রুভূমিতে সেজদারত অবস্থায় যুবকের মৃত্যু

নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর ৪০ বছর বয়স্ক এক সৌদি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে এক মরুভূমি থেকে। এ সময় তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। তিনি ছিলেন সেজদারত অবস্থায়। সেই অবস্থায়ই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ওই মরুর বালুরাশিতে।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ। এতে বলা হয়, এ ঘটনা ঘটেছে রিয়াদ প্রদেশে। সেখানকার ওয়াদি আল দাওয়াসিরের ধুওয়াইহি হামুদ আল আজালিন নিখোঁজ ছিলেন গত বৃহস্পতিবার থেকে। এরপর টানা তিনদিন তার সন্ধান করা হয়।

কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। অবশেষে রোববার সকালে এক মরুর বালিয়াড়িতে তাকে পাওয়া যায় মৃত, সেজদারত অবস্থায়।

এর আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা ওয়াদি আল দাওয়াসির পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজ ডায়রি ফাইল করেন। ফলে পুলিশ টিম ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। তারা আল আজালিনকে খুঁজে পেতে সব স্থানে অভিযান চালায়।

নিখোঁজ আল আজালিন তার পিকআপ চালিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। কোথাও তাকে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা মরুভূমিতে অভিযান চালান। তারা গাড়ি হাঁকিয়ে এখানে ওখানে খুঁজতে থাকেন আল আজালিনকে। এক পর্যায়ে তাকে বালুর ভিতর সেজদারত অবস্থায় মৃত হিসেবে দেখতে পায় পুলিশ।

পাশেই কয়েক মিটার দূরে দাঁড়ানো তার গাড়ি। তাতে কিছু কাঠ, লাকড়ি। ধারণা করা হয়, এসব তিনি পরিবারের জন্য সংগ্রহ করেছিলেন। তবে কিভাবে তিনি মারা গেলেন তা কেউ বলতে পারছেন না।

ওদিকে সেজদারত অবস্থায় তার মারা যাওয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জন্য সবাই প্রার্থনা করছেন। কারণ, সেজদারত অবস্থায় মৃত্যু মুসলিমদের জন্য বড় সম্মানের এবং কাঙ্খিত। মানবজমিন

ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ আইন প্রত্যাহারে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট প্রস্তুতি

ই-পেপঅধিকাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিতর্কিত আদেশের বিপক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বুধবার ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। নতুন এই আইনটি ‘নন ব্যান অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত।

নতুন এই বিলটিতে ডেমোক্র্যাটিক সদস্যদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। রিপাবলিকান ও হোয়াইট হাউসের বিরোধিতা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে নতুন এই বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘নন ব্যান অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটি সমর্থনকারী মুসলিম অ্যাডভোকেটস’র নির্বাহী পরিচালক ফারহানা খেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে আলাদা রয়েছেন লক্ষাধিক মুসলিম। অনেক বাবা-মা সাক্ষাৎ করতে পারছেন না, অনেক পরিবার একত্রিত হতে পারছে না, এমনকি অনেকের জীবনেই দাদা-দাদীর ভূমিকা অনুপস্থিত। এই বিলটি কার্যকর হলে মার্কিন অভিবাসন আইনে বৈষম্যবিরোধী বিধানগুলো প্রসারিত হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আনবে।

বিশেষত, বিলটি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে বেশিরভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে অভিবাসন নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটাবে। ট্রাম্প তার প্রথম নিষেধাজ্ঞায় ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। ওই নিষেধাজ্ঞায় অবৈধ ধর্মীয় বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্ব দরবারে সমালোচিত হয়। এছাড়াও ট্রাম্প তার নিষেধাজ্ঞার আওতায় ভেনিজুয়েলা ও উত্তর কোরিয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং পরবর্তিতে নাইজেরিয়া, সুদান, মিয়ানমারকে তালিকায় যুক্ত করেন।

বুধবারের আলোচনা সভায় ডেমোক্র্যাট সদস্যরা কয়েক ডজন আমেরিকান পরিবারের সদস্যদের বাস্তব জীবনের গল্প প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা আভিবাসন নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রিয়জনদের থেকে দূরে আছেন। তবে, এই আইনটি রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন সিনেটে গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যার অর্থ এই বছর এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এর পরিবর্তে, আইনটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে মোকাবেলা হবে।

ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন প্রসিডেন্ট প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যনির্বাহী এই আদেশ অনুযায়ী মুসলিম দেশ থেকে অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বিপরীত পদক্ষেপ নেযার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার মুসলিম সমর্থিত ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এই মুসলিম অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন তিনি।

বাইডেনের এমজেজ অ্যাকশন সংস্থার আয়োজিত দুই দিনের ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিন হজার মুসলিম-আমেরিকান ভোটার উপস্থিত ছিলেন। বিলটি পাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরামর্শে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আদেশ প্রয়োজন হবে। এতে নির্দিষ্ট দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া লোকের সংখ্যা সম্পর্কে একটি পাবলিক রিপোর্ট সরবরাহ করা হবে। ডেমোক্র্যাটরা মার্চ মাসের প্রথম দিকে ভোটের জন্য ‘নন ব্যান বিল’ টি হাউস ফ্লোরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। সূত্র : আল জাজিরা