আরব বিশ্বের বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষীণ হচ্ছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন

সবশেষ আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছে বাহরাইন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এ কথা জানান। ট্রাম্প প্রশাসন এ নিয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা জানায়।

শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর যৌথ বিবৃতি দিয়ে চুক্তিতে উপনীত হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন ও ইসরায়েল। ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে এক মাসে আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক মাস না পেরোতেই উপসাগরীয় দ্বিতীয় দেশ এবং মিসর, জর্ডান ও আমিরাতের পর আরব বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিল বাহরাইন।

ট্রাম্প বলেছেন, হোয়াইট হাউসে ১৫ সেপ্টেম্বর আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাহরাইনও যোগ দেবে। অথচ দশকের পর দশক ধরে আরব দেশগুলো ইসরায়েলকে বয়কট করে আসছিল। ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান হলেই কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হতে পারে, এমন ইঙ্গিত ছিল এসব দেশের।

মিসর ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে ইসরায়েলের হয়ে মাঠে নেমেছে তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমানসহ অন্যান্য দেশও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

মার্কিনপন্থী এবং সৌদি বলয়ভূক্ত হিসেবে পরিচিত দেশগুলো ছাড়াও আরব বিশ্বের এসব মিত্র দেশের বিরোধীরাও বাহরাইন-ইসরায়েলের কথিত এই শান্তি চুক্তি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে ফিলিস্তিনের পক্ষের দেশগুলো নিন্দা জানালেও বাকিরা একে স্বাগত জানিয়েছে।

আমিরাত-ইসরায়েল শান্তি চুক্তির সময় ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী দ্য প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) একে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছিল, এটা ফিলিস্তিনের মানুষের পিঠে ছুরিকাঘাত। পিএলও এখন বলছে, বাহরাইন-ইসরায়েল চুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর আরেকটি বিশ্বাসঘাতকতার ছুরিকাঘাত।

তবে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এর আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী অপর তিন আরব দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর এবং জর্ডান। আমিরাত বলছে, ইসরায়েল-বাহরাইন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে শান্তি ও পারস্পরিক সহযোহিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাদের বিশ্বাস।

ইসরায়েল এবং বাহরাইন দ্বি-পাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুর স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাবে।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই অঞ্চলে সুষ্ঠু ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলের দিক থেকে আসা উচিত। ইসরায়েলের উচিত দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে দুর্বল করে তাদের নেয়া এমন প্রক্রিয়াগুলো এবং ফিলিস্তিনের জমির অবৈধ দখল বন্ধ করা উচিত।

তবে আরব বিশ্বের মোড়ল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব বাহরাইন-ইসরায়েল চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেনি। আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাত্র দুই দিন পর ইসরায়েল-বাহরাইন চুক্তির ঘোষণা আসলো। ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে ইসরায়েল-আমিরাত চুক্তির নিন্দাও জানানো হয়নি।

চুক্তির পরপরই ইরান এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাহরাইন এখন থেকে ইসরায়েলের অপরাধের অংশীদার হয়ে গেল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘বাহরাইনের শাসকরা এখন থেকে এই অঞ্চল ও ইসলামের সুরক্ষার নিয়মিত হুমকি হিসেবে ইহুদিবাদী একটি সরকারের অপরাধের অংশীদার হবেন।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের বিবেকবান মানুষ এবং মুসলমানেরা কখনোই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকে মেনে নেবে না। পারস্য উপসাগরে ইসরায়েল কোনো অনিরাপত্তা সৃষ্টি করলে এর সম্পূর্ণ দায় বাহরাইনসহ ইসরায়েলের সহযোগী দেশগুলোকে বহন করতে হবে।

ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাহরাইনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষার চেষ্টায় এটা এক নতুন আঘাত। ফিলিস্তিনে আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া এবং ফিলিস্তিনের ভূমি দখল স্থায়ী করতে ইসরায়েলে অবৈধ প্রচেষ্টাকে এটি আরও উৎসাহিত করবে।’

ফিলিস্তিনি-কাশ্মীরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিলুপ্ত করতে ইসরাইলি-ভারতের চক্রান্ত

বৃহস্পতিবার একটি অনলাইন সেমিনারে ফিলিস্তিনি ও কাশ্মীরি জনগণের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিলুপ্ত করার ইস্রায়েলি ও ভারতীয় প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

কাশ্মীর প্যালেস্টাইন: আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংস শীর্ষক এই সম্মেলনটি মধ্য প্রাচ্য ও আফ্রিকা (সিএমইএ) এবং মধ্য প্রাচ্যের মনিটরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আজাদ কাশ্মীরের রাষ্ট্রপতি সরদার মাসউদ খান, প্যালেস্তাইন ল্যান্ড সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি এবং আটককৃত জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জে কেএলএফ) চেয়ারম্যান মুশাল হুসেন মল্লিকের স্ত্রী সহ বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি ও কাশ্মীরি রাজনীতিবিদ ও নেতাকর্মীরা সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনি ও কাশ্মীরিরা তাদের আলোচনায় সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সরদার মাসউদ খান বলেন, জাতিসংঘ উভয় পরিস্থিতিতে গণহত্যার, বৈষম্যের শিকার হওয়া এবং স্ব-রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্ছিতদের জন্য দায়িত্ব পালন করেনি।

সিএমইএর পরিচালক আমিনা খান বলেছেন, ফিলিস্তিনি এবং কাশ্মীরিরা উভয়ই সবচেয়ে দীর্ঘ ও মারাত্মক পরিস্থিতিতে বাস করছে এবং দখলদাররা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে তাদের সংগ্রামকে অমানবিক করতে চাইছে।

সালমান আবু সিত্তা বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের বিরুদ্ধে উপনিবেশিক যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে: জমি দখল ও দখল করার জন্য সামরিক অভিযান, মতবিরোধকে পীড়িত করা, রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যবহার করে তাদের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে,

মানচিত্র সংশোধন করে ভৌগোলিক যুদ্ধ, ফিলিস্তিনের ইতিহাসকে বিলুপ্ত করার সাথে জড়িত ঐতিহাসিক যুদ্ধ , সাংস্কৃতিক স্থান ধ্বংস করার প্রত্নতাত্ত্বিক যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের পবিত্র স্থান থেকে বহিষ্কারের জন্য ধর্মীয় যুদ্ধ, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মানহানি, আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে।

মাহমুদ হাওয়ারি বলেছেন, ইস্রায়েল এবং ভারত তাদের সংস্কৃতি জীবনের সকল দিককে লক্ষ্য করে আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করার এবং প্রত্নতত্ত্বের অপব্যবহারের চেষ্টা করেছে।

ইটের বদলে পাটকেল, আমেরিকার সমস্ত কূটনীতিকের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা চীনের

চীনের মূলখণ্ড ও হংকংয়ে নিযুক্ত আমেরিকার সমস্ত কূটনীতিকের ওপরে পাল্টা বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়।

এর আগে আমেরিকা চীনা কূটনীতিকদের ওপর নানা রকমের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

চীনা মন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট করে বলেনি যে, মার্কিন কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন এবং হংকংয়ে যে দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসগুলো রয়েছে সেখানে কর্মরত সমস্ত মার্কিন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চীনা কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে আরোপিত ব্যবস্থা প্রত্যাহার করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে মার্কিন দূতাবাস এবং হংকংয়ের কনসুলেট জেনারেলসহ সমস্ত কনস্যুলেট অফিসে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কয়েক দফায় মার্কিন সরকার চীনা কূটনিনীতিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে চীন এবং আমেরিকার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

উত্তর কোরিয়ায় করোনা হলে গুলি করে হত্যার নির্দেশ!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব, তখন চীন থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নতুন পন্থা বের করল উত্তর কোরিয়া। দেশটিতে করোনা হলেই গুলি করে হত্যা করা হয়- এমন বিস্ফোরক তথ্য সামনে আন 00ক্ষিণ কোরিয়ার মার্কিন কমান্ডার রবার্ট আব্রাহাম।

তিনি দাবি করেন, সংক্রমণ রুখতে করোনা আক্রান্তদের গুলি করে মারছে পিয়ংইয়ং।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাট্রেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ আয়োজিত একটি অনলাইন কনফারেন্সে অংশ নেন আব্রাহাম।

তিনি বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এক মর্মান্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করছেন উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারি শাসক কিম জং উন।

করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির চিকিৎসার বদলে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর জন্য একটি বিশেষ বাহিনীও তৈরি করেছে কিমের দেশ। তারাই করোনা আক্রান্তকে গুলি করে হত্যার দায়িত্বে রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশ উত্তর কোরিয়া। তাদের একমাত্র সহযোগী দেশ প্রতিবেশী চীন। সেদেশ থেকেই প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশ সামগ্রী আমদানি করে পিয়ংইয়ং।

কিন্তু করোনা ঠেকাতে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই চীন সীমান্ত বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া। জুন মাসে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলেও সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমে ঘোষণা করা হয়।

এর পাশাপাশি চীন সীমান্তের ২ কিলোমিটার আগে নতুন বাফার জোন তৈরি করা হয়। এর ফলে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে জিনিসপত্রের দামে।

সূত্র: জিনিউজ, ব্যাংকক পোস্ট