আল-আকসার গেট বন্ধের নির্দেশ দিল ইসরাইল!

জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদের পূর্ব গেট বাব আল-রহমা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি আদালত। সোমবার নগরীর মুসলিম ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান তদারকির দায়িত্ব থেকে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

জর্দান পরিচালিত ইসলামিক এন্ডোমেন্টস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইসরাইলের পুলিশ অধিদপ্তর এই ফটকটি বন্ধ করার ব্যপারে আদালতের সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আল-আকসা ইসরাইল কর্তৃপক্ষ, যে কোনো আদালত বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নিকট উচ্চতর বিষয়।

ইসলামিক এন্ডোমেন্টস কর্তৃপক্ষ বলেছে, মুসলিমরা দখলদার ইসরাইলের এই অবৈধ সিদ্ধান্ত সমর্থন বা স্বীকৃতি দেয় না।

আরো বলা হয়েছে, বাব আল-রহমা আল-আকসা মসজিদের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এছাড়াও ইসরাইলি আদালতের গেটটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

মুসলমানদের জন্য আল-আকসা বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে স্বীকৃত। ইহুদিরা অঞ্চলটিকে মাউন্ট টেম্পেল হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করে, এটি প্রাচীন যুগে ইহুদি মন্দিরের স্থান ছিল।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইলি যুদ্ধের সময় ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করেছিল। যেখানে বর্তমান আল-আকসা অবস্থিত। ১৯৮০ সালে এটি পুরো শহরকে দখল করে সংযুক্ত করার পদক্ষেপ নেয় যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো স্বীকৃতি দেয় না।

সূত্রঃ ইয়েনি সাফাক

প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে মুসলিম চিকিৎসক ড. হাদির ভূমিকা

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত আমেরিকান মুসলিম চিকিৎসক বিজ্ঞানী ড. হাদি ইয়াসিন। জীবাণু বিশেষজ্ঞ ড. হাদি ইয়াসিন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে (এনআইএইচ) কর্মরত।

ড. হাদি ইয়াসিন ২০১৩ সালে হজ পালন করেন এবং তিনি শ্বাসকষ্ট ও কফে আক্রান্ত হন। আমেরিকায় ফিরে আসার পর জানতে পারেন তিনি মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত। তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা সার্স কোভিড-২ ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হয়।

তারপর ৬৪ দিন অবিরাম গবেষণা করার পর তাঁরা একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সক্ষম হন। সংক্রমণ ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে করোনাভাইরাসের সঙ্গে সার্স-কভিড-২-এর বিশেষ মিল রয়েছে। তাই ড. হাদি ইয়াসিন ও তাঁর এনআইএইচের সহকর্মীরা সার্স-কভিড-২-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল

আরও সংবাদ

ভারতের সঙ্গে বন্দর চুক্তি বাতিল করতে পারে শ্রীলঙ্কা

চীন, পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে সম্পর্কে গুরুতর টানাপোড়ন শুরু হওয়ার পর এখন প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ভারতের সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নয়া দিল্লির সঙ্গে বন্দর চুক্তি বাতিলের জন্য কলম্বোকে বেইজিং উষ্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরেশিয়ান টাইমসের বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে সাউথইস্টমনিটর।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা সম্প্রতি বলেন যে তার দেশ ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫০০-৭০০ মিলিয়ন ডলারের বন্দর চুক্তি পুনর্বিবেচনা করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা হলো কোয়াড দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কার দূরে থাকার চেষ্টা। চীনের ভূরাজনৈতিক প্রভাব মোকাবেলার চেষ্টা করছে ভারত। কোয়াডে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এবং প্রতিটি দেশের সঙ্গেই চীনের সম্পর্ক গোলযোগপূর্ণ।

শ্রীলঙ্কার বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সচিব শিয়ামাল সুমনারত্না বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের কাছ থেকে বেশ চাপ আছে বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু আমরা ভারতের কোন প্রদেশ নই। আমরা স্বাধীন দেশ, তাদের কথায় নাচার প্রয়োজন নেই আমাদের। আমাদের ধর্মঘটের পর প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এই সমস্যার সমাধান করবেন।

শ্রীলঙ্কার আগের সরকার ইস্ট কনটেইনার টার্মিনাল (ইসিটি) উন্নয়নের ব্যাপারে ভারত ও জাপানের সঙ্গে এমওইউ সই করেছিলো। এতে শ্রীলঙ্কার অংশ ৫১% এবং বাকিটা অন্য দুই দেশের।

শ্রীলঙ্কার বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের আশঙ্কা এতে ইসিটি’র মালিকানা ভারতের হাতে চলে যেতে পারে। তাই তারা টার্মিনালটি শ্রীলঙ্কার বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করবে এমন গ্যারান্টি চাচ্ছে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন চুক্তি না হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসা জানিয়েছেন।

তবে এটা বিবেচনায় নেয়া গুরুত্বপূর্ণ যে শ্রীলঙ্কা যখনই আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে তখনই উদ্ধার পাওয়ার জন্য তারা চীনের দিকে ফিরেছে। এখন কোভিড মহামারীর মধ্যে আবারো সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।