। তাছাড়া এটি জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে অন্যকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে নয়। সুতরাং এটি বড় কোনো ইস্যু বা সমস্যা নয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি