৫০ লাখ মুসল্লি ওমরাহ পালন করলেন, করোনায় আক্রান্ত হননি একজনও

সৌদি আরবের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ওমরাহ হজ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ৫০ লাখ হাজি এবং মুসল্লি গ্র্যান্ড মসজিদে ইবাদত করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক মাস ওমরাহ হজ স্থগিত করে রেখেছিল সৌদি আরব। খবর গালফ বিজনেসের।

সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বেনতেনের বরাত দিয়ে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)। এসময় কোনও ইবাদতকারী করোনায় আক্রান্ত হননি বলেও জানান তিনি। বুধবার মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল-ফয়সালের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন বেনতেন।

বৈঠকে প্রিন্স খালেদকে হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত কর্মসূচিসহ হজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানান বেনতেন। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে মার্চ মাসে ওমরাহ হজ স্থগিত করে সৌদি আরব।

পরে সেপ্টেম্বরে দেশটি জানায়, তারা ধাপে ধাপে ওমরাহ হজ চালু করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর থেকে আবারও ওমরাহ হজ চালু করে সৌদি আরব। এদিকে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করে রিয়াদ। এই স্থগিতাদেশ আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আর টিভি

চীনের বন্দরে আটক দুই ভারতীয় জাহাজ

দীর্ঘ আটমাস ধরে ভারতের একটি কার্গো জাহাজ নিজেদের বন্দরে আটক করে রেখেছে চীন। ফলে ওই জাহাজে একপ্রকার বন্দি হয়ে রয়েছেন ২৩ জন ভারতীয় জাহাজকর্মী। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর একইভাবে আরও একটি ভারতীয় জাহাজ আটক করে রেখেছে তারা।

জানা গেছে, আট মাস ধরে আটকে থাকা কয়লা ভর্তি ‘এমভি জগ আনন্দ’ নামের জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস করার অনুমতি দেয়া হয়নি চীনের পক্ষ থেকে। তাদের বন্দর ছাড়ার অনুমতিও দেয়া হয়নি। যে বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এই জাহাজটি কয়লা নিয়ে উত্তর চীনের হুবেই প্রদেশে জিংট্যাং বন্দরটিতে গিয়েছিল, তারাও এ ব্যাপারে নীরব।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর আরও একটি ভারতীয় জাহাজ ‘এমভি আনাস্টাসিয়া’ ১৬ জন ভারতীয় জাহাজকর্মীকে নিয়ে চীনের ওই প্রদেশেরই অন্য একটি বন্দরে গিয়ে একই ভাবে আটকে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে জাহাজের কর্মীদের উপরে প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। বেইজিং-এ আমাদের দূতাবাস চীনের কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে বিষয়টি নিয়ে।

আবেদন করা হয়েছে জাহাজকর্মীদের বন্দরে নামতে দেয়া হোক। চীনা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন কোভিড ১৯ সংক্রান্ত কিছু স্থানীয় বাধানিষেধের জন্য তারা অনুমতি দিচ্ছে না।” এর পরে মুখপাত্র জানান, “আমরা দেখছি যে অন্য কিছু জাহাজ ভারতীয় জাহাজের পরে এসে পণ্য খালাস করে ফিরেও গিয়েছে। এটার কারণ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।”

জানা গিয়েছে, মুম্বাইয়ের সংস্থা ‘গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং লিমিটেডের’ হয়ে কাজ করে জাহাজটি। জাহাজের এক কর্মী জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসে ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় রওনা দেয় জাহাজটি। অস্ট্রেলিয়া থেকে মে মাসে চীনের দিকে যাত্রা শুরু করে ‘জগ আনন্দ’। এতে ছিল ১ দশমিক ৭০ লাখ টন অস্ট্রেলিয়ান কয়লা। তারা আরও জানান, জাহাজটি গত ১৩ জুন চীনের জিংগট্যাং বন্দরে পৌঁছয়। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস