ধর্ষকের শাস্তি বিষয়ক নতুন আইন করতে যাচ্ছে তুরষ্ক!

ধর্ষকের শাস্তিবিষয়ক নতুন এক আইন করতে যাচ্ছে তুরষ্ক যা ইতিমধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আইনটির বিষয়ে দেশটির মানবাধিকার এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো সরকারের তীব্র সমালোচনায় মেতেছেন যেখানে যোগ হয়েছে এরদোগান বিরোধী বামপন্থী দল দ্য পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও।

যারা না বুঝেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণ করেছে তাদেরকে বিয়ের সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে সরকার পক্ষ থেকে বলা হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ আইনের বাস্তবায়ন মানে তুরস্কে ধর্ষণের বৈধতা দেয়া।

বির্তকিত ওই আইনটি চলতি মাসের শেষে তুরস্কের সংসদে উত্থাপন করবেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ওই প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো মেয়েকে ধর্ষণের পর যদি ওই ধর্ষক তাকে বিয়ে করেন তাহলে আইন অনুযায়ী ধর্ষতের সাজা মওকুফ করা হবে।

গার্ডিয়ান ও মিডলইস্ট মনিটরসহ আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিকে দেশটির সংসদেদ এই আইনটি উত্থাপন করবেন আইনপ্রণেতারা। এদিকে তুরস্কের বামপন্থী বিরোধী দল দ্য পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এইচডিপি) প্রস্তাবিত ওই আইনের তীব্র সমালোচনা করে সরকারকে সতর্ক করেছে।

তারা বলেছেন, এই আইন তুরস্কে বাল্যবিবাহ ও ধর্ষণকে বৈধতা দেয়। পাশাপাশি শিশুদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন করার পথ প্রশস্ত করে। এমন আইন সংসদে উত্থাপন হবে শুনে চটেছেন দেশটির মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টকে তুর্কি মানবাধিকারকর্মী সুয়াদ আবু দায়েহ বলেন, ‘আইনটি বৈষম্যমূলক, যা নারীদের সুরক্ষার জন্য বিশাল এক আঘাত। আইনটি যেন সংসদে না উত্থাপিত হতে পারে সে দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া উচিত।’

আবু দায়েহের মতো অন্যান্য মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, যে অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী যার হাতে নিপীড়িত হলো, তাকে ওই ধর্ষিতা কি করে স্বামী হিসেবে মেনে নেবে? এ কেমন আইন! যেসব পুরুষ জেনেশুনেই ধর্ষণ করেছে তাদেরকেও এই আইনের আওতায় ক্ষমা করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

তবে মানবাধিকারকর্মীদের এসব কথা আমলে না নিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ক্ষমতাসীন দল এ কে পার্টির আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত এই আইনটিতে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে আসছেন।

জাপানে জুয়ার আসর ভেঙে নির্মিত হচ্ছে বৃহৎ মসজিদ!

অত্যাধুনিক বড় একটি জুয়ার আসর ভেঙে জাপানে তৈরী করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স। এই জুয়ার আসর পাচিঙ্কুর ভবনসহ জায়গাটি ক্রয় করতে প্রায় ১৮০,০০০,০০০ জাপানি ইয়েন বা ১৬ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। জাপানের টোকিও শহরের ঠিক গা ঘেঁষেই সাইতামা প্রিপেকচারের কোশিগায়া সিটির গামো স্টেশন এলাকায় এটি নির্মিত হচ্ছে।

এখানে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার লোক নামাজ আদায় করতে পারবে। গামো স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে অত্যাধুনিক এই মসজিদ কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার স্কয়ার মিটার আয়তনের এই বিশাল কমপ্লেক্সটি কার্যক্রম শুরু হলে এটি হবে জাপানের সর্ববৃহৎ মসজিদ কমপ্লেক্স।

নির্মিত এই মসজিদে থাকছে শিক্ষা, গবেষণা, অতিথিদের আবাসন ও ইসলামি সংস্কৃতি বিনিময়ে ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ও দাওয়াতি বিভাগ। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ বিশেষ করে জাপানিরা ২৪ ঘন্টা ইসলামি সংস্কৃতি ও মুল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবে।

এখানে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল স্টেশন। প্রবাসী মুসলমান বিশেষ করে বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় জাপান সরকার অনুমোদিত সর্ববৃহৎ এ ইসলামিক সেন্টারটি সারা জাপানব্যাপী দাওয়াহ কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বায়তুল আমান মসজিদ কমপ্লেক্স’। শিগগিরই বিশাল এ মসজিদটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরে আর্থিক সামর্থ ও সময় নিয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমপ্লেক্স করার পরিকল্পনা রয়েছে।