হামাস; ধর্মভিত্তিক দল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের কণ্ঠস্বর

আরববিশ্বে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয় ১৯৮৭ সালে । ইন্তিফাদা নামের সেই সময় শুরু হওয়া গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরের বছর হামাসের আত্মপ্রকাশ। ধর্মভিত্তিক সংগঠনের পরিচয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাদের।

হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্র ছিল ইহুদি বিদ্বেষে ঠাঁসা। তবে ফিলিস্তিনি জনতার জাতিসত্তার বোধ জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা জোরালো করে তুলতে শুরু করার পর, সেই পরিস্থিতির সমান্তরালে বদলে যেতে থাকে হামাস। এক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি মুক্তির সংগ্রামই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান অঙ্গীকার।

ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের শরিক হওয়ার পর ২০০৬ সালের নির্বাচনে জনতার নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনেও সমর্থ হয়েছিল হামাস। সোমবার নতুন রাজনৈতিক দলিল প্রকাশ করতে গিয়ে আরও কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় তারা।

এর অন্যতম হলো, ঘোষণাপত্রে থাকা ইহুদি বিদ্বেষ থেকে সরে আসা। পাশাপাশি ৬৭’র সীমানা মেনে রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছে হামাস। তাদের ঘোষণাপত্রে মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ ছিল। পূর্বেই ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করলেও, এবারের নতুন রাজনৈতিক দলিলে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে হামাস।

প্রথম ইন্তিফাদার সময়ে হামাসের প্রাথমিক ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ‘ইসরায়েলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করাটাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য।’ সেই সঙ্গে ইসলাম ও ইহুদী ধর্মের বিরোধকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে এটিকে মতাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। ধর্মবাদী চেতনার আলোকে এক সংগঠন গড়ার কথা বলা হয়েছিল ওই ঘোষণাপত্রে।

মূলত দ্বিতীয় ইন্তিফাদা, বা আল আকসা ইন্তিফাদার সময়কালে (২০০০–২০০৫) হামাসের রাজনীতিতে এক বিশেষ রূপান্তর ঘটতে শুরু করে। এ সময়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতাদর্শিক অবস্থানকে ছাপিয়ে যায় ফিলিস্তিনের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন। সেই আন্দোলনের প্রতি নিজেদের অঙ্গীবকার জানিয়েই রাজনৈতিকভাবে হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল হামাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবদেল আজিজ আল–রানতিসি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত দায়িত্বে আসেন খালেদ মেশাল। একই বছর ১১ নভেম্বর ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট ফাতাহ নেতা ইয়াসির আরাফাতের জীবনাবসানের পর প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও) জনভিত্তি হারাতে থাকে।

মূলত, ১৯৯৩ সালের ‘অসলো চুক্তি’র বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে ফিলিস্তিনে ফাতাহ ও পিএলওর জনসমর্থন কমে আসতে থাকে। আরাফাত পরবর্তী যুগে পিএলও যখন রাজনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, ঠিক সেই সময়ে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ও প্রতিরোধ আন্দোলনের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয় হামাস।

ফিলিস্তিনে ২০০৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় তারা। তবে সরকার গঠনের পরপরই ইসরায়েল তাদের মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আরাফাত-পরবর্তী মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহও হামাসের সরকারে যোগদান থেকে বিরত থাকে।

ফাতাহ হামাসের ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের আহবান প্রত্যাখ্যান করার পর রাজনৈতিক বিভেদ সহিংসতায় রূপ নেয়। পশ্চিম তীরে ফাতাহ তাদের পৃথক সরকার ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখে। অপরদিকে, অবরুদ্ধ গাজা থাকে হামাসের নিয়ন্ত্রণে।

এরপর হামাস ও ফাতাহ বহুবার জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠায় সম্মত হলেও তা বাস্তব হয়নি। তবে খালেদ মেশাল রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসার পর থেকেই হামাস তার পূর্ববর্তী উগ্র ধর্মবাদী চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রশ্নেও নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করতে শুরু করে তারা। ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং হামাসের অন্যতম প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়াহ বলেন, ‘হামাস ১৯৬৭ সালের সীমানাসহ ইসরায়েলের সাথে দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে রাজী আছে।’

২০১০ সালে হামাসের প্রধান রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশাল বলেন, “‘হামাস চার্টার’ (হামাসের ঘোষণাপত্র) এক ইতিহাসের অংশ, কিন্তু তা এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কিছু নয়। হামাস যখন থেকে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাকেই প্রধান বলে মনে করেছে, তখন থেকেই ঘোষণাপত্র থেকে সরে এসেছে।”

২০১৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে খালেদ মেশাল বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় এই আলোচনা অর্থহীন। আমরা উগ্র হত্যাকারী নই। আমরা আসলে ইসরায়েল-বিরোধীও না।

তাদের দখলদারিত্বের বিরোধী। এর অবসান ঘটাতে পারলে আমরা আমাদের নীতি–মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করব। সেই নীতি ও মূল্যবোধ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং বহির্বিশ্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

২০১৪ সালের জুলাইয়ে খালেদ মেশাল বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। তবে সেক্ষেত্রে ইসরায়েলের ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে। আলোচনার কথা বলে আগ্রাসন চালালে সেটি তো মেনে নেওয়া যায় না।’

ওই সাক্ষাঃকারে দ্বি-রাষ্ট্র সমধান মেনে নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন মেশাল। “মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও হাতে গোনা কয়েকটি পশ্চিমা রাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থনে ইসরায়েল আজ ‘মধ্যপ্রাচ্যের বখে যাওয়া সন্তানে’ পরিণত হয়েছে। ইসরায়েল আজ কাউকে মানছে না, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন মিশনে বড় রকমের ফাঁকফোকর রয়েছে। ২০০৯ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত দূর করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবাম যে রোডম্যাপের বিষয়ে কথা বলেছিলেন, তাও মানতে নারাজ ইসরায়েল। মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না।”

২০১৪ সালের জুলাইয়ে সিবিএস চ্যানেলে আরেক সাক্ষাৎকারে মেশাল বলেন, ‘আমরা গোঁড়ামীবাদী নই, আমরা মৌলবাদী নই। আমরা প্রকৃতপক্ষে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে লড়াই করছি না। আমরা অন্য কোনও বর্ণের বা জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি না, আমরা লড়াই করছি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।’

মেশালের বক্তব্যে উঠে আসা হামাসের রাজনৈতিক ওই বদলগুলোস এবার প্রথম বারের মতো রাজনৈতিক দলিলে স্বীকৃত হলো।

হামাসের নতুন রাজনৈতিক দলিলে স্পষ্ট করে বলা হয়, হামাসের লড়াই জায়নবাদের বিরুদ্ধে। তা ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নয়। সেখানে বলা হয়, ‘যে জায়নবাদী ইসরায়েলি নাগরিকরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করছি আমরা।’ নতুন দলিলে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘হামাস একটি স্বতন্ত্র সংগঠন।’

খালেদ মেশাল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে হামাসের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, ‘নতুন নীতিতে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও সুযোগ রাখা হয়নি। তবে আমরা ১৯৬৭ সালের ৪ জুন যে সীমান্ত নির্দেশ করা হয়েছিল, তার ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে আগ্রহী। যার রাজধানী হবে জেরুজালেম, আর সব শরণার্থী ফিরে পাবে তাদের নিজ নিজ ঘর ফিরে পাবে।’

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, ইনডিপেন্ডেন্ট, সিবিএস, সিএনএন

আজারবাইজানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব এবং লড়াইয়ে আমাদের ভাইদের সাথে থাকবাে: এরদোগান

আজ রোববার আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে এদিন এক ফেবু বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং জনগণকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।

তিনি তার ফেজবুক পেজে বলেন, প্রিয় ভাই, প্রিয় বন্ধু আজারবাইজানের ১৮ অক্টোবর
স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

একটি জাতির ধারণা নিয়ে আমরা
আজারবাইজানকে সব এলাকায় সমর্থন অব্যাহত রাখব এবং দেশের লড়াইয়ে আমাদের ভাইদের সাথে থাকবাে।

আজ রোববার আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে এদিন এক ফেবু বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং জনগণকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।

আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবসে ইমরান খানের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

আজ রোববার আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে এদিন এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং জনগণকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাশাপাশি তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিতর্কিত নাগরোনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যকার সঙ্ঘাতের কথা উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘আমরা আজেরি বাহিনীকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাব অনুসারে নাগারনো-কারাবাখ ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান আজারবাইজানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।’

নাগরোনো-কারাবাখ আজারবাইজানের একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা যেখানে প্রধানত জাতিগত আর্মেনীয়রা বসবাস করে। তাদের বেশিরভাগই ইয়েরেভানকে সমর্থণ করে। এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

শনিবার আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা মধ্যরাত থেকে ‘মানবিক সমঝোতা’ ঘোষণা করবে। যুদ্ধরত দুই পক্ষের জন্য এটি যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা।

গত শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন এবং মস্কোতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ‘কঠোরভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তার’ কথা তুলে ধরেন। এর পরেই সমঝোতার ঘোষণা আসে।

এ বিষয়ে রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, ‘পাকিস্তান আরও মানবিক সংকট রোধে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সম্মত মানবিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক উন্নয়ন।

আমরা আশা করি যে, দুই পক্ষই এই চুক্তির প্রতি স্মআন জানাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে, দু’পক্ষের মধ্যে টেকসই শান্তি জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের রেজুলেশনগুলির সম্পূর্ণ ও ব্যাপক প্রয়োগ এবং আজারবাইজানীয় অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়ান বাহিনী প্রত্যাহারের উপর নির্ভর করবে।’

এর আগে, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল প্যাসিনায়ন দাবি করেছিলেন যে, পাকিস্তানি বিশেষ বাহিনী আজারবাইজান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি লড়াই করছে। শনিবার পাকিস্তান এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও অযাচিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র দফতর আর্মেনিয়ার নেতৃত্বকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচার’ বন্ধ করতে এবং আজারবাইজানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সমর্থন দেয়ার কথা বলেছিল। সূত্র: ডন

কোয়ারেন্টাইনে পুরো কুরআন মুখস্ত করলেন ৬ বছরের হুনাইন

মাত্র ৬ বছরের কন্যা শিশু হুনাইন মুহাম্মাদ হাবিব। আলহামদুলিল্লাহ! এ ছোট্ট বয়সে পুরো কুরআনুল কারিম হেফজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিন বছর বয়স থেকে কুরআনুল কারিম পড়া শুরু করলেও মহামারি করোনার সময়ে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থেকেই সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেছেন হুনাইন।

কুরআন নাজিলের দেশ সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাসকারী কন্যা শিশু হুনাইন মুহাম্মাদ হাবিব। অল্প বয়সে কুরআন মুখস্ত করেছেন তিনি। মাত্র ৬ বছরেই সম্পন্ন করেছেন কুরআনুল কারিমের হেফজ।

তার কুরআন মুখস্ত সম্পর্কে তার মা জানান- ‘হুনাইন কুরআনুল কারিম হেফজ সম্পন্ন করবে, এটি ছিল তার একান্ত আশা। সে হিসেবেই তিন বছর বয়স থেকে হুনাইনকে কুরআন শেখানোর কাজ শুরুকরেন তিনি।’

প্রথমে দুই বছর বয়স থেকেই কুরআনুল কারিমের ছোট ছোট সুরা মুখাস্ত করাতে শুরু করি। যখন হুনাইনের বয়স তিন বছর হয় তখন থেকে তাকে নিয়মিত কুরআনুল কারিম মুখস্ত করার ক্ষেত্রে বাড়িতেই সময় দেয়া শুরু করেন বলেও জানান হুনাইনের মা।

بعمر 6 سنوات تروي قصة رحلتها مع ختم كتاب الله pic.twitter.com/32kKrpWIlE

— جمعية مكنون لتحفيظ القرآن بالرياض (@quraan_qk) October 12, 2020
তিনি আরও বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন থাকতে হয়েছে। এই সময়টি হুনাইনের জন্য পুরো কুরআন মুখস্ত করতে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আর তাতে মাত্র ৬ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার সৌভাগ্য অর্জন করে।

الطفلة حنين ذات الـ 6 سنوات تتمكن من حفظ القرآن الكريم كاملاً في إحدى المدارس التابعة لجمعية تحفيظ القرآن الكريم بالرياض.

– pic.twitter.com/GZ9kmdAVOF

— أخبار السعودية (@SaudiNews50) October 12, 2020
৬ বছরের হুনাইন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ‌‘মাকনুন’ নামক একটি স্কুলে পড়া লেখা করে। স্কুলটির কুরআন হেফজ সেন্টারের নিয়মিত ছাত্রী ছিল হুনাইন। লকডাউনের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থেকে মায়ের সহযোগিতায় পুরো কুরআন মুখস্ত করেন হুনাইন।

৭ মাস পর নামাজের জন্যে খুলে গেল মসজিদুল হারামের দরজা

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর নিজ দেশের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশিদের মসজিদুল হারামে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে।

মহামারির কারণে মার্চ থেকে পবিত্র এ স্থানটিতে সীমিত আকারে নামাজ আদায় চললেও জামাত বন্ধ আছে। এতদিন সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করার অনুমতি ছিল না। শুধু ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের কর্মচারীরা সেখানে নামাজ আদায় করতে পারতেন।

১৭ মার্চ এক ঘোষণায় সৌদি সরকার মক্কা ও মদিনার প্রধান দুই মসজিদ ছাড়া দেশটির বাকি সব মসজিদে জামাতে নামাজ স্থগিত করে নির্দেশ জারি করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরে এ দুটি মসজিদেও জামাতে নামাজ আদায় বন্ধ করা হয়।

৪ অক্টোবর প্রথম ওমরাহ যাত্রীদের জন্য মসজিদুল হারামের দুয়ার খুলে দেয়া হয়।
সৌদি আরবে রোববার পর্যন্ত ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৪ জনের মধ্যে মহামারির সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ জনের।

বিশ্বের সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্বাভাবিক হয়ে গেল

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে গোটা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

এ ঘটনাকে ইরানসহ আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ অভিহিত করে আজ সকালে এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে বিশ্ব আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।

জারিফ তার টুইটার বার্তায় আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন; কারণ এই দিনে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব রক্ষা করেছে।”

এদিকে ভিয়েনায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ইরানের সমরাস্ত্র কেনাবেচার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। কাজেই এখন থেকে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে সমরাস্ত্র লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞার অজুহাত তুলতে পারবে না।

এর আগে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ব্যাপারে আজ ভোর রাতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ (১৮ অক্টোবর) থেকে ইরান কোনো আইনগত বাধা ছাড়াই যেকোনো দেশের কাছ থেকে নিজের প্রয়োজনমতো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে এবং যেকোনো দেশের কাছে বিক্রি করতে পারবে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ইরান-বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে