ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দিল কানাডা!

কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও সমর-সহায়তা-সম্পর্ক অ্যাতই গায়ে গা জড়ানো যে আমেরিকার বিপক্ষে কিছু করা কানাডার জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কাজ। ফিলিস্তিন বিষয়ে আগের ১৪টি জাতিসংঘ রেজল্যুশনে কানাডা ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মি হলেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য ভোট দিয়ে এসেছিল।

গতকাল কানাডা জাতিসঙ্গে সরাসরি আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোটের ভাষ্য–ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার [স্বাধীকার] চায় ক্যানাডা। ক্যানাডা যে সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও ন্যয্যতার বিষয়ে একমাত্র নির্ভরযোগ্য দেশ সেটি আবারো প্রমানিত হল।

নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো লাউডস্পিকারে আজান; শুনতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ভিড়!

নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে প্রথমবার মাইক বা লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ উপলক্ষে এই আজান দেয়া হয়। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ১৫ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে।

আমস্টারডামের ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদটিতে ৮ নভেম্বর প্রথম আজান প্রচার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্ত কিছু দুর্বৃত্তরা অডিও সিস্টেমের তার কেটে দেয়ায় তখন আজান প্রচার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মুসল্লিসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মত আজান শোনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অনেকেই আবেগময় এই মুহূর্তটি তাদের সেল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। আনাদোলু এজেন্সিকে মসজিদের মুখপাত্র নুরদীন ওয়াইল্ডম্যান জানান, এক সপ্তাহ আগের জুমায় এই আজান প্রচার করার কথা ছিল।

কিন্তু বাধা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের জুমায় লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সুখী এবং সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই বিষয়টির সমালোচনা করছে। তবে বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়াই ইতিবাচক।

উরসুলা ভ্যান স্পর্নসেন নামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন জানান, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। আজান শোনার জন্যই প্রথমবার এই মসজিদে আসেন। এটি শুনতে অনেক ভালো লাগছিল। প্রসঙ্গত, নেদার‌ল্যান্ডজুড়ে শতকরা ৭ ভাগ মসজিদে বছরের পর বছর ধরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করা হয়।

রাজধানী আমস্টারডামে এই প্রথম আজান প্রচার করা হল। নেদার‌ল্যান্ডের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালে প্রণীত একটি আইনে সব ধর্মের মানুষকেই তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য আহ্বান জানানোর অনুমতি দেয়া হয়।

তবে আইন অনুযায়ী পৌরসভা আজানের শব্দের মাত্রা কমিয়ে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারে কিন্তু কোনভাবেই আজান প্রচার বন্ধ করতে পারে না। নেদার‌ল্যান্ডে প্রায় ৫০০টির মত মসজিদ রয়েছে।