করোনাকালে বিশ্বের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় ইসলামী অর্থনীতি: এরদোগান

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব যেই অর্থনৈতিক সংকটের সাথে মোকাবেলা করছে তা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র ইসলামি অর্থনীতি।

রোববার, ১৪ জুন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইসলামিক অর্থনীতি ও ফিনান্স সম্পর্কিত দ্বাদশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন।

দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি লক্ষ্য রেখে বক্তব্য দেওয়ায় করোনভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক পতনের যে পটভূমি বিশ্বের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে তার মন্তব্য সেটার বিপরীতে হয়েছিল।

এরদোগান ইসলামী বন্ডের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী বড় অবকাঠামোতে বিনিয়োগের অর্থ প্রদানের জন্য সুকুকের মতো পণ্যগুলি ব্যবহার করা উচিত।

তিনি বলেন,বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলে যেসমস্ত বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার বিপরীতে আয় এবং সম্পদের বন্টন ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান দিন দিন আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

এসময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, আর্থিক খাতে শুরু হওয়া প্রতিটি সংকট দ্রুত বাস্তব সেক্টরে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন বেকারদের একটি বিশাল গোষ্ঠী তৈরি করে।

বিভিন্ন সেক্টরে সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের যে তৎপরতা রয়েছে তার অংশ হিসেবে এই বছরের শুরুতে তুর্কী সরকারের ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ‘মুডি’ ঘোষণা দিয়েছে যে তুরস্কের ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদ এক দশকের মধ্যে দ্বিগুণ করতে হবে।

তুরস্ক নিজেদেরকে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ বান্ধব ব্যাংকিং এবং ইসলামিক অর্থায়নের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য,দেশের অর্থনীতিতে বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাব থাকার পরেও তুরস্ক বিশ্বের ১২৫টি দেশে চিকিৎসা সহায়তা প্রেরণ করেছে।

এর প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, নিজ দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা বিশ্বের ১২৫টি দেশে চিকিৎসা সহায়তা প্রেরণ করেছি।

দেশের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধির ৪.৪% অংশকে চিহ্নিত করে এরদোগান এসময় বলেন, তুরস্ক দেখিয়েছে যে তারা কেবল স্বাস্থ্য খাতে নয় বরং অর্থনীতিতেও অন্যান্য দেশ থেকে নিজেকে ইতিবাচকভাবে আলাদা করে উপস্থাপন করতে সক্ষম।

সুন্নি মুসলমানদের রক্ষা করতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন সেনাবহর পাঠিয়েছে তুরস্ক

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাসাকা প্রদেশ নতুন করে সামরিক বহর পাঠিয়েছে তুরস্কের এরদোগান সরকার। সিরিয়ার স্বৈরশাসক, গণহত্যার খলনায়ক বাশার আল আসাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে সুন্নি মুসলমানদের রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে এই নতুন সেনাশক্তি পাঠায় তুরস্ক।

আঙ্কারা দীর্ঘদিন থেকে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে বাস্তুচ্যুত মুসলমানদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ এক রিপোর্টে জানিয়েছে, তুরস্কের সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪০টি গাড়ির একটি বহর কাফ্‌র লুজিন সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে এবং এসব গাড়ি হাসাকা প্রদেশের তুর্কি সামরিক বাহিনীর অবস্থানের দিকে এগিয়ে গেছে।

সূত্র: পার্সটুডে

করোনার বিরুদ্ধে ‘প্রথম বিজয়’ ঘোষণা করলো ফ্রান্স!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রথম জোয়ারে তছনছ ফ্রান্স ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দীর্ঘ লকডাউনের পর স্বাভাবিক জীবনের ফিরতে শুরু করেছে দেশটির জনগণ; যদিও এখনো সংক্রমণ এবং মৃত্যু থামেনি।

এরমধ্যেই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘প্রথম বিজয়’ ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। রোববার টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, প্যারিসসহ গোটা ফ্রান্সকে আগামী সোমবার (১৬ জুন) গ্রিন জোনে পরিণত হবে অর্থাৎ সারাদেশে সতর্কতা সর্বনিম্ন করা হবে। এরফলে দেশটিতে ক্যাফে এবং রেস্টুরেন্টগুলো সম্পূর্ণরূপে খুলতে পরবে।

ভাষণে ম্যাক্রো বলেন, এই প্যানডেমিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হয়নি তবে আমি প্রথম জয়ের জন্য আনন্দিত। অতিমারি মোকাবেলায় ফ্রান্স এবং ইউরোপকে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্যও কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

বলেন, আমি চাই আমরা যে শিক্ষা পেয়েছি সেটা যেনো কাজে লাগাতে পারি। পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য মতে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ২২০ জন।

এরমধ্যে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৪০৭ জন। আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৭২ হাজার ৮৫৯ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ৪০৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

হঠাৎ করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিলো সৌদি আরব

করোনা ভাইরাসের তান্ডবে যখন পুরো বিশ্বই বিদ্ধস্ত। এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা যখন করোনার প্রতিষেধক আবিস্কারের কাজে ব্যস্ত।

ঠিক তখনই করোনা ভাইরাস নিয়ে বড় একটি সুখবর দিয়েছে সৌদি আরব। মদিনার তাইবাহ ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দাবি করেছেন হাদিস অনুসারে কালোজিরা ব্যবহার করে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সম্পূর্ণ সুস্থ করা সম্ভব।

তাদের গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি মার্কিন জার্নাল ‘পাবলিক হেলথ রিসার্চ-এ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মুসলিম ইঙ্ক নামে একটি সাময়িকী।

এর প্রতিবেদনে বলা হয়- হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কালোজিরা হলো সর্বরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ওষুধ। শুধু বিষ ছাড়া। আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেন, বিষ কী? রাসূল (সা.) বলেছেন, মৃত্যু। (সহীহ বুখারি-৫৩৬৩)

গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত রোগীকে দুই গ্রাম কালোজিরা, এক গ্রাম চামেলি ফুল, এক চামচ মধু একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

এটি খাওয়ার পর জুস কিংবা একটি কমলা খেতে দেয়া যেতে পারে। তবে লেবু খেলে বেশি ভালো। করোনামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এভাবে খেতে হবে।

সৌদির গবেষক দলটি বলছে, রোগীর করোনা শনাক্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহে দিনে পাঁচবার উপরোক্ত নিয়ম অনুসারে কালোজিরা খাওয়াতে হবে। আর সুস্থ হয়ে ওঠার পর মহামারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিনে একবার করে খেতে হবে সেগুলো।

রোগীর কাশি বেশি এবং শ্বাসকষ্ট হলে কালোজিরা ও লবঙ্গ মেশানো পানি গরম করে নাক দিয়ে বাষ্প টেনে নেয়া যেতে পারে।

কালোজিরা-চামেলিও পানিতে গরম করে বাষ্প নাক দিয়ে টানতে পারেন।গবেষকরা বলছেন, অক্সিজেনের অভাব হলে এক চামচ কালোজিরা, এক চামচ চামেলি এবং এক কাপ পানি একটি পাত্রে নিয়ে হালকা গরম করতে হবে।

এভাবে দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার পানি গরম করে বাষ্প নাক দিয়ে টেনে নিতে হবে।মদীনার গবেষক দলটির সদস্য ডা. সালেহ মুহাম্মদ বলেন, আল্লাহর রহমতে যেসব করোনা রোগীদের এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, তাদের সবাই সেরে উঠছেন।

এই পদ্ধতিতে রোগীদের সেরে উঠতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগছে না।