গুগল ম্যাপে ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে আনতে ১০ লক্ষ মানুষের গণস্বাক্ষরের স্মারক প্রেরণ

ফিলিস্তিনকে গুগল ম্যাপে ফিরিয়ে আনতে জায়ান্ট ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগলের কাছে একটি আবেদন পত্র ও প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের গণস্বাক্ষর বিশিষ্ট একটি স্মারক প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) ১০ লক্ষ মানুষের গণস্বাক্ষর বিশিষ্ট স্মারক ও আবেদন পত্রটি গুগলের কাছে পাঠানো হয়।

আবেদন পত্রটিতে লেখা ছিল, গুগল ম্যাপে ফিলিস্তিন প্রদর্শিত হয় না। কেন গুগলে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব রাখা হয়নি? অথচ,অবৈধভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন ভূখণ্ডে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের উড়ে এসে জুড়ে বসার পরও তাদেরকে গুগলে দেখানো হচ্ছে।

সেখানে আরো উল্লেখ করা হয়, ম্যাপে ফিলিস্তিনকে বাদ দেওয়া সেদেশের জনগণের জন্য চরম অপমানজনক একটি বিষয়। তাছাড়া ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দখল ও নিপীড়ন থেকে ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করে যাওয়া লাখ লাখ মানুষের উদ্যোমকে এটি (ম্যাপে ফিলিস্তিনকে বাদ দেওয়া) ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ফিলিস্তিনকে গুগল ম্যাপে রাখার গুরুত্বের ব্যাপারে আবেদন পত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুগল ম্যাপে ফিলিস্তিনের উল্লেখ থাকাটা জরুরী। কারণ, বর্তমানে মানুষ একে কোনো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সীমা নির্দেশক মনে করে। তাছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া বিশিষ্টজনেরাও এটিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

আবেদনকারীরা জানায়, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় গুগল নিজেকে অবৈধ ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি জাতিসত্তা নির্মুলের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে ফেলছে।

গুগল ম্যাপে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহবান জানিয়ে আবেদনকারীরা বলেন, ম্যাপে ফিলিস্তিনের নাম স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিনের যতটুকু ভূখণ্ড ইহুদিবাদী ইসরায়েল নিজেদের দখলে নিয়েছে তা এমনভাবে চিহ্নিত করতে হবে যাতে সকলেই বুঝতে পারে যে এটা ইসরায়েল কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত।

সূত্র: ডাব্লিউএএফএ

আরও সংবাদ

৮৬ বছর পর আবারো মসজিদ পরিচয় ফিরে পেল আয়া সোফিয়ানয়া দিগন্ত অনলাইন ২২ জুলাই

৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবেই চালু হচ্ছে আয়া সুফিয়া। ২৪ জুলাই শুক্রবার নামাজের মাধ্যমেই এই নবযাত্রা শুরু হবে।

আশা করা হচ্ছে শুক্রবারের নামাজে দেড় হাজারের মতো মুসল্লি উপস্থিত থাকবেন। যাদের মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) নেতা দেভলেত বেচিলের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে।

১৯৮৫ সালে আয়া সুফিয়া জাদুঘর হিসেবে ইউনোস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তুরস্কের সবচেয়ে দর্শণীয় স্থানের মধ্যে প্রথম স্থানেরই রয়েছে আয়া সুফিয়া।

ইস্তাম্বুলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ৯১৬ বছর টানা চার্চ হিসেবে ব্যবহ্রত হয়েছে। আর ১৪৫৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সাল প্রায় পাঁচশত বছর ধরে মসজিদ হিসেবেই পরিচিত ছিল এটি। এরপর ৮৬ যাবত এটা জাদুঘর হিসেবে পরিচিত ছিল।

গত ১০ জুলাই তুর্কি আদালতের রায়ে ১৯৩৪ সালের তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের জাদুঘরে রুপান্তরিত করার আদেশটি রহিত করার পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে চালু করতে আর কোন বাধা রইল না।

এরপর ১৬ জুলাই তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর এটি মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পরে আয়া সোফিয়া পরিচালনার জন্য সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এই চুক্তির অধীনে দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়া সোফিয়ার সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ তদারকি করবে এবং ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর ধর্মীয় সেবা তদারকি করবে।

এছাড়াও ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি বিনামূল্যে পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।