ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ইসরাইলের তাণ্ডব

ফিলিস্তিনি কবরস্থানে ইসরাইলের তাণ্ডব
এবার জেরুজালেমে একটি মুসলিম কবরস্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ওই কবরস্থানে সোমবার (১৪ অক্টোবর) অবৈধভাবে অভিযান পরিচালনা করে তারা।

মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, জেরুজালেম পৌরসভার ইহুদি কর্মকর্তা এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীসহ বুলডোজার দিয়ে জেরুজালেমের আল-ইউসুফিয়ে কবরস্থানের দেয়াল এবং উত্তর পাশের সিঁড়ি ভেঙে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা মুসলিম কবরস্থানে ভাঙচুর চালাতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করলেও কর্ণপাত করেনি তারা। কেন ভাঙচুর চালানো হল, এ বিষয়ে তেল-আবিবের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর ১০ দিন আগেও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ একই স্থানে ভাঙচুর চালাতে আসলে ফিলিস্তিনিদের তোপের মুখে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। প্রতিবাদ জানালে কার্যক্রম স্থগিত রাখে।
ইসরাইলি বাহিনী বিভিন্ন সময় পশ্চিম উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে বসতি নির্মাণ করে আসছে। এতে উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলো

তুরস্কে মার্কিন ছোবল: এরদোয়ানের পাশে থাকার ঘোষণা ইরানের

তুরস্কের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপে তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির পাশে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) নিজের টুইটারে বিষয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি।

একই টুইটে জাভেদ জানান, নিষেধাজ্ঞার আসক্তি থেকেই আন্তর্জাতিক আইন-এর প্রতি অবজ্ঞা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনা, ন্যাটোভুক্ত দেশ হয়েও ন্যাটোভুক্ত দেশ নয় এমন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র চুক্তি করার দায়ে (১৪ ডিসেম্বর) তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে তুরস্কের এস-৪০০ সংগ্রহ করার ঘটনা ন্যাটো জোটের নীতির পরিপন্থি এবং এই জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার ঘোষণা করে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের লজিস্টিক ও সমরাস্ত্র খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান সরবরাহের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল।

মার্কিন সরকার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের চেয়ারম্যান ইসমাইল দামির এবং এই শিল্পের আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজারবাইজানে তুর্কি ড্রোনের কাছে আর্মেনিয়ার শোচনীয় পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কের উপর নাখোশ মনোভাব আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ নিষেধাজ্ঞা তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আঙ্কারার সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবেন তার উপরই নির্ভর করছে দু’দেশের অবস্থান।

‘তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন চলমান থাকবে’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প তার উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের (এসএসবি) প্রধান ইসমাইল দেমির।

রাশিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশ কেনার কারণে ওয়াশিংটনের দেয়া অবরোধের প্রেক্ষিতে ইসমাইল দেমির বলেন, ‘দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন চলমান থাকবে এবং তা আগের চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে। বরং এ পদক্ষেপটি জ্বলে উঠা ও সতর্কতা হিসেবে প্রতিফলিত হবে।

পার্লামেন্টে দেয়া বাজেট বক্তৃতার পর সাংবাদিকদের দেমির আরো বলেন, ‘আমরা আশা করবো, এতে আমাদের সম্পর্কে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গত সোমবার রাশিয়া থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের উপর অবরোধ আরোপ করে।

দিমির ও অপর তিনজন কর্মকর্তাসহ এসএসবিকে লক্ষ করে কাউন্টারিং আমেরিকা’স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্টের (সিএএটিএসএ) আওতায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ন্যাটো সদস্যপদের কথা উল্লেখ করে দেমির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আঙ্কারার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক রয়েছে। উভয় পক্ষই এ সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার দীর্ঘ চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে ২০১৭ সালের এপ্রিলে তুরস্ক এস-৪০০ কেনার জন্যে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন এই বলে যে, এটা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে মানানসই না। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের এফ-৩৫ জেটের অনেক কিছু রাশিয়ার কাছে চলে যাবে।

তবে তুরস্ক বলছে, এস-৪০০ ন্যাটো ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত হবে না, এবং এটা ওই জোট ও তার অস্ত্রশস্ত্রের জন্য কোনো হুমকি হবে না।

সূত্র: ইয়েনি সাফাক