অর্থনীতিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আসছে তুরস্ক: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সত্ত্বেও তুরস্কের দেশীয় অর্থনীতি খুব দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশের তালিকায় তুরস্ক অন্তর্ভূক্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। -ডেইলি পাকিস্তান

‘পারস্য ব্যারেজ’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এরদোগান বলেন, করোনা সত্ত্বেও চলতি বছরের শুরু থেকেই তুরস্কে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৪ শতাংশ। পরবর্তী সময়েও এটি বাড়তে থাকবে। আমরা শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে যাচ্ছি।

লক্ষের খুবই কাছাকাছি পৌঁছেছি আমরা। এরদোগান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আবারও ৯৩ বিলিয়ন ডলারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই চূড়ান্ত লক্ষে পৌঁছতে তার দেশের জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে ।

এরদোগান আরও বলেন, যখন তার সরকার ক্ষমতায় এসেছেছিলো তখন দেশে ২৭৬ ব্যারেজ ছিলো। কিন্তু আজ আমি উদ্বোধন করছি ৫৮৫ ব্যারেজ। আমরা শহরগুলোতে ব্যারেজ, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানীয় সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছি।

দিল্লিতে করোনায় মৃত্যুবরণকারি হিন্দুদের লাশ পোড়ানোর দ্বায়িত্ব নিলেন মুসলিম যুবক

করোনা মহামারিতে ক্ষুধা থেকে বাঁচতে নয়াদিল্লিতে হিন্দুদের লাশ পোড়ানোর কাজ নিয়েছে এক মুসলিম যুবক। সে এখন তাদের রীতিমত ভরসা হয়ে উঠেছে ।নাম চাঁদ মুহাম্মদ, সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

তার ইচ্ছে ডাক্তার হবার। কিন্তু কোভিড-১৯ ও লকডাউন তাকে নিয়ে গেছে অন্য পথে। শেষকৃত্য করার জন্য এখন মানুষের অভাব। তাই হিন্দুদের লাশ পোড়াতে এখন ভরসা হয়ে উঠেছে চাঁদ মুহাম্মদ। ভাইদের স্কুল ফিস ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে কোভিড-১৯’এ মৃতদের দেহ দাহ করার কাজ নিয়েছে চাঁদ মুহাম্মাদ।

অ্যাম্বুলেন্সে লাশ ওঠানো থেকে শুরু করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া ও স্ট্রেচারে করে আগুনের চুল্লিতে পৌঁছে দেওয়া, সব কাজই তাকে করতে হয়। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তবু দাহের কাজ করে সে।

চাঁদ মুহাম্মদের মায়ের থাইরয়েড ডিজঅর্ডার। দ্রুত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু পরিবারের কাছে অর্থ নেই। চাঁদের বড়ভাই লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন। প্রতিবেশীদের সাহায্য ও চাঁদের ভাইয়ের সামান্য পার্ট টাইম ইনকাম দিয়েই জীবনধারণ করছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলমপুরের এই পরিবারটি ।

এক সপ্তাহ আগে চাঁদ একটি কোম্পানিতে যোগ দেয়। তারা তাকে লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে ঝাড়ুদারের কাজে নিযুক্ত করে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেহ তাকে নাড়াচাড়া করতে হত। কাজ চলত দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা।

তিনি জানান, আমার কোনও উপায় না থাকায় আমি কাজটা নিতে বাধ্য হই। এটি খুব বিপজ্জনক কাজ ছিল। কোভিড – ১৯’এ আক্রান্ত হবার হাই রিস্ক ছিল। কিন্তু আমার খুব দরকার ছিল একটা কাজের।

বাড়িতে তিন বোন, দুই ভাই, বাবা-মা। মায়ের চিকিৎসার খরচ। সবমিলিয়ে না নিয়ে উপায় ছিল না। চাঁদ মুহাম্মদের জীবন কাটছে দুঃখের সাগরে। এখন প্রতিবেশীদের সাহায্যে হয়তো কোনও রকমে কেটে যাচ্ছে। কিন্তু কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা সংগঠনের বড় সাহায্য না পেলে তার ডাক্তার হবার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে।

চাঁদ মুহাম্মদ জানায় , বহুদিন আমাদের বাড়িতে একবেলা খাবার রান্না হয়। আমরা হয়তো ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকব। কিন্তু ক্ষুধাকে হয়তো পরাজিত করতে পারব না। চাঁদ এখনও স্কুল ফিজ দিতে পারেনি।

পড়ার জন্য ওর পয়সা চায় , এমনটাই জানাল। কাজে যাবার আগে নামায পড়ে বের হয় মুহাম্মদ। সর্বশক্তিমানের উপর বিশ্বাস রেখেছে সে। একদিন নিশ্চয়ই সৌভাগ্যের দেখা মিলবে। ঘুঁচে যাবে তাদের দুঃখ। সূত্র : পুবের কলম