আয়া সোফিয়াকে মসজিদ করায় আল আকসা মসজিদের খতিবের অভিনন্দন

বিশ্ববিখ্যাত স্থাপনা তুরস্কের আয়া সোফিয়াকে মসজিদ করায় তুরস্কের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে ফিলিস্তিনের আল আকসা মসজিদের খতিব শায়খ ইকরামা সাবরি।

এক বার্তায় আল আকসা মসজিদের খতিব শায়খ সাবরি বলেছেন, আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করে সত্য প্রতিষ্ঠা করায় পবিত্র নগরী ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসার পক্ষ থেকে তুরস্কের মহান রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়েপ এরদোয়ানকে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা।

এদিকে আয়া সোফিয়াকে পূর্বের মসজিদের রূপে ফিরিয়ে দেওয়ায় ওমানের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আহমাদ বিন হামাদ আল খলিলিও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি ও মুসলিম সমাজকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন আয়া সোফিয়া ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাইজান্টাইন সম্রাজ্যের অর্থডোক্স খ্রিস্টানদের সর্ববৃহৎ গির্জা হিসেবে নির্মাণ করা হয়। তার্কিশ নথি মতে ১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ ইস্তাম্বুল বিজয় করে তা ক্রয় করেন এবং মসজিদ হিসেবে ওয়াকফ করেন।

৪৮১ বছর মসজিদ হিসেবে থাকার পর ১৯৩৪ সালের ২৪ নভেম্বর কামাল আতাতুর্কের মন্ত্রীপরিষদ এটিকে জাদুঘরে পরিণত করে। ৮৬ বছর পর আবার তা মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র: আলজাজিরা

আরও সংবাদ

আয়াসোফিয়া মসজিদ নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের কিসের এতো চিন্তা?

৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া নিয়ে ‘চিন্তিত’ পোপ ফ্রান্সিস।

একসময়ের মসজিদ আয়াসোফিয়াকে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরে তুরস্কের নেয়া সিদ্ধান্তে ‘খুবই কষ্ট’ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান এই ধর্মগুরু এ ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছেন।

ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ভক্তদের উদ্দেশে দেয়া সাপ্তাহিক ভাষণে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘ইস্তাম্বুল নিয়ে আমার চিন্তা হচ্ছে। আমি সান্তা সোফিয়ার চিন্তা করছি এবং আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।’

এর আগে অমুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাও তুরস্কের সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়।

ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চেস হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অর্থডক্স খ্রিস্টানদের আধ্যাত্মিক নেতাদের ইস্তাম্বুলভিত্তিক বৈশ্বিক সংগঠন প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে।

যদিও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগান আয়াসোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।‘

আয়াসোফিয়া মুসলিম, খ্রিস্টান এবং বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানান এরদোগান।

৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়ায় আগামী ২৪ জুলাই নামাজের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কামাল আতাতুর্কের সিদ্ধান্ত বাতিল ও আয়াসোফিয়া-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেশটির শীর্ষ আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ে দস্তখত করার পর তিনি একথা বলেন।

এদিকে, তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া মসজিদ নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে ফের তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই মসজিদের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে এ দু’দেশের মধ্যকার বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বহু দিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলে আসলেও নতুন করে তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রিস এবার তুরস্কের সঙ্গে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির চেষ্টা করবে।

বলা যায়, খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীদের মধ্যে একমাত্র গ্রিসই তুরস্কের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় সম্মুখ ফ্রন্টে অবস্থান করছে। বহু বিষয়ে গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। কিন্তু এবার ধারণা করা হচ্ছে গ্রিস সরকার ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া মসজিদ ইস্যুতে অভিযোগ উত্থাপন করে তুরস্কের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও বিদ্বেষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে।

আয়াসোফিয়া নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা আয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গীর্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল। এ নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল পাল্টা দখলের ঘটনার পর ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় শাসনামলে এটিকে মসজিদে পরিণত করা হয়। সেসময় থেকে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত এটি ছিলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মসজিদ। এরপর তুরস্ক থেকে ইসলাম নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়ার পর ১৯৩৫ সালে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধ করে এবং আয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করেন।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলো। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা করা হয়।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বেশ কিছুকাল আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। এ মসজিদটি নিয়ে বরাবরের মতোই এরদোগান সমালোচনার সম্মুখীন।