তুরস্কে হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করায় এরদোগানকে অভিনন্দন!

তুরস্কের ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করে আযান ও নামায চালু করায় মুসলিম বিশে^র অবিসংবাদিত নেতা প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্ব মুসলিম পরিষদ।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশ্ব মুসলিম পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা একে এম আশরাফুল হক ও মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,

তুরস্কের শতবছরের ঐতিহ্যবাহি হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করে বিশে^র কোটি কোটি মুসলমানের ঈমানী চাহিদা পূরণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। একবিংশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলেছেন তিনি।

হাজিয়া সোফিয়ায় আযানের ধ্বনি নতুন এই শতাব্দীতে ইসলামের নব বিজয়ের অভিযান বলেও মন্তব্য করেন তারা। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলামানের হৃদয়ের মণিকোঠায় আজ প্রেসিডেন্ট এরদোগান স্থান করে নিয়েছেন।

বিবৃতিতে তাকে মুসলিম বিশ্বের নতুন সুলতান হিসেবেও অভিহিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের হারানো বিশ্ব নেতৃত্ব এবং ওসমানী খেলাফত ও সালতানাতের হারানো ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

সেব্রেনিৎসায় মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার ২৫তম বার্ষিকী পালিত

বসনিয়া হার্জেগোভিনার সেব্রেনিৎসায় মুসলমানদের ওপর বর্বর সার্ব বাহিনীর ভয়াবহ গণহত্যার ২৫তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ (শনিবার) সেব্রেনিৎসার পোটোচারি কবরস্থান ও সেব্রেনিৎসা মেমোরিয়াল সেন্টারে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে দেশটির রাজনৈতিক,

সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, জাতিসংঘ প্রতিনিধিসহ নিহতদের পরিবারবর্গসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

দিনটি উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এক বলেছেন, “সেব্রেনিৎসা গণহত্যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে নৃশংসতম অপরাধ।”

১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই সার্বীয় বাহিনী বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সেব্রেনিৎসা এলাকা দখল করে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও এবং জাতিসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতিতেই সেব্রেনিৎসায় চালানো হয় নারকীয় গণহত্যা ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান।

সেব্রেনিৎসা দখলের প্রথমদিন থেকেই সার্বীয় বাহিনী স্থানীয় বসনীয় জনগোষ্ঠীর সকল পুরুষকে আলাদা করে নেয়। পরে তাদেরকে গণহারে হত্যা করে। ১১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সেব্রেনিৎসার কোথাও না কোথাও এই গণহারে হত্যার ঘটনা ঘটেতে থাকে।

হত্যার শিকার ব্যক্তিদেরকে মৃত্যুর আগে নিজেদের কবর খনন করতে সার্বীয় বাহিনী বাধ্য করে। সার্ব বাহিনী সেখানে জাতিসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের সামনেই ৮ হাজার ৩৭২ জন বসনিয় মুসলমানকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়। এই গণহত্যা চলার সময় জাতিসংঘ নীরবতা পালন করলেও পরে একে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ বলে স্বীকৃতি দেয়।

বসনিয়া ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে সাবেক ইউগোস্লাভিয়া থেকে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। আর ওই স্বাধীনতা বানচাল করতেই সার্বরা বসনিয়ার মুসলমানদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়ায় সার্ব বাহিনীর হামলায় দুই লাখের বেশি বসনিয় মুসলমান নিহত ও প্রায় বিশ লাখ শরণার্থী হয়। তবে সেব্রেনিৎসার গণহত্যাকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে নৃশংস ও ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করা হয়। সূত্র: পার্সটুডে

বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৃদ্ধির আগ্রহ ভারতের

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা দিয়েছে চীন। এরইপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে আরেকটু কাছে টানার চেষ্টা করছে ভারতও।

এদিকে, পাকিস্তানও ‌এ সময় বাংলাদেশের সাথেও সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী গত ১ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনের সাথে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাতকালে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে মত বিনিময় করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, সম্প্রতি চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনার প্রক্ষাপটে চীন চাইছে বাংলাদেশ তাদের পক্ষে থাকুক। গত মাসে চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাতের পরদিনই চীন বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য আমদানির ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ১ জুলাই থেকে এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

চীনের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একে বড় একটি ‘কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এর ফলে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে। দুই দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

চীনের এই সিদ্ধান্ত যেহেতু ভারতের সঙ্গে দেশটির সামরিক বিবাদের সময়ই এসেছে, সেহেতু রাজনৈতিত পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটি চীনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একে আখ্যা দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশকে জিতে নেয়ার প্রচেষ্টা’ হিসেবে। তবে এ নিয়ে ভারতের উষ্মাও বাংলাদেশেরর জনগণকে আহত করেছে।

এ প্রেক্ষিতে ভারতও বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে।

একইসঙ্গে বাংলাদেশকে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহণের সুবিধা দিতে চায় ভারত। এরফলে আভ্যন্তরীণ নৌরুট ও বন্দরগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহণে যথেষ্ট সুবিধা নিশ্চিত হবে।

ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই ১৯৬৫ সালের পূর্বেকার রেল লাইন পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর গত বুধবার বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এক বার্তায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন একটা সূযোগ এসেছে তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর করার।

বাংলাদেশকে কোন একটি দেশের উপর অধিক নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সকলের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হলে আঞ্চলিক প্রভাব বলয়ে একটা ভারসাম্য আসবে।

এর আগে, চীন বাংলাদেশকে ৩০০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। অপরদিকে ভারত এখন পর্যন্ত ১০০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে।

অপরদিকে, পাকিস্তানের সাথে ভারতের রয়েছে টানা বৈরিতার সম্পর্ক। আর চীনের সাথে রয়েছে তার সব ঋতুর ঘনিষ্ঠতা (অল ওয়েদার ফ্রেন্ডশিপ)।

এরকম অবস্থায় পাকিস্তান এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। উভয় দেশের বেসরকারি খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াবার লক্ষ্য নিয়ে দু’দেশই একত্রে কাজ করতে পারে বলেও আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, ভ্রাতৃপ্রতীম বাংলাদেশের সাথে সকল ক্ষেত্রেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চায় পাকিস্তান। কারণ দু’দেশের রয়েছে একটি অভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। সূত্র: পার্সটুডে

আফগান ফেরত মার্কিন সৈন্যের আত্মহত্যা

আফগানিস্তানে মোতায়েন আরো একজন মার্কিন সেনা সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। ছয়বার আফগানিস্তানে মোতায়েন এবং বিদেশে যুদ্ধ মিশনে ছয়বার পাঠানোর পর অনেকটা মানসিক অবসাদ থেকে তিনি এই আত্মহত্যা করেছেন।

আফগান ও ইরাক যুদ্ধের ঘটনায় একের পর এক মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কারণে মার্কিন সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এ সেনা আত্মহত্যা করলেন।

মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজ জানিয়েছে, মাস্টার সার্জেন্ট অ্যান্ড্রূ ক্রিশ্চিয়ান মার্কেসানো সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরেছিলেন এবং তিনি পেন্টাগনে চাকরি শুরু করবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু তিনি ৬ জুলাই নিজের স্ত্রীর সামনে আত্মহত্যা করেন।

আ্যন্ড্রূ ক্রিশ্চিয়ানের তিন সন্তান রয়েছে এবং তিনি অ্যাক্টিভ সোলজার হিসেবে মার্কিন বাহিনীতে ছিলেন।

অ্যান্ড্রু ক্রিশ্চিয়ানের কয়েকজন বন্ধু এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন বলছেন, ২০০৯ সালে আফগানিস্তানের আরগান্দাব উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধে বহু মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে আ্যন্ড্রু পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন।

জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে ২০ জন মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করে থাকেন এবং দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।

সূত্র : পার্সটুডে