ফিলিস্তিনি ৬৯ নারী ও কন্যাশিশুকে আটক করেছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনি নারীদেরকে তাদের বসতবাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। ইহুদিবাদী ইসরাইল চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৯ জন ফিলিস্তিনি নারী ও কন্যাশিশুকে আটক করেছে। ফিলিস্তিনের বন্দি বিষয়ক রিসার্চ সেন্টারের মুখপাত্র রিয়াদ আল-আশকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি গতকাল (শনিবার) জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে এক বক্তব্যে বলেন, ফিলিস্তিনি নারীদের আটক করার সময় কোনো বাছবিচার করে না ইসরাইলি সেনারা; এমনকি তারা বৃদ্ধা এবং অসুস্থ নারীদের ধরে নিয়ে যেতেও দ্বিধা করে না।

আল-আশকার বলেন, ফিলিস্তিনি নারীরা যাতে কোনো ধরনের ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ না নেন সেজন্য তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এসব নারীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব।এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইল বিরোধী পোস্ট দেয়ার দায়েও ফিলিস্তিনি নারীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের বন্দি বিষয়ক রিসার্চ সেন্টারের মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে ৪১ ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বাকি ১৬ জন বিনা বিচারে আটক রয়েছেন।

আল-আশকার জানান, ইহুদিবাদী ইসরাইলি কারাগারগুলোতে বর্তমানে চার হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যাদের মধ্যে ১৭০ জন শিশু ও বৃদ্ধ রয়েছেন। সূত্র: পার্সটুডে

কাশ্মীর সীমান্তে পাক সেনাদের হামলায় ৩ ভারতীয় নিহত

ভারতের কাশ্মীর সীমান্তে আবার উত্তেজনা। শুক্রবার রাতে কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার গুলপুর এলাকার কারমারহা সেক্টরে পাক বাহিনীর গুলিতে ৩ ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।

ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ পুঞ্চের কারমারহা সেক্টরে পাক সেনা গুলি ছুঁড়তে থাকে। সঙ্গে মর্টার হামলাও চালায়। এর ফলে কারমারা সেক্টরে তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়।

তিনজনই একই পরিবারের সদস্য। পাক সেনার গুলিতে মহম্মদ রফিক, তার স্ত্রী রাফিয়া ও তাদের ১৫ বছরের ছেলে ইরফানের মৃত্যু হয়েছে। তবে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে পাক সেনাকে পালটা জবাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সারারাত ধরে ওই এলাকায় গুলির লড়াই চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

আরি পড়ুন-বাড়ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা, ভারত-চীন ছাড়াও সীমান্ত সংঘাতে আরও দেশ

করোনাভাইরাস অতিমারীর মধ্যেই বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক! ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতের পর এবার মধ্য এশিয়ার দুই দেশ আজেরবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ-পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে আর্মেনিয়ার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে দুই দেশের সেনার মধ্যে সামরিক লড়াই হয়েছে বলে জানা গেছে।

সেনা, ট্যাংক ও কামান সংঘাতে আজেরবাইজানের মেজর জেনারেল-সহ ১৬ জওয়ান এবং আর্মেনিয়ার চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আজেরবাইজানের বিরুদ্ধে হামলার জেরে পড়শি আর্মেনিয়াকে ‘শাস্তি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ন্যাটো সদস্য টার্কি।

আজেরবাইজান ও আর্মেনিয়া- দু’দেশেরই দাবি, সীমান্তে গোলাবর্ষণের জেরে সাধারণ মানুষও মারা গিয়েছে। এক রাশিয়ান দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজেরবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছে,

আর্মেনিয়া বাড়াবাড়ি করলে, পড়শি দেশের মেটসামোর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে। প্রসঙ্গত, আজেরবাইজানের আশঙ্কা, তাদের মিনগেচভিক জলাধারে আঘাত হানতে পারে আর্মেনিয়া।

মঙ্গলবার রাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তোয়াক্কা না করে আজেরবাইজানের রাজধানী বাকু’র রাস্তায় আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান শত শত মানুষ।

আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টার্কিকে পাশে পেয়েছে আজেরবাইজান। শক্তিশালী টার্কির প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান জানিয়েছেন, আজেরবাইজানকে রক্ষায় পিছপা হবে না আঙ্কারা।

এদিকে, আজেরবাইজান ও আর্মেনিয়ার লড়াইয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল। দুই দেশকেই শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে আমেরিকা ও রাশিয়া। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে দুই দেশকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে নয়াদিল্লিও। কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে দিয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আবেদন করেছে সাউথ ব্লক।

একদা সোভিয়েত ইউনিয়নের (USSR) অংশ থাকা দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বহু পুরনো। দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত নাগোরনো-কারাবাখ এলাকা নিয়ে আজেরবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই এলাকাটি আজেরবাইজানের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসীই আর্মেনিয়ান। ১৯৮৮ সালে নাগোরনো-কারাবাখের স্বশাসিত সরকারকে উৎখাত করেছিল আজেরবাইজান। তারপর থেকেই সেখানকার আর্মেনিয়ানরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিতর্কিত এলাকাকে কেন্দ্র করে ১৯৯২ সালে আজেরবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হয়। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও নাগোরনো-কারাবাখ এলাকার দখল নিয়ে নেয় আর্মেনিয়া। এরপর ২০১৬-তে ফের যুদ্ধ হয় দু’দেশের মধ্যে। আমেরিকা, রাশিয়া এবং ফ্রান্সের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ থামে। চার বছর পর ফের যুদ্ধের প্রস্তুতি দুই পড়শির মধ্যে। সূত্র : এই সময়