সাড়ে ৭শ ফিলিস্তিনি শিশুকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইলি বাহিনী!

চলতি বছরের দশ মাসে প্রায় ৭শ’ ৪৫ ফিলিস্তিনি শিশুকে গ্রে’ফতার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

ইসরায়েলি আ’টক ও নিপী’ড়ন থেকে ওই শিশুদের রক্ষা করতে জাতিসংঘসহ অন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি (পিপিএস) তাদের বাৎসরিক প্রতিবেদনটিতে জানায়, গভীর রাতে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুদের।

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গ্রে’ফতার এই শিশুদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। গ্রেফতার শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা শিশুদের মৌলিক অধিকার। তাদের মধ্যে অনেককেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও তারা বঞ্চিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কয়েকটি বন্দিশিবিরে প্রায় দুইশ’ শিশু কারাভোগ করছে। ফিলিস্তিনি তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশুসহ ৫ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে রয়েছে।

নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানীতে প্রথমবারের মতো লাউডস্পিকারে আজান; শুনতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ভিড়!

নেদার‌ল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে প্রথমবার মাইক বা লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ উপলক্ষে এই আজান দেয়া হয়। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ১৫ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে এখবর দিয়েছে।

আমস্টারডামের ব্লু মস্ক বা নীল মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদটিতে ৮ নভেম্বর প্রথম আজান প্রচার করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্ত কিছু দুর্বৃত্তরা অডিও সিস্টেমের তার কেটে দেয়ায় তখন আজান প্রচার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মুসল্লিসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মত আজান শোনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। অনেকেই আবেগময় এই মুহূর্তটি তাদের সেল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। আনাদোলু এজেন্সিকে মসজিদের মুখপাত্র নুরদীন ওয়াইল্ডম্যান জানান, এক সপ্তাহ আগের জুমায় এই আজান প্রচার করার কথা ছিল।

কিন্তু বাধা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের জুমায় লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সুখী এবং সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই বিষয়টির সমালোচনা করছে। তবে বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়াই ইতিবাচক।

উরসুলা ভ্যান স্পর্নসেন নামে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন জানান, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। আজান শোনার জন্যই প্রথমবার এই মসজিদে আসেন। এটি শুনতে অনেক ভালো লাগছিল। প্রসঙ্গত, নেদার‌ল্যান্ডজুড়ে শতকরা ৭ ভাগ মসজিদে বছরের পর বছর ধরে লাউডস্পিকারে আজান প্রচার করা হয়।

রাজধানী আমস্টারডামে এই প্রথম আজান প্রচার করা হল। নেদার‌ল্যান্ডের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালে প্রণীত একটি আইনে সব ধর্মের মানুষকেই তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য আহ্বান জানানোর অনুমতি দেয়া হয়।

তবে আইন অনুযায়ী পৌরসভা আজানের শব্দের মাত্রা কমিয়ে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারে কিন্তু কোনভাবেই আজান প্রচার বন্ধ করতে পারে না। নেদার‌ল্যান্ডে প্রায় ৫০০টির মত মসজিদ রয়েছে।