তুরস্কে করোনায় দেড় লাখের বেশি সুস্থ!

সারাবিশ্ব যখন করোনায় বিপর্যস্ত তখন করোনা পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে তুরস্ক সরকার। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সোমবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৯৪৭ জন করোনারোগী সুস্থ হচ্ছেন। দেশটিতে এখন সর্বমোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা এক লাখ ৫২ হাজারের বেশি।

বর্তমানে কোভিড-১৯ থেকে এক লাখ ৫২ হাজার ৩৬৪ জন সুস্থ হয়েছে আর ৭২২ জন সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে চিকিৎসক ফাহেরেটিন কোকা টুইটার বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নীতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে এর প্রকোপ তীব্র হয়ে থাকে। গতকালের তুলনায়, আজকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই মহামারিতে তুরস্কে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৮২৫ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় ১৮ জনের নতুন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কে গত সাত দিন ধরে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটা কমেছে। এখন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০ জনের কম। আর তুরস্কে কোভিড-১৯’এ মোট আক্রান্ত এক লাখ ৭৯ হাজার ৮৩১ জন ও নতুন আক্রান্ত এক হাজার ৬০০ জন।

সূত্র: ইয়েনি শাফাক

ভারত একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে পরিণতি খারাপ হবে: হুঁশিয়ারি চীনের

লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর সীমান্ত সঙ্ঘাত নিয়ে আলোচনার টেবলে বসেছিল ভারত ও চিনের সেনা। কিন্তু তার মাঝে আচমকাই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেওয়ায়, ঘটনার দায় ভারতের উপরেই চাপাচ্ছে চিন।

ঘটনার পর, মঙ্গলবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘‘ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত পেরিয়েছিল এবং চিনা সেনার উপর প্ররোচনামূলক ভাবে হামলা চালিয়েছিল।’’ বেজিংয়ের মতে, ‘‘ভারতীয় সেনার ওই পদক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ করে চিন।’’

একইসঙ্গে ওই কাণ্ডের পর নয়াদিল্লি যেন ‘একতরফা ভাবে’ কোনও পদক্ষেপ না করে সেই হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বেজিংয়ের তরফে। সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা যখন প্রশমনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই উত্তেজনা পারদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল।

দু’দেশের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সীমান্তে এমন ঘটনা শেষ বার দেখা গিয়েছে ১৯৭৫ সালে, অরুণাচল প্রদেশে। ৪৫ বছর পর সীমান্তে এমন হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে কার্যত অস্বস্তিতে চিন।

তাই ঘটনার পর পরই দায় ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বেজিং। চিনা বিদেশমন্ত্রকের তরফে যে বিবৃতি জারি করা হয়েছে তাতে ভারতীয় সেনার ঘাড়েই ওই ঘটনার যাবতীয় দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলছে, ‘‘সোমবার গলওয়ান উপত্যকায় চিন ও ভারতীয় সেনার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’’ এ-ও বলা হয়েছে, ‘‘ভারতীয় সেনা সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল এবং চিনা বাহিনীর উপর প্ররোচনামূলক আক্রমণ চালায়।’’

বেজিংয়ের মতে, ভারতীয় বাহিনীর পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেছে চিনা বাহিনী। সোমবার দু’পক্ষের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছিল। তার পরেই এই সংঘর্ষ। এ দিন দুপুরে ভারতীয় সেনার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গলওয়ান উপত্যকায় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলাকালীনই গতকাল রাতে হঠাৎ সংঘর্ষ বাধে।

তাতেই ভারতীয় সেনার এক অফিসার এবং দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।’’ সংঘর্ষের হতাহত হয়েছে চিনা সেনাও। গ্লোবাল টাইমসের তরফে টুইটে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে ৫ চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন আহত হয়েছে।

চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান বলছেন, সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমন করতে দু’পক্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চালাচ্ছিল। কিন্তু এ দিনের সংঘর্ষের দায় ভারতীয় সেনার ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সেইসঙ্গে নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ারির দিয়েই ঝাউ বলেন, ভারতীয় বাহিনী যেন সংযত থাকে। ঝাওয়ের মতে, ‘‘ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত পেরোলে বা একতরফা ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সীমান্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।’’

চিনা বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমেই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর সমাধান এবং সীমান্তে শান্তি রক্ষার রাজি হয়েছে দুই দেশই। সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে করোনা!

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে করোনা ভাইরাসের পরিস্থতি ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’। মঙ্গলবার দেশটির এক কর্মকর্তা এ মন্তব্য করেছেন। নতুন করে দেশটিতে আরও ২৭ জনের করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এনিয়ে দেশটিতে টানা পাঁচ দিনে ১০৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দেশটিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বেইজিং শহরের মুখপাত্র শিউ হেইজিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে সর্তক করে বলেছেন, রাজধানীতে মহামারির পরিস্থতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

এছাড়া যারা এই মুহূর্তে বেইজিং ত্যাগ করেছেন তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে বলেন এই কর্মকর্তা। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন করে সকল করোনা সংক্রমণ শহরটির শিনফাদি খুচরা খাবারের বাজার থেকে ছড়িয়েছে।

ইতোমধ্যে ওই বাজারের ৮ হাজারের বেশি কর্মীর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের আইসোলশনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০ টি সম্প্রদায়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর সকল ধরণের ইনডোর স্পোর্টস এবং বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে চীনে নতুন সংক্রমণ শুরুর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে করোনার নতুন করে প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে বিজ্ঞানীদের এ নিয়ে তদন্ত বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা উচিত। এনডিটিভি

করোনার টেস্ট বন্ধ করলেই সংক্রমণ কমে যাবে: ট্রাম্প

কোভিড-১৯ সংক্রমণ কমার উপায় নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব না দিয়ে বিতর্কিত হওয়া এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা বেশি হচ্ছে বলেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। টেস্ট বন্ধ করে দিলে এমনিতেই সংক্রমণ কমে যাবে। খবর সিএসএনের।

সোমবার প্রবীণ নাগরিকদের সহযোগিতাবিষয়ক এক সভায় এ কথা বলেন তিনি। এর আগে করোনাভাইরাস রোধে শরীরে জীবাণুনাশক ইনজেকশন নেয়ার পরামর্শ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি আপনি পরীক্ষা করা বন্ধ করে দেন, তা হলে কোনো করোনা রোগীই পাবেন না। যদি আমরা এ মুহূর্তে করোনা টেস্ট করা বন্ধ করে দিই, তা হলে আমরা খুব কমই করোনা রোগী পাব।

করোনাভাইরাস নিয়েও একেক সময়ে একেক কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে তিনি বলেছেন– সারা বিশ্বের মধ্যে আমেরিকায় বেশি করে টেস্টিং হচ্ছে। এ কারণেই অন্য দেশের চেয়ে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশি।

জাতিসংঘ যেখানে করোনা প্রতিরোধে বেশি করে পরীক্ষার ওপর জোর দিতে বলছে, সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টো পথে হাঁটার কথা বলছেন।

১৫ জুন সকালে এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘অন্য দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টেস্টিং ব্যাপক আকারে এবং উন্নত পদ্ধতিতে হচ্ছে। এ কারণেই অনেক বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। টেস্টিং না হলে বা দুর্বল পদ্ধতিতে টেস্টিং হলে দেখা যেত, এই দেশে করোনা সংক্রমিত কোনো রোগীই নেই।’

তিনি টুইটে আরও লেখেন, করোনার টেস্টিং হলো দুদিকে ধার দেয়া তরবারি— এটি আমাদের খারাপ অবস্থাকে প্রকাশ্য করছে। অন্যদিকে এটি একটি ভালো কাজ।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। আগে যেখানে রোজ হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে, এখন মৃত্যু কমে শয়ে নেমে এসেছে। এ কারণে হোয়াইট হাউসের কাছে করোনাভাইরাসের বিষয়টি এখন আর তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না।

হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স এ নিয়ে কোনো সংবাদ সম্মেলনও এখন আর করছে না। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনাশা করোনায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আরকানসাস, টেক্সাস, অ্যারিজোনা,

অ্যালাবামা, ওকলাহোমা, ফ্লোরিডাসহ অন্তত ২০ রাজ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব বিবেচনা না করে সব কিছু স্বাভাবিক আছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুরেই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নাটকীয়ভাবে বেশি করে টেস্টিং করা হচ্ছে বলে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। সু্ত্র: সিএনএন

লাদাখে ফের চিন-ভারত সংঘর্ষ, ১ কর্নেলসহ ৩ ভারতীয় সেনা নিহত

লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও চিন সেনার সঙ্ঘাত এবার গড়াল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সোমবার রাতে গলওয়ান উপত্যাকায় চিন সেনার হামলায় ভারতীয় সেনার এক কর্নেল এবং দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। গতকালই দু’পক্ষের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছিল। তার পরেই এই হামলা।

ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গলওয়ান উপত্যকায় উত্তেজনা প্রশমন প্রক্রিয়ার চলাকালীনই গতকাল রাতে সংঘর্ষ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সেনার এক অফিসার এবং দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। দু’পক্ষের উঁচুতলার অফিসারেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠক করছেন।’’

সেনা সূত্রের খবর, কিছুক্ষণ পরেই সাংবাদিক বৈঠকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হবে। ১৯৭৫ সালের পরে এই প্রথমবার চিনা ফৌজের হামলায় ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

করোনায় মারা গেলেন ইলহান ওমরের বাবা নুর ওমর

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমরের বাবা নুর ওমর মোহাম্মদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাতে মারা গেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে। এক বিবৃতিতে ওমর বলেন, বাবা আমার কাছে ও যারা তাকে চেনেন, তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, কোনো ভাষা দিয়েই তা বর্ণনা করা সম্ভব না।

তবে মৃত্যুর সময় তার বাবার বয়স কত কিংবা আগে থেকেই কোনো রোগে ভুগছিলেন কিনা; এমন কোনো তথ্য দেননি তিনি।

ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৬৭ বছর বয়সী নুর ওমর মোহাম্মদ মিনিয়াপোলিসের হেন্নিপিন চিকিৎসা কেন্দ্রে আট দিন কোমায় থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত দুই মুসলমান নারী সদস্যদের একজন এই সোমালীয় বংশোদ্ভূত ইলহান।

মহামারীর মধ্যে নাগরিকদের বাসা ভাড়া ও বন্ধকী অর্থ মওকুফের দাবিতে সরব রয়েছেন তিনি।

করোনায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মহামারী শুরু হওয়ার পর পরীক্ষা বাড়ানো হচ্ছে সেখানে।

আক্রান্তের সংখ্যায় এখন পর্যন্ত বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের খবর অনুসারে, দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের করোনা সংক্রমণ হয়েছে। যা মোট আক্রান্তের ২৫ শতাংশ হবে।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকায়ও দ্রুত মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে। মোট আক্রান্তের ২১ শতাংশই এই অঞ্চলটিতে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় হটস্পটে রূপ নিয়েছে ব্রাজিল। জানুয়ারির শুরুতে চীনে প্রথম এই ভাইরাসটির প্রকোপ দেখা দিয়েছিল।

‘ভারতে ঢুকে’ নেপালি পুলিশেরর গোলাগুলি, নিহত ১

নেপালি পুলিশ সম্প্রতি বিহার সীমান্তে প্রবেশ করে গোলাগুলি করলে ভারতীয় একজন নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া একজনকে ধরে নিয়ে যায় সীমান্তে থাকা নেপালিরা। সীমান্তে হতাহতের ওই ঘটনার তিনদিন পর আটক ব্যক্তি আনন্দবাজার পত্রিকাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

যদিও ঘটনাটি উভয় দেশের সীমান্ত নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে ৭৫ মিটার দূরে নেপালি ভূখণ্ডের ভেতর ঘটলেও ভারত এখন দাবি করছে, তাদের এলাকায় ঢুকে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল গ্রামবাসীকে! গুলি চালিয়ে ভারতীয় কৃষককে হত্যা করেছিল।

তারা জানিয়েছেন, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় গুলি চলেছিল সেদিন। ১০-১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে নেপালের বাহিনী। নেপাল পুলিশকে আগে কখনও এমন আচরণ করতে দেখেননি তারা।

তাদের ভাষ্য কাঁটাতারবিহীন লালবন্দি-জানকীনগর সীমান্তে কখনোই কোনো কড়াকড়ি ছিল না। পাসপোর্ট-ভিসার কোনো ঝামেলা না-থাকায় দুদেশের নাগরিকরা অবাধে আসা যাওয়া করেন।

ঘটনার দিন আটক স্থানীয় বাসিন্দা লগনকিশোর তার ছেলে ও পরিবারকে নিয়ে সীমান্ত লাগোয়া নেপালের গ্রামে পুত্রবধূর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সীমান্ত পেরনোর সময় তাকে আটকায় নেপালের পুলিশ।

লগনের দাবি, তর্কাতর্কি শুরু হলে হঠাৎই তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে মারতে মারতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নেপাল সশস্ত্র পুলিশ। লগনের ছেলেকেও মারধর করা হয়। সে সময় কয়েকজন ভারতীয় কৃষক জমিতে কাজ করছিলেন।

তারা ঘটনা দেখে এগিয়ে এলে নেপালি বাহিনী গুলি ছুড়তে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন বিকাশ যাদব। এছাড়া উমেশ রাম, উদয় ঠাকুরসহ তিন কৃষক জখম হন।

লগন বলেন, গুলি চলার সময় আমি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলাম। সে সময় আমাকে আমাকে ভারতের এলাকায় ঢুকে ফের আটক করে নেপাল পুলিশ। সংগ্রামপুর চৌকিতে নিয়ে গিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। জোর করে জবানবন্দি আদায় করে যে, আমি নেপালে ঢুকেছিলাম।

গত শনিবার সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে লগনকে ভারতীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেয় নেপালের পুলিশ। ভারতীয় বাহিনীকে জানানো হয়, অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।

তথ্য: আনন্দবাজার পত্রিকা

গোলান মালভূমিতে ‘ট্রাম্প মালভূমি’ নাম দিয়ে ইসরাইলের ইহুদি বসতি নির্মাণ শুরু

ইসরাইলের বসতি বিষয়ক মন্ত্রী জিপি হোটোভ্যালি গত রোববার বলেছেন, ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় সরকার অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পটিকে হিব্রু ভাষায় ‘রামাত ট্রাম্প’ অর্থাৎ ‘ট্রাম্প মালভূমি’ নামে

জিপি হোটোভ্যালি ফেসবুকে লিখেছেন, তার মন্ত্রণালয় রামাত ট্রাম্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে। অবৈধ এ আবাসন প্রকল্পে ৩০০ পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ইহুদি জনবসতিটি বর্তমানে ব্রুচিম নামে পরিচিত এবং এটি ৩০ বছরেরও বেশি পুরনো। এর জনসংখ্যা মাত্র ১০ জন।

১৯৬৭ সালের জুনে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরীয় ভূখণ্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। সেখান থেকে সিরিয়ান আরব বাসিন্দাদের বেশির ভাগই পালিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে এটি পুনর্দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সিরিয়া।

১৯৮১ সালের ৪ ডিসেম্বর একতরফাভাবে ওই এলাকাকে নিজেদের অংশ ঘোষণা করে ইসরাইল। তবে এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের গ্রহণ করা এক প্রস্তাবে ইসরাইলকে পূর্ব জেরুসালেম ও গোলান মালভূমিসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ বন্ধ করতে বলা হয়।

তবে গত বছরের মার্চে জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অধিকৃত গোলান উপত্যকায় ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ইহুদিবাদী দেশটির সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন সফররত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পাশে রেখেই ওই স্বীকৃতিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই স্বীকৃতির পরপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সিরিয়া। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ বলে উল্লেখ করে দামেস্ক। সিরিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতির প্রতিবাদ করেছে অনেক দেশ।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, এই বসতি উন্নয়নের জন্য ৮০ লাখ শেকেল (২৩ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয় করা হবে। গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল গোলান মালভূমির ‘রামাত ট্রাম্প’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া শুরু করবে। এটি ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব, যার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

সুত্র: আলজাজিরা