ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নতুন করে ধড়পাকড় শুরু করেছে সৌদি আরব

সৌদি আরবে বসবাসরত ফিলিস্তিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন করে ধড়পাকড় শুরু করেছে রিয়াদ সরকার। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতি সমর্থন দেয়ার অভিযোগে এই ধরপাকড় অভিযান চালাচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

‘দ্য প্রিজনার অফ কন্সাইন্স’ নামে সৌদি আরবের একটি মানবাধিকার বিষয়ক এনজিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত বছরের এপ্রিল মাসে যেসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল তাদের আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানাদিকে একই অভিযোগে সৌদি সরকার এখন আটক করছে।

গত বছরের ২১ অক্টোবর হামাস মুখপাত্র সামি আবু জুহরি আরবি ভাষার বার্তা সংস্থা শেহাবকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সৌদি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর পদ্ধতি অনুসরণ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সে সময় সামি জুহরি জানিয়েছিলেন, সৌদি কারাগারে এ মুহূর্তে প্রায় ৬০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে হামাস নেতা ও সমর্থকদের সন্তানাদিও আছেন। সৌদি কারাগারে আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন এবং তারা দেশটির অর্থনীতিতে বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন বলে জানান সামি আবু জুহরি।

সুত্রঃ pass today

এরদোগানের আগমনে পাকিস্তানের টুইটারজুড়ে ‘মারহাবা এরদোগান’!

পাকিস্তানে এসেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। বৃহস্পতিবার দুই দিনের সরকারি সফরে তিনি ইসলামাবাদে এসে পৌঁছান। এরদোগান দেশটিতে পৌঁছানোর পর টুইটারে মারহাবা এরদোগান ট্রেন্ড চালু হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে ওয়েলকাম এরদোগান টু পাকিস্তান লিখছেন এরদোগান ভক্তরা। খবর তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাকের।

হাজার হাজার টুইটার ও ফেসবুক ব্যবহারকারী টুইটারে হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে মারহাবা এরদোগান ও ফেসবুকে হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে ওয়েলকাম এরদোগান টু পাকিস্তান লিখেছেন। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরদোগানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি এরদোগান পাকিস্তান সফরে থাকছেন। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সংহতি ও ঘনিষ্ঠতার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান-তুরস্কের কৌশলগত অংশিদারিত্বের প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানায় পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সফরে এরদোগানের সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা রয়েছেন। এতে পাকিস্তান-তুরস্ক উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা পরিষদের (এইচএলএসসিসি) ষষ্ঠ অধিবেশনে ইমরান খানের সঙ্গে তিনি সভাপতিত্ব করবেন।

শনিবার পাকিস্তান পার্লামেন্টের একটি যৌথ অধিবেশনেও ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে এরদোগানের। এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রেসিডেন্ট ডা. আরিফ আলভির সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।

ভারতের আসাম রাজ্যে মাদরাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছে সরকার

ভারতের আসাম রাজ্য সরকার সেখানকার সরকারি মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্য এ প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ স্কুলে পরিণত হবে। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার রয়েছে, তাই সরকারি মাদরাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ, সংস্কৃত ও আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

আসামে কোনো স্বতন্ত্র বোর্ড ছাড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ মাদরাসা ও ২০০ সংস্কৃত কেন্দ্র চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সমমানের সনদ পায় বলে অনেক সমস্যার তৈরি হয়। এ জন্য আমরা এসব মাদরাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রকে সাধারণ বিদ্যালয় করছি।

আসামে দুই হাজার বেসরকারি মাদরাসা আছে। সেগুলোকেও নিয়মকানুনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি মাদরাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন অনেকেই মুসলিমবিদ্বেষী মানসিকতা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

আসাম সংখ্যালঘু ছাত্র ইউনিয়ন বা আমসুর প্রধান রেজাউল করিম সরকার বলেন, তিনি মুখে যতই বলুন না কেন যে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি, তবে মি. বিশ্বশর্মার টার্গেট হচ্ছে মুসলমানরা।

রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, আসামের মাদরাসা শিক্ষা আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক হিসাবে। এমনকি পাকিস্তানে মাদ্রাসাগুলিতে যেভাবে কট্টর ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হয়, তাদেরও আসামের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শেখা উচিত।

বোর্ড আরো লিখেছে, ২০০৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিক্ষার উঁচু মানের কারণে অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা বড় সংখ্যায় মাদ্রাসায় পড়তে আসছে। ২০১৭ সালে মাদরাসার পাশাপাশি সংস্কৃত কেন্দ্র বোর্ডকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল।

এবার তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। অনেক দিন ধরে চলা ধর্মীয় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ১৭৮০ সালে আসামে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল।