রোহিঙ্গা মুসলিমদের বন্ধু গাম্বিয়া সফরে প্রেসিডেন্ট এরদোগান!

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে আফ্রিকার মুসলিম দেশ গাম্বিয়া। আফ্রিকার তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার দেশটি সফরে গেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগান।

জানা যায়, বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়া এরদোয়ান এ সফরে গাম্বিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। এতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই, লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আদামা বরোর সঙ্গে এরদোয়ানের প্রতিটি বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১৬ সালে এরদোগান-বিরোধী গুলেনপন্থীদের সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সময় তার পাশে দাঁড়িয়েছিল গাম্বিয়া।

এরপর গুলেন নেটওয়ার্কের পরিচালিত স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয় দেশটি। এ বিষয়ে সহযোগিতা আরো বাড়তে পারে এ বৈঠকে। এছাড়াও এরদোগায়ানের এ সফরকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি আরো সংহত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে রোববার আলজেরিয়া সফরে যান তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। সেখান থেকে গতকাল সোমবার বিকালে গাম্বিয়ায় পৌঁছান তিনি। এরপর সেনেগালে যাওয়ার কথা রয়েছে এরদোগানের।

ডেইলি সাবাহ ও বিবিসির খবরে বলা হয, রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় তুলেছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া। এরই মধ্যে এ মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রমাণ পাওয়ার রায় এসেছে। কিছুকাল আগে একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়া দেশটি রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

জাপানে জুয়ার আসর ভেঙে নির্মিত হচ্ছে বৃহৎ মসজিদ!

অত্যাধুনিক বড় একটি জুয়ার আসর ভেঙে জাপানে তৈরী করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স। এই জুয়ার আসর পাচিঙ্কুর ভবনসহ জায়গাটি ক্রয় করতে প্রায় ১৮০,০০০,০০০ জাপানি ইয়েন বা ১৬ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। জাপানের টোকিও শহরের ঠিক গা ঘেঁষেই সাইতামা প্রিপেকচারের কোশিগায়া সিটির গামো স্টেশন এলাকায় এটি নির্মিত হচ্ছে।

এখানে একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার লোক নামাজ আদায় করতে পারবে। গামো স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে অত্যাধুনিক এই মসজিদ কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার স্কয়ার মিটার আয়তনের এই বিশাল কমপ্লেক্সটি কার্যক্রম শুরু হলে এটি হবে জাপানের সর্ববৃহৎ মসজিদ কমপ্লেক্স।

নির্মিত এই মসজিদে থাকছে শিক্ষা, গবেষণা, অতিথিদের আবাসন ও ইসলামি সংস্কৃতি বিনিময়ে ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ও দাওয়াতি বিভাগ। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ বিশেষ করে জাপানিরা ২৪ ঘন্টা ইসলামি সংস্কৃতি ও মুল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবে।

এখানে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল স্টেশন। প্রবাসী মুসলমান বিশেষ করে বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় জাপান সরকার অনুমোদিত সর্ববৃহৎ এ ইসলামিক সেন্টারটি সারা জাপানব্যাপী দাওয়াহ কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বায়তুল আমান মসজিদ কমপ্লেক্স’। শিগগিরই বিশাল এ মসজিদটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরে আর্থিক সামর্থ ও সময় নিয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কমপ্লেক্স করার পরিকল্পনা রয়েছে।