তুরস্কে শক্তিশালী ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় বিঙ্গল প্রদেশে রোববার ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে একজন প্রাণ হারিয়েছে। আহত ১৮ জন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

গভর্নরের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কার্লিওভা গ্রামে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ভেঙ্গে পড়ে। এতে এক নিরাপত্তা গার্ড চাপা পড়ে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া আমাদের ওই নিরাপত্তা কর্মীকে বাঁচানো যায়নি।’ উদ্ধারকর্মীরা আরেক গার্ডকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

ভূমিকম্পের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতে এবং স্বরাষ্ট্র ও পরিবেশ মন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভূমিকম্প প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত তুরস্ক। গত জানুয়ারি মাসে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইলাজিংয়ে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ৪০ জনেরও বেশি লোক প্রাণ হারায়। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৮। এএফপি

আমরা ঘুমালে ভাইরাসও ঘুমিয়ে থাকে! আজব যুক্তি পাকিস্তানি এমপির

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে যখন বিশ্বের প্রায় সবাই দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। হন্যে হয়ে খুঁজছে এই ভাইরাসের প্রতিষেধক। ঠিক সেই সময়ে এই মারণ ভাইরাসকে নিয়ে মজার মজার মন্তব্য করছেন অনেক বিশিষ্ট মানুষ।

এবার ‘আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন ভাইরাসও ঘুমিয়ে থাকে, আবার আমরা যখন মারা যাই তখন ভাইরাসও মারা যায়’ বলে আজব এক যুক্তি দিলেন পাকিস্তানের বর্ষীয়ান সাংসদ মাওলানা ফজলুর রহমান।

গত দু’দশক ধরে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের -এর সদস্য থাকা একজন ব্যক্তির ভাইরাস নিয়ে এমন আজব যুক্তির বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই হাসির রোল পড়েছে নেটদুনিয়ায়।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে পাকিস্তানের সাংসদ মাওলানা ফজলুর রহমান বলছেন, ‘মানুষকে বেশিক্ষণ সময় ধরে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তার কারণ, আপনি যত বেশি ঘুমোবেন ততক্ষণ ভাইরাসও ঘুমোবে।

ফলে আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এর মানে আমরা যখন মরে যাব তখন ভাইরাসেরও মৃত্যু হবে।’

সম্প্রতি এই ভিডিওটি টুইটার শেয়ার করেছেন পাকিস্তানের এক সাংবাদিক নালিয়া ইনায়েত। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি ভাইরাসও ঘুমোয়।

যখন আমরা মারা যাই তখন ভাইরাসেরও মৃত্যু হয়। খুব সহজ বিষয়।’

সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আরো পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে ‘ বিজয়’ ঘোষণা করলো ফ্রান্স !

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রথম জোয়ারে তছনছ ফ্রান্স ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দীর্ঘ লকডাউনের পর স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে শুরু করেছে দেশটির জনগণ; যদিও এখনো সংক্রমণ এবং মৃত্যু থামেনি। এরমধ্যেই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘প্রথম বিজয়’ ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। রোববার টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, প্যারিসসহ গোটা ফ্রান্সকে আগামী সোমবার (১৬ জুন) গ্রিন জোনে পরিণত হবে অর্থাৎ সারাদেশে সতর্কতা সর্বনিম্ন করা হবে। এরফলে দেশটিতে ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টগুলো সম্পূর্ণরূপে খুলতে পরবে।

ভাষণে ম্যাক্রো বলেন, এই প্যানডেমিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়নি তবে আমি প্রথম জয়ের জন্য আনন্দিত।

অতিমারি মোকাবেলায় ফ্রান্স এবং ইউরোপকে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্যও কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, আমি চাই আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি সেটা যেনো কাজে লাগাতে পারি।

পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য মতে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ২২০ জন। এরমধ্যে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৪০৭ জন। আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৭২ হাজার ৮৫৯ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ৪০৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

আরও সংবাদ

চীনে নতুন ৪৯ রোগী শনাক্ত, জেলা কর্মকর্তা বহিষ্কার

চীনে নতুন করে ৪৯ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এদের মধ্যে ৩৯ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। স্থানীয় সংক্রমণের মধ্যে রাজধানী বেইজিংয়েই ৩৬ জন এবং হুবেই প্রদেশের ৩ জন।

এদিকে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ব্যর্থ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেংটাই জেলার ডেপুটি হেড ঝৌ ইউকিংকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বেইজিং ডেইলির বরাতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন জানিয়েছে, রাজধানী বেইজিংয়ে নতুন করে বেশি কিছু করোনা রোগী ধরা পড়ার পর এ সিদ্ধান্ত আসে। ফেংটাই জেলার জিনফেডি মার্কেটের কিছু লোকের সংস্পর্শে আসার কারণে তারা সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিনফেডি ফল, সবজি এবং মাংসের বড় বড় মার্কেট।

ঝৌ ছাড়াও জেলার হুয়াসিয়াং শহরের পার্টি সেক্রেটারি ওয়াং হাউ এবং জিনফেডির কৃষি পণ্যের হোলসেল মার্কেটের জেনারেল ম্যানেজার জং ইয়েলিনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত বলছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চীনে ৮৩ হাজার ১৮১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের। নতুন করে ৪৯ জন শনাক্ত হলেও কেউ মারা যাননি।

আরো পড়ুন: ভারতে করোনা রোগীদের সঙ্গে পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে: সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কার !

করোনা রোগীদের সঙ্গে পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে বলে দিল্লি সরকারকে তিরস্কার করেছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি রাজধানীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের শীর্ষ আদালত।

এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। শুক্রবার বিচারপতিরা বলেন, করোনা রোগীদের সঙ্গে পশুর থেকেও খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি ক্ষেত্রে তো, একজন করোনা রোগীর দেহ আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পাওয়া গেছে। একের পর এক রোগী মারা যাচ্ছে কিন্তু কেউই তাদের সামান্যতম সাহায্য করার জন্য নেই।

পাশাপাশি দিল্লিতে কম সংখ্যক করোনা টেস্টের বিষয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ভারতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর নতুন করে ৩৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লি সরকারকে প্রশ্ন করে সুপ্রিম কোর্ট বলে, যখন চেন্নাই ও মুম্বাই করোনা টেস্টের সংখ্যা প্রতিদিন ১৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার করা হচ্ছে তখন কেন আপনার রাজ্যে এই পরীক্ষা দিনে ৭ হাজার থেকে ৫ হাজারে নেমে গেছে? কেন্দ্রের নির্দেশ ঠিকভাবে অনুসরণ না করায় আপ সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

‘দিল্লির পরিস্থিতি শোচনীয়, ভয়ঙ্কর এবং উদ্বেগের। সেখানকার হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতিও অত্যন্ত খারাপ, এমনকী মৃতদেহগুলোকেও ঠিকভাবে রাখা হচ্ছে না। রোগীদের পরিবারকেও মৃত্যুর খবর ঠিকমতো জানানো হচ্ছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো পরিবারও শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেনি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর পরেই করোনা সংক্রমণের হিসাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি। রাজধানীতে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৬৮৭ জন রোগী রয়েছে এবং ১ হাজার ৮৫ জন মারা গেছে।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তার সরকার আশঙ্কা করছেন, দিল্লিতে যেভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তাতে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখে পৌঁছে যাবে। তবে এই মহামারী মোকাবেলায় সবরকমের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তার সরকার, এমন দাবিও করেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী।

‘হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক বেড থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হওয়ার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগীদের ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যে, দিল্লির সরকারি হাসপাতালের বারান্দা এবং ওয়েটিং রুমে লাশ পড়ে রয়েছে। অথচ ওয়ার্ডের ভেতরে বেশিরভাগ বেডই ফাঁকা রয়েছে ।

সুত্র: যুগান্তর

আরো পড়ুন: লকডাউন ভাঙায় তিন বাহিনীর প্রধান বরখাস্ত !

লকডাউন ভাঙার দায়ে দেশের সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানকে রাতারাতি সরিয়ে দিলেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান।

লকডাউন নিয়ে এমন কড়া অবস্থান নিতে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখা যায়নি। এই তিন প্রধানের ভূমিকায় তিনি যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের মধ্যেই পরিষ্কার। তিনি প্রকাশ্যে সে কথা জানিয়েছেনও। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘তিন বাহিনীর শীর্ষ কর্তার কাছ থেকে এই আচরণ কাঙ্ক্ষিত ছিল না।

করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে তাঁরা তিনজনই দেশের জন্য বাজে উদাহরণ তৈরি করেছেন।’ এই করোনাসংকটের মধ্যে সামরিক বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লকডাউন অগ্রাহ্য করে তাঁর