সৌদি আরবে ঈদের নামাজ নয়, মাইকে তাকবির প্রচারের অনুমতি দিলো সরকার

করোনাভাইরাস মহামারী বিস্তার প্রতিরোধে নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ করেছে সউদী আরব। তবে মসজিদের মাইকে তাকবির প্রচার করা যাবে বলে অনুমতি দিয়েছে দেশটি। -আল আরাবিয়া

সউদী আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী শাইখ ড. আবদুল লতিফ বিন আব্দুল আজিজ আল শাইখ আল আরাবিয়াকে জানিয়েছেন, দেশের সব মসজিদের মুয়াজ্জিনদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে চলতি বছর ঈদুল ফিতরের নামাজ মসজিদে আদায় করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ঈদের দিন ফজরের নামাজের পর মসজিদের মাইক থেকে উচ্চস্বরে তাকবীর প্রচার করা যাবে।

এদিকে কাতার , তুরস্ক , ওমান , ফিলিস্তিন , আরব আমিরাত ও ইরাকসহ অনেক মুসলিম দেশে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স উদী আরবে শুক্রবার সাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় , দেশটিতে ৩০ রোজা পূর্ণ হবে এবং রবিবার ঈদ অনুষ্ঠিত হবে।

আল্লাহর উপর বিশ্বাসই এ সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে: শাইখ সুদাইস

মসজিদুল হারামের প্রধান ও প্রবীণ ইমাম শাইখ আব্দুর রহমান আল সুদাইস বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনও দেশ বা অঞ্চল নেই যেখানে করোনা আক্রমণ করেনি।

কিন্তু এই আক্রমণের মুখে মুমিনরা সীসাযুক্ত প্রাচীরের মতো দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সত্যিকারের বিশ্বাসীর বিশ্বাসই তাকে সংকট থেকে রক্ষা করতে পারে।

যে ব্যক্তি তার পালনকর্তা ও নিয়তির ওপর বিশ্বাস রাখে, যে প্রভু ও মালিকের প্রতি বিশ্বাস রাখে, এই বিশ্বাসই সংকট, কষ্ট ও অসুবিধা থেকে তাকে রক্ষা করবে। গতকাল জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খুতবায় দেশের নাগরিকসহ বিশ্বের মুসলিমদের বাকী রোজাগুলোতে বেশি বেশি নেকির কাজ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন।

করোনা প্রতিরোধে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই মসজিদে নামাজ বন্ধ ঘোষণা ও বর্তমানে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ করাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করেছে। সেসব আইনসহ দেশটির বেসরকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেছেন শাইখ আব্দুর রহমান আল সুদাইস।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে সৌদি আরব বাদশার সাহসী এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে দেশকে বাঁচাতে পারে। শাইখ সুদাইস বলেন, করোনা বিরোধী অভিযানে হারামাইন শারিফাইন কর্তৃপক্ষ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।

এছাড়াও, সৌদি আরবের পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ করোনার প্রতিরোধে কঠিন পরিস্থিতিতেও কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

সূত্র: আল আউসাত, আল আরাবিয়া -এএ

আরো পড়ুন-গাড়ির যন্ত্রাংশ দিয়ে করোনার ভেন্টিলেটর বানিয়ে অবশেষে সফল হলেন আফগান মেয়েরা

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুরস্কার জিতে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল আফগানিস্তানের একদল কিশোরী। সেই মেয়েরাই এবার বাস্তবতার সঙ্গে লড়ে সাফল্য দেখাল।

করোনায় আক্রান্ত দেশকে ভেন্টিলেটর উপহার দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে বাজারে আসলে এ ভেন্টিলেটর অনেক কম দামে পাওয়া যাবে।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের প্রায় ৪ কোটি মানুষের জন্য আছে মাত্র ৪০০ ভেন্টিলেটর। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। অথচ দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ইতিমধ্যে ৭ হাজার ৬৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে।

মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত ভঙ্গুর হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। ভেন্টিলেটর তৈরি করা দলটির নাম ‘আফগান ড্রিয়েমার্স’। তাদের অন্যতম সদস্য ১৭ বছরের নাহিদ রাহিমি বার্তা সংস্থা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের চেষ্টার মাধ্যমে অন্তত একটি জীবনও রক্ষা করতে পারি তবে সেটাও অনেক গুরুত্বপূ্র্ণ।

এ দলটির সবার বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সে। তারা যে ভেন্টিলেটর তৈরি করছে তাতে ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো টয়োটা করোলা গাড়ির মটর এবং হোন্ডা মোটরসাইকেলের চেইন ড্রাইভ।

তারা বলছে, শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যায় থাকা রোগীদের সাময়িক স্বস্তি দেবে তাদের এই ভেন্টিলেটর। যতক্ষণ ভালো মানের একটি পাওয়া না যায়। দল নেতা সুমাইয়া ফারুকি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা এ সময়ে দেশের হিরো। তাদের সহযোগিতায় কিছু করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি।’

বর্তমানে বিশ্বে বাজারে ভেন্টিলেটরের মারাত্বক সংকট রয়েছে। আর যা বিক্রি হচ্ছে তার দাম পড়ছে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। আর আফগান এ মেয়েরা যে ভেন্টিলেটর তৈরি করেছে তার দাম পড়বে ৬০০ ডলারের কম।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা রয়া মাহবুব, ‍যিনি টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী উদ্যোক্তার একজন হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষায় সফলতাও এসেছে। মে মাসের শেষ দিকে এটি বাজারে আসবে।’
সূত্র: বিবিসি