কাবার গিলাফ বদলানো হবে আগামী বৃহস্পতিবার

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ বদলানো হবে আগামী বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৯ জিলহজ এশার নামাজের পর। সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে পবিত্র কাবার গিলাফ একদিন আগে বদলানো হবে। সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সে খবরটি সঠিক নয়।

এরই মধ্যে পবিত্র কাবার নতুন গিলাফ হস্তান্তর করা হয়েছে। খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল কাবা শরিফের জন্য তৈরি করা নতুন গিলাফ কাবার জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক শায়খ সালেহ বিন জায়নুল আবেদিনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

মক্কার নিকটবর্তী উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্রমিক সারা বছর কাবার গিলাফ তৈরির কাজে নিয়োজিত থাকেন।

গিলাফটি খুব টেকসই ও মানসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়। যেন রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয় এবং এতে খাঁটি রেশম ব্যবহার করা হয়। পবিত্র কাবার কালো গিলাফকে কিসওয়া বলা হয়। গিলাফের বাইরের কালো কাপড়ে স্বর্ণমণ্ডিত রেশমি সুতা দিয়ে দক্ষ কারিগর দিয়ে ক্যালিওগ্রাফি করা হয়।

গিলাফে পবিত্র কোরআনের আয়াত শোভা পায়, অক্ষরগুলো সোনালি আভায় উদ্ভাসিত। একটি গিলাফ তৈরি করতে ৪৭ টুকরো কাপড় ব্যবহার করা হয়। এতে ১২০ কেজি সোনার সুতা, ৬৭০ কেজি রেশম সুতা ও ১০০ কেজি রুপার সুতা লাগে। গিলাফটির দৈর্ঘ্য ১৪ মিটার এবং প্রস্থ ৪৪ মিটার।

পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল। পুরোনো গিলাফকে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরে তুরস্ককে ফিলিস্তিনের অভিনন্দন

যাদুঘর থেকে আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে রূপান্তর করায় তুরস্ককে অভিনন্দন জানিয়েছে ফিলিস্তিন। তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ফিলিস্তিন আয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্তের উচ্চ প্রশংসা করে।

রোববার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে আলাপকালে মাহমুদ আব্বাস তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে আঙ্কারা।

১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল বিজয়ের আগ পর্যন্ত আয়া সোফিয়া ৯১৬ বছর গির্জা ও ১৪৫৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত একটি মসজিদ হিসেবে প্রায় ৫০০ বছর এবং সম্প্রতি ৮৬ বছর ধরে একটি যাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

গত ১০ জুলাই তুরস্কের একটি আদালত ১৯৩৪ সালের মন্ত্রিসভার আইন বাতিল করে এটি মসজিদে রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করে। তুরস্কের এই ঐতিহাসিক স্থাপনা আয়া সোফিয়া ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হয়। সূত্র: ইয়েনি সাফাক

কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আলোচনা, ভারতের চোখ কপালে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার পাকিস্তানী প্রতিপক্ষ ইমরান খান টেলিফোনে কথা বলার পর ইসলামাবাদ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় যে খান জম্মু-কাশ্মির নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। লাদাখে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চীনের সঙ্গে সংঘাতের পর এই বিবৃতি ভারতের প্রতিবেশী দেশটিতে দৃষ্টিভঙ্গীর বদলের গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে।

গত কয়েকমাস ধরে নেপালের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক কণ্টকাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের আলাপচারিতার সফল সূচনা বাংলাদেশের এত দিনের ভারত-পন্থী অবস্থান নস্যাৎ করার মতো সঙ্কটজনক অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে এরই মধ্যে চীনের অবস্থান জোড়ালো হয়ে উঠেছে বলে ভারতে উদ্বেগ রয়েছে। এই টেলিফোনিক আলাপচারিতার ব্যবস্থা করে দেয়ার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা থাকতে পারে। বহু মাস ধরে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে টানাপোড়নের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে কাশ্মিরের ব্যাপারে দুই দেশের পক্ষ থেকে দুই রকম বিবৃতি দেয়া হয়। ঢাকার দুই প্যারার সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে কাশ্মির প্রসঙ্গ উল্লেখই করা হয়নি। তাতে বলা হয় যে দুই নেতা করোনাভাইরাস সঙ্কট ও বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে পাকিস্তানে আট প্যারার বিবৃতিতে বলা হয় প্রধানমন্ত্রী খান কাশ্মির বিষয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গী শেয়ার করেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দেন।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলেছে যে এতে উদ্বেগের কিছু নেই। শুক্রবার নয়া দিল্লির প্রেসমিটে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীভাস্তব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ঐতিহাসিক। জম্মু-কাশ্মিরের ব্যাপারে তাদের অটল অবস্থানকে আমরা প্রশংসা করি। তারা সবসময় একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে আসছে।

কিন্তু এই কথায় অনেক পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ সন্তুষ্ট হননি।

কলকাতাভিত্তিক বুদ্ধিজীবী সুবীর ভৌমিক বলেন, ভারতের অবশ্যই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যেভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতে মনোভাবের আকস্মিক পরিবর্তন, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে ভারত যখন লাদাখে চীনর সঙ্গে সমস্যা জড়িয়ে আছে, তখন পর্দার আড়ালে কিছু কূটনৈতিক রণকৌশলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তার মতে, উদ্বেগের বিশেষ কারণ হলো শেখ হাসিনার দফতরের পাকিস্তানপন্থী সুর এবং কাশ্মির প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে।

ভৌমিক আরো বলেন, শেখ হাসিনা নীরবে এবং সিদ্ধান্তমূলকভাবে লক্ষণ রেখা অতিক্রম করে গেছেন। সূত্র জানায়, ইমরান খানের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে কিছু জানানো হয়নি।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কৃষ্ণ শ্রীনিভাসন অবশ্য উদ্বেগের কিছু দেখে না। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় অস্বাভাবিক কিছু নেই। আবার দুই মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রীদের আলোচনায় কাশ্মির স্থান পাওয়াও বিস্ময়কর নয়।

গত বছর ভারত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিষয়ক সংবিধানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর ঢাকার অবস্থান ছিলো এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের ক্ষেত্রেও ঢাকা সেটা বললেও আইনটি করার পরপরই গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন দিল্লী সফর বাতিল করেন। তখন তিনি বলেছিলেন যে এই আইন সেক্যুলার জাতি হিসেবে ভারতের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করবে।

তবে চলতি মাসের শুরুতে মোমেন যখন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের নতুন হাই কমিশনারের সঙ্গের বৈঠক করেন তখন নয়া দিল্লী সচকিত হয়ে ওঠে।

কিছু বিশ্লেষক বলছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় ইসলামাবদের কণ্ঠ আগের চেয়ে জোড়ালো হয়ে উঠেছে, এমন কি প্রধানমন্ত্রীর দফরের ভেতরেও। একটি কথিত পাকিস্তান-পন্থী কণ্ঠ হলেন বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী সালমান ফজলুর রহমান। এই আইনপ্রণেতা গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।

রহমান হলেন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায় গ্রুপ বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান।

উইলিকসে প্রকাশিত আমেরিকান দূতাবাসের এক ক্যাবলে তাকে বাংলাদেশের একজন অন্যতম বড় ঋণ খেলাপী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি