ফিলিস্তিনিরা রক্ত দিয়ে প্রথম কিবলা আল-আকসা রক্ষা করছে: আয়াতুল্লাহ

ইরানের বিশিষ্ট আলেম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মাদ আলী বলেছেন, ফিলিস্তিনি জাতি তাদের রক্ত দিয়ে মুসলমানদের প্রথম কিবলা ও এর ঐতিহাসিক শহর কুদসকে রক্ষা করছে। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর মুসলমানদের প্রথম কিবলা কুদস ও

ফিলিস্তিনকে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ব-ইসলামী জাগরণ ও বিশ্ব-জনমত গড়ে তোলার জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনীর আহ্বানে-

রমজানের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব-কুদস দিবস ঘোষণা করা হয়। ৩১ মে বা ২৬ রমজান ইরানসহ সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ বিশ্ব-কুদস দিবসের বিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে।

ইরাকের সাদ্দাম-বাহিনীর দখল থেকে খুররম শহর মুক্ত করার বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি তেহরানের জুমা নামাজের খোতবায় তিনি বলেন, খুররম শহর ইরানি জাতির প্রতিরোধ, সাহস ও আত্মমর্যাদাবোধের প্রতীক।

৫৭৮ দিন ইরাকের সাদ্দাম-বাহিনীর দখলে থাকার পর ১৯৮২ সালের ২৪ মে ইরানি প্রতিরোধ যোদ্ধারা এই শহরটি মুক্ত করতে সক্ষম হয়। আয়াতুল্লাহ কেরমানি বলেছেন, খুররম শহরকে মুক্ত করার ব্যাপারে ইরানি মুজাহিদদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও-

সাধনা বিশ্বের সমর বিশেষজ্ঞদের হতবাক করে দিয়েছিল। তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব রমজানের শেষ শুক্রবারে বিশ্ব কুদস-দিবস উপলক্ষে বলেন, এই দিবস মুসলিম জাতিগুলোর ঐক্য, ইচ্ছা ও ফিলিস্তিনের মজলুম জাতির প্রতি সহায়তার প্রতীক।

উগ্র হিন্দুত্বের লাভ দেখতে গিয়ে শেষে মাইনকার চিপায় পড়েছে বিজেপি’

ভারতের আসাম রাজ্যে আজ শনিবার জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তথা এনআরসি প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার বাংলা সংস্করণে পার্থ প্রতীম মৈত্রের আসাম এনআরসি:

উৎকণ্ঠার অবসান নাকি উৎকণ্ঠার সূত্রপাত? শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এখানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। আজ ৩১ অগাস্ট, দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান। অথবা আজ ৩১ অগাস্ট, দীর্ঘদিনের জন্য উৎকণ্ঠার শুরু।

আজই প্রকাশিত হয়েছে এনআরসি বিষয়ক শেষ বা আপাতত শেষ সংযোজন এবং বিয়োজন তালিকা। গত ৩০ জুলাই, ২০১৮-য় যে পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় একচল্লিশ লক্ষ মানুষের নাম তালিকাচ্যুত ছিল।

এরপরেও হঠাৎ অনাগরিক হয়ে যাওয়া চল্লিশ লক্ষ মানুষের ক্রোধ এবং ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়নি। যে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় সরকার বাধ্য হয়েছিল তালিকা প্রকাশের অব্যবহিত আগে ঘোষণা করতে যে,

এই তালিকায় নাম না থাকা মানেই ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যাওয়া নয়। এরপরও অনেক সুযোগ থাকবে তালিকায় নাম তোলার। নাম ওঠেনি অথবা উঠলেও কেটে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় মৃতবৎ জীবিত রয়েছেন আসামের মানুষ,

বিশেষত নিম্নবর্গের মানুষ, যারা এই কর্মযজ্ঞের যূপকাষ্ঠের বলি। অতএব মানুষ আতঙ্কিত হলেও, চূড়ান্ত বিক্ষুব্ধ হলেও, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, তার কারণ ক্লেইমস অ্যান্ড অবজেক্টিভস বলে একটি পর্যায় অবশিষ্ট ছিল,

যেখানে তারা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে পারেন। পাশাপাশি, যাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের নামের বিরুদ্ধেও অবজেকশন জানানোর জন্য হাজির থেকেছে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী,

যারা এই তথাকথিত বিদেশীর সংখ্যাকে পঞ্চাশ লক্ষের ওপরে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। ফলে যে উৎকন্ঠা নিয়ে এতদিন অপেক্ষা করেছেন আসামের মানুষ, সেই উৎকন্ঠার এবার অবসান হওয়ার কথা।

কিন্তু ভারতবর্ষের রাজনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কোন ইস্যুরই চূড়ান্ত সমাধান হয়ে যায় না। কিছুদিন পরপর ঘুরে ফিরে সেই ইস্যুটিকে খুঁচিয়ে তোলা হয়। নাগরিক চিহ্নিতকরণের চূড়ান্ত পর্যায়েও

প্রকৃত ভারতীয় এবং প্রকৃত বিদেশির মধ্যে একটি বড় অন্তর রয়েছে, তার নাম বিচার ব্যবস্থা। যে বিচার ব্যবস্থার সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এনআরসির কার্য সম্পন্ন হচ্ছে।

আপাতত আজকের তালিকায় যাদের নাম অপ্রমাণিত ভারতীয় বা অনাগরিক হিসাবে চিহ্নিত হবে, তারা এক শ’ কুড়ি দিনের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

ট্রাইব্যুনালের কথায় পরে আসছি। কিন্তু শাসক দল বিজেপি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মুখপাত্ররা হঠাৎ অতি উৎসাহী হয়ে যাতে প্রকৃত ভারতীয়ের নাম বাদ না পড়ে, তার জন্য উৎকন্ঠিত।

সংবাদ সম্মেলন করে তারা এও জানাচ্ছেন যে প্রতীক হাজেলার অদক্ষতার এবং অপরিণামদর্শিতার জন্য ত্রুটিমুক্ত তালিকা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বিজেপির বক্তব্য,

এই তালিকা থেকে এমন অসংখ্য মানুষ বাদ গেছেন যারা প্রকৃত ভারতীয়, এবং অসংখ্য নাম রয়েছে যেগুলি প্রকৃত বিদেশি। ফলে এই মুহূর্তে ত্রুটিমুক্ত নাগরিকপঞ্জি আশা না করাই ভালো। বিজেপির আরো বক্তব্য যে ৪০ লক্ষ তালিকাচ্যুত মানুষের মধ্যে ৩৬ লক্ষ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

বাকি যে চার লক্ষ আবেদন করেননি, তারা হয় ক্লেইমসের বিষয়টি বুঝতে পারেননি, অথবা তারা প্রকৃত বিদেশি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন করে আবেদন জানাননি। মনে হতে পারে, কে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন জানাননি আর কে বোঝার অক্ষমতার জন্য,

তা কী করে বোঝা যাবে? বিজেপির কাছে এ সমস্যা জলবৎ তরলং। যারা হিন্দু, তারা প্রকৃত ভারতীয় আর মুসলিম, মানে বাঙালি মুসলিমরা হলেন বিদেশি। আসলে উগ্র হিন্দুত্বের লাভ দেখতে গিয়ে বিজেপি পড়ে গেছে ‘মাইনকার চিপায়’।

এনআরসিবিষয়ক যে অঙ্কটি কষতে ভুল করেছিল বিজেপি তা হলো, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিভাজনের সমস্যা শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, ভাষারও। ফলে এক ভাষাভাষীর লোকের সঙ্গে অন্য ভাষাভাষী-

লোকের বৈরিতা এনআরসির ডাটা ভেরিফিকেশনের সময় বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ধরেই নেওয়া হয়েছে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে মূলত বিদেশিরা আসামে প্রবেশ করেছেন এবং

তারা মূলত বাঙালি, ফলে বাঙালি পরিচিতি দেখলেই এক ধরনের সন্দেহপ্রবণতা এনআরসি সেবা কেন্দ্রগুলির সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিরূপ মনোভাব হিসেবে কাজ করেছে।

ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রেও তাই। এবং এই যে আজ খিলঞ্জিয়া স্বার্থরক্ষার প্রেক্ষাপটে আসাম চুক্তির ধারা বিশেষের প্রসঙ্গ উঠছে, সেটিও মূলত এই কারণেই। আসামের মূল দ্বন্দ্ব ছিল ভাষাগত বৈরিতা।

যখন থেকে আরএসএস আসামে ক্রিয়াশীল হয়েছে, তখন থেকে খুব ধীরে ধীরে এটি ধর্মীয় বিভাজনের দিকে পাশ ফিরে শুয়েছে। কিন্তু ভাষাগত বৈরিতার জায়গাটি থেকেই গেছে। এনআরসি ঝাড়াই

-বাছাই এর সময় মূলত মুসলিম জনসংখ্যাই বাদ পড়বে সবচেয়ে বেশি, বিজেপির এই অনুমান সম্ভবত বুমেরাং হতে চলেছে। অধিকাংশ না হোক, একটা বড় সংখ্যক হিন্দু নাম তালিকাচ্যুত হতে চলেছে, এটা তাদেরও আশঙ্কা।

এই হিসেবের গরমিল তারা এনআরসি প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি সময় থেকে বুঝতে পারে। ফলে বিকল্প হিসেবে তারা ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ আনার প্রলোভন দেখায়, যেটি আবার অসমিয়া-

জাতিসত্তার কাছে প্রতারণা বলে মনে হয় এবং তারা এর সার্বিক বিরোধিতায় নেমে পড়ে। তবু ২০১৪ সালকে ভিত্তি বর্ষ ধরে বৃহত্তর হিন্দু ধর্মসম্প্রদায় যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে এই দেশে প্রবেশ করেছেন,

তাদের এই দেশেই নাগরিকত্ব বিধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়। যদিও লোকসভায় পাশ করার পর, রাজ্যসভায় সে বিল আর তোলাই হলো না। ‘সিটিজেনশিপ আমেন্ডমেন্ট বিল,

২০১৬’, যেটি লোকসভায় পাশ করা হয়েছিল, সেখানে কিন্তু নাগরিকত্ব বিধানের কোনো সহজ পন্থার কথা বলা ছিল না। বিলে শরণার্থী হিন্দুদের ধরে বিতাড়িত করে দেয়া হবে না, বিলে শরণার্থী হিন্দুদের ধরে বিতাড়িত করে দেয়া হবে না।