ইসরাইলের ক্ষেপণা’স্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে ফিলিস্তিন; আতঙ্কে ইসরাইল

ইহুদিবাদী ইসরাইলের আয়রন ডোম নামে পরিচিত ক্ষেপণা’স্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপন তথ্য ফিলিস্তিনিরা হাতিয়ে নিয়েছে বলে আশংকায় পড়েছে তেল আবিব। ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুর প্রতি ধেয়ে আসা মধ্যপাল্লার ক্ষেপণা’স্ত্র ঠেকাতে ব্যবহার করা হয় আয়রন ডোম। এ জন্য আয়রন ডোম থেকে ছোঁড়া হয় তামির নামের ক্ষেপণা’স্ত্র।

ইসরাইলের প্রতি ছুটে আসা বা আক্রমণকারী ক্ষেপণা’স্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বং’স করে দেয়ার জন্য ছোঁড়া হয় বিধ্বং’সকারী তামিরকে। বিধ্বং’সকারী তামিরে বো’মা বসানো থাকে এবং মাঝ আকাশে আক্রমণকারী ক্ষেপণাস্ত্র’কে ধ্বং’স করে দেয়ার জন্য এ বো’মা বি’স্ফোরিত হয়। এতে নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে থাকা ধেয়ে আসা বা আ’ক্রমণকারী ক্ষেপণা’স্ত্র ধ্বং’স হয়ে যায়।

তবে সঠিক সময়ে তামিরের বি’স্ফোরণ ঘটানোর ওপরই নির্ভর করে আয়রন ডোমের সাফল্য। লক্ষ্যবস্তু আ’ঘাত হা’নতে না পারলে তামিরকে ধ্বং’স করে দেয়া হয়। তামিরের রহস্য যেন ফাঁস হয়ে না যায় সে কারণে এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অটুট অবস্থায় কারও হাতে পড়লে তামিরকে খুলে এবং তামিরের গঠন পরীক্ষা করে আয়রন ডোমের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া যাবে।

প্রযুক্তি জগতে এটি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা বিপরীত প্রকৌশল নামে পরিচিত। গাজা থেকে ছুটে আসা ক্ষেপণা’স্ত্র ঠেকাতে যে সব তামির ছোঁড়া হয়েছিল তার একটিও বি’স্ফোরিত হয় নি। অটুট অবস্থায় গাজায় যেয়ে পড়েছে! ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জো ট্রুসম্যান এক টুইটার বার্তা এ কথা জানিয়েছেন।

গ্রাউন্ড ব্রিফ নামে একটি নিউজলেটারও প্রকাশ করেন তিনি। গাজার এ ঘটনায় তামির এবং আয়রন ডোমের গুপ্তকথা এবারে ফিলিস্তিনিরা জেনে যাবে বলে গভীর আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফেল তৈরি করেছে তামির। একই সংস্থাই তৈরি করেছে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণা’স্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ডেভিড শ্লিং।

এদিকে, এর আগে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের অন্যতম অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণা’স্ত্র রাশিয়ার হাতে চলে গেছে। আর এতে আত’ঙ্কে পড়েছে তেল আবিব। এ ক্ষেপণা’স্ত্র ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ডেভিড শ্লিং গোলন্দাজ বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত।

সুত্র: পার্সটুডে

হিন্দু হয়েও মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে বাবরি মসজিদের জন্য লড়েছেন রাজীব ধাওয়ান!

নিজে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও নিজের ধর্মের মানুষদের বি’রুদ্ধে গিয়ে মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে বাবরি মা’মলা য় ইনসাফ পাইয়ে দেয়ার জন্য লড়েছেন মুসলিম পক্ষের হয়ে প্রধান আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান। পেয়েছেন খু’নের হু’মকি।

আদালতে ও আদালতের বাইরেও ছিল প্রাণ যাওয়ার ভয়। কিন্তু দমে যাননি ৭৪ বছরের রাজীব ধাওয়ান। ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাবরি মসজিদের জায়গায় হবে রামমন্দির। মুসলিমদের জন্য অয্যোধ্যার অন্যত্র ৫ একর জমি দেয়া হবে।চার দশকের বেশি

সময় ধরে বাবরি মা’মলার সঙ্গে থাকা আইনজীবী জাফরইয়াব জিলানিও মুগ্ধ ধাওয়ানের প্রতি। শুনানির শেষ দিন মুসলিম পক্ষের আইনজীবী ধাওয়ান অযোধ্যার বিতর্কিত স্থানের একটি ম্যাপ ছিঁড়ে ফেলেন। এটা নিয়ে মিডিয়ায় বেশ হইচই হয়।

সাবেক আইপিএস অফিসার কিশোর কুনালের লেখা বই ‘অযোধ্যা রিভিজিটেড’- এ ছিল এই ম্যাপটি। এ নিয়ে জিলানি বলেন, আইনজীবী ধাওয়ান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর অনুমতি নিয়ে এটি ছিঁড়েছিলেন। চলমান মা’মলার শুনানির সঙ্গে এই ম্যাপের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

তাই হয়তো প্রধান বিচারপতি ছেঁড়ার নির্দেশ দেন। এক শ্রেণির মিডিয়া এটি নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করছে মন্দির নিয়ে মানুষের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায় করার জন্য।রাজীব ধাওয়ান বরাবরই যুক্তি ও প্রমাণের সঙ্গে সওয়াল করে এসেছেন, বাবরি শরিয়া অনুযায়ী একটি মসজিদ।

ভেঙে ফেলেছে বলে ওটার মসজিদ চরিত্র নষ্ট হয়ে যায় না। যেটা একবার মসজিদ, সেটা সবসময়ই মসজিদ। সেটা যদি পরি’ত্যক্ত হয়, কিছু দিন নামায বন্ধ থাকে তবুও সেটা অন্য কিছু হয়ে যায় না, মসজিদই থাকে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রামের জন্মস্থান নিয়ে বিপক্ষের দলিল সম্পর্কে। রামের জন্মস্থান যে ওই বিতর্কিত স্থানেই, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণের দাবি তুলেছিলেন ধাওয়ান। রায় নিয়ে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন।

ভেবেছিলেন, তিনিই জিতবেন। কিন্তু, তাকে হতা’শ হতে হয় রায়ে। নতুন সরকার আসে, আর ইতিহাস পাল্টানোর খেলা কেন শুরু হয়ে যায়, প্রশ্ন তুলেছিলেন এই লড়াকু আইনজীবী।রাজীব ধাওয়ান বেশ কিছু বইও লিখেছেন আইন নিয়ে।

এর মধ্যে Juristic Techniques in the Supreme Court of India 1950-1971 in Some SelectedAreas of Public and Personal Law, The Supreme Court of

India and parliamentary sovereignty: a critique of its approach to the recent constitutional crisis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সারা জীবন ইনসাফের জন্য লড়াই করেছেন।

কিন্তু শেষ পর্বে এসে হয়তো তাকে হতাশ হতে হয়েছে। তিনি হেরে গিয়েছেন। কিন্তু, ভারতের গৌরবময় সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারেনি। বাবরি মসজিদের জন্য লড়েছিলেন রাজীব ধাওয়ান নামের এক হিন্দু- ইতিহাস সেটা অবশ্যই মনে রাখবে।