নভেম্বরেই সৌদির মসনদে বসছেন যুবরাজ সালমান!

আগামী নভেম্বরে রিয়াদে জি-২০ সম্মেলনের আগেই সিংহাসনের আরোহন করতে পারেন সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। রাজ পরিবারে হঠাৎ করেই শুদ্ধি অভিযানের জন্য এমনটা দাবি করছে মিডল ইস্ট আই। নভেম্বরের ২১ ও ২২ তারিখ জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

পাশ্চাত্যে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান তার বাবা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। কারণ বাবার উপস্থিতি সন্তান হিসেবে সিংহাসনের বসতে তার জন্য বৈধতা তৈরি করবে।

কাজেই নভেম্বরের সম্মেলনকে বাদশাহ হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাচ্ছেন যুবরাজ। সূত্র বলছে, বাবাকে সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য করতেও পারেন তিনি। ৮৪ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বর্তমানে স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভুগলেও তার স্বাস্থ্য ভালো আছে।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সিংহাসনের উত্তরসূরি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি। আর বাবাকে সিংহাসনচ্যুত করার মধ্য দিয়ে সেটা শেষ হতে পারে। সূত্র বলছে, বাবা থাকা অবস্থায়ই তিনি বাদশাহ হয়েছেন, এমনটা নিশ্চিত করতে চান।

এমবিএসের প্রকল্পে যোগ দিতে বাদশাহ সালমানের ছোট ভাই আহমেদকে সর্বশেষ একটি সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কারণ এমবিএসের সিংহাসনে বসার ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরেই তিনি বিরোধিতা করে আসছেন।
দ্বিতীয় একটি সূত্র জানায়, এমবিএসকে পূর্ণ সমর্থন দিতে আহমেদের ওপর চাপ ছিল।

কোর্টে বাদশাহ সালমান ও অন্যান্যদের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। সন্তানকে সমর্থন দিতে ভাইকে উদ্বুদ্ধ করেন সালমান। কিন্তু আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই প্রকল্পের তার কোনো সমর্থন নেই। তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

এছাড়াও নিজেও বাদশাহ হতে আগ্রহী নন বলে বড় ভাই সালমানকে জানিয়েছেন আহমেদ। অন্য কেউ সামনে চলে আসুক, সেটি তিনি চান।
আহমেদকে আটকের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। শুক্রবার তাকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন তিনি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেননি।

যদিও সৌদি আরবে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে রয়টার্সের খবরে। ভাতিজার সিংহাসনে বসার ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান আহমেদ। তিনি হাইয়াতুল বাইয়ার বা আনুগত্য পরিষদের সদস্য। বাদশাহর মৃত্যুর পরে কে সিংহাসনে বসবেন, সেই প্রশ্ন প্রথমে এই পরিষদে উঠবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা যুবরাজের সমালোচনা করে আসছেন। ২০১৮ সালে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নির্দেশদাতা আখ্যায়িত করে প্রকাশ্যে যুবরাজের নিন্দা জানিয়েছেন তারা।

কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডে যুবরাজকে দায়ী করতে বারবার অস্বীকার করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। জাতিসংঘ কিংবা এফবিআইয়ের তদন্তের আহ্বানও আটকে দিয়েছেন তারা।

আবারও আফগানিস্তানে হামলা; প্রাদেশিক এমপিসহ নিহত ৩

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই দেহরক্ষীসহ প্রাদেশিক পরিষদের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববারের এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে কাবুল পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

কাবুল পুলিশের মুখপাত্র ফেরদৌস ফারামারজ বলেন, হামলায় লোগারের প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য নাসের গাইরাত ও তার দুই দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন। অন্য আরেকজন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের রাজধানীর এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকী এক টুইটবার্তায় বলেন, প্রেসিডেন্ট কাবুলে গোলাগুলির ঘটনায় তদন্তের জন্য একজন প্রতিনিধিকে নিয়োগ দিয়েছেন। মাত্র দু’দিন আগে শুক্রবার কাবুলের একটি অনুষ্ঠানে দুই বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ১৮০ জন আহত হন। দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ অল্পের জন্য রক্ষা পান।

আবদুল্লাহ ২০১৪ সাল থেকে আফগানিস্তানের কোয়ালিশন সরকারের প্রধান নির্বাহী। তিনি এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। বিদ্রোহী তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি প্রচেষ্টার উদ্যোগের মধ্যেই পরপর এসব হামলা চালানো হল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) শুক্রবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানে পূবপরিকল্পিত হত্যা, গুপ্তহত্যা ও সহিংস অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি এসব ঘটনাও ক্রমবর্ধমান জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

কাবুলের ৩৭ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক নুর আহমদ রয়টার্সকে বলেন, কাবুল আইনশৃঙ্খলাহীন একটি শহরে পরিণত হয়েছে। যে যা করতে চায় তাই করতে পারে- এ পরিস্থিতি অত্যন্ত ভীতিকর।

চীনে আচমকাই ধ্বসে পড়ল করোনা রোগীদের ভবন

বিপদ যেন পিছু ছাড়ছেই না চীনের। ভয়াবহ করোনা আতঙ্কের মাঝেই চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে পাঁচতলা হোটেল ধসে অন্তত ৭০ জন আটকা পড়েছেন। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রূপান্তর করা হয় হোটেলটিকে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৩৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

হোটেলটি পুরোপুরি ধসে পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছেন। ভেতরে আটকাপড়া লোকজন কোভিড-১৯ রোগী বলে জানা গেছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছিল। ১৪৭টি দমকল ইঞ্জিন ও ২৬ জন কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তবে আচমকাই বিল্ডিংটি ভেঙে পড়ার কারণ জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবরও পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎই বিকট আওয়াজ শুনতে পান তারা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতেই দেখেন পাঁচতলা হোটেলটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষজন সাহায্যের আরজি জানাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে এগিয়ে যাননি। করোনায় আক্রান্ত রোগীরা ওই বাড়িতে থাকায় সংক্রমণের ভয়ে তারা উদ্ধার কাজে হাত লাগাননি।

ওই হোটেলের বিপরীত ভবনে বাস করা এক চীনা নাগরিক বলেন, আমি খাবার খেতে বসছিলাম। এমন সময় একটি বিকট আওয়াজ শুনতে পাই। আমি মনে করেছিলাম কিছু একটার বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু বারান্দায় ছুটে গিয়ে দেখি, পুরো হোটেল ভবনটি ধসে গেছে।