ফিলিস্তিনে ইসরাইলের টিকে থাকার সক্ষমতা নেই: হিজবুল্লাহ

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপ প্রধান শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, “এটা এখন প্রমাণিত সত্য যে, ইসরাইলের টিকে থাকার কোনো সক্ষমতা নেই বরং এর অস্তিত্ব মূলত এখন টিকে আছে আন্তর্জাতিক অবিচার এবং আমেরিকা ও পশ্চিমা কয়েকটি শক্তির সমর্থনের ওপর।”

শেখ নাঈম কাসেম গতকাল (শনিবার) এক ভার্চুয়াল ফোরামে দেয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কথিত ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি বা শতাব্দির সেরা চুক্তি উপস্থাপন করেছেন তা নাকচ করে হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের কারণে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের নিজেদের ভূমি পুনরুদ্ধার করতে বাধ্য হবে।

শেখ নাঈম কাসেম বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত এই শান্তি চুক্তি এ যাবতকালের সবচেয়ে ব্যর্থ একটি পরিকল্পনা, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অবিচারের অংশ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি জনগণ ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ে তুলবে এবং মার্কিন এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে।”

হিজবুল্লাহর উপপ্রধান বলেন, ব্রিটিশ ব্যবস্থাপনায় ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করার পর থেকেই ফিলিস্তিন এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য গোলযোগ, সংঘর্ষ, আগ্রাসন এবং অপরাধযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ এবং শাহাদাতের কথাও উল্লেখ করেন হিজবুল্লাহ উপপ্রধান। পার্সটুডে

আমেরিকার বিমানবাহী রণতরীতে আগুন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আমেরিকার সান ডিয়েগো নৌ ঘাঁটিতে নোঙর করা একটি বিমানবাহী রণতরীতে বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্টি অগ্নিকাণ্ডে ১৮ সৈন্য ও চার বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ ছাড়া, এতে যুদ্ধজাহাজটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

ইউএসএস বোনহোম রিচার্ড নামের রণতরীটি সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ ১,০০০ সেনা বহন করতে সক্ষম হলেও গতকাল (রোববার) সকালে এটিতে আগুন ধরে যাওয়ার সময় এটিতে প্রায় ২০০ ক্রু উপস্থিত ছিল।

গণমাধ্যমে প্রকাশিতে ভিডিও ফুটেজে রণতরীটিতে ভয়াবহ আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া অনেক উঁচুতে উঠে যেতে দেখা গেছে।

ইউএসএস বোনহোম রিচার্ড (ফাইল ছবি)
মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র কৃষ্ণা জ্যাকসন বলেছেন, রণতরীটি মেরামতের জন্য ওই নৌ ঘাঁটিতে নোঙর করা হয়েছিল।তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা না গেলেও কয়েকদিন ধরে জাহাজটিতে আগুন জ্বলতে থাকতে পারে বলে প্রেস টিভি জানিয়েছে।

অন্তত ১৮ সেনা ও চার বেসামরিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে দাবি করা হয়েছে।এ ছাড়া, রণতরীতে থাকা কোনো সেনা নিখোঁজ হননি বলেও মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে। পার্সটুডে

চীন সীমান্তে ব্যবহারের জন্য আমেরিকা থেকে ৭২ হাজার অ্যাসল্ট রাইফেল কিনছে ভারত

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের জন্য আমেরিকা থেকে ৭২ হাজার অ্যাসল্ট রাইফেল কেনার জন্য দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে ভারত। পদাতিক বাহিনীর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ওই ক্রয় করা হচ্ছে। গতকাল (রোববার) কর্মকর্তারা ওই তথ্য দিয়েছেন।

আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণে অ্যাসল্ট রাইফেল এমন সময়ে কেনা হচ্ছে যখন পূর্ব লাদাখ অঞ্চলে সীমান্তে ভারত ও চীনা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, ওই রাইফেলগুলো চীনের সীমান্তে মোতায়েন থাকা সেনারা ব্যবহার করবে।

সেনাবাহিনী পদাতিক বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্য বড়সড় কার্যক্রম চালাচ্ছে, যেখানে সেনাদের জন্য পুরানো ও অপ্রচলিত অস্ত্রের পরিবর্তে হালকা মেশিনগান, ওয়ারহেড কারবাইন এবং অ্যাসল্ট রাইফেল ক্রয় করা হচ্ছে।

আজ (সোমবার) এনডিটিভি সূত্রে প্রকাশ, ২০১৭ সালের অক্টোবরে সেনাবাহিনীর জন্য প্রায় ৭ লাখ রাইফেল, হালকা মেশিনগান এবং কমপক্ষে ৪৪ হাজার ৬০০ কারবাইন ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। চীন-পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়ে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাদের উত্তেজনার আবহে কেন্দ্রীয় সরকার চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়া থেকে দ্রুত মিগ-২৯ এবং সুখোই যুদ্ধবিমান ক্রয়েও অনুমোদন দিয়েছে।

গত ২ জুলাই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে ‘প্রতিরক্ষা ক্রয় পর্ষদে’র (ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল) বৈঠকে ৩৩টি নতুন রুশ যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এরমধ্যে রয়েছে ১২ টি সুখোই-৩০ এমকেআই মাল্টিরোল এয়ার সুপিরিওরিটি ফাইটার জেট এবং ২১টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, ভারতীয় বিমানবাহিনীর ৫৯ টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্তও হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (ডিএসি) বৈঠকে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘ক্রুজ’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রস্তাবটিও অনুমোদিত হয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে

সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলা প্রতিহত করল রাশিয়া!

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত হামেইমিম বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিরিয়া বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আলেক্সান্ডার স্কেরবিতস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি গতকাল (রোববার) বলেন, হামেইমিম ঘাঁটিতে রুশ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে এবং সেখানে ড্রোন থেকে হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বিমান ঘাঁটি থেকে পাঁচ কিলিামিটার দূরে দু’টি পাইলটবিহীন বিমান গুলি করে নামানো হয় বলে তিনি জানান।

অ্যাডমিরাল স্কেরবিতস্কি বলেন, এ ঘটনায় ঘাঁটির কোনো সেনা হতাহত হয়নি বা কোনো স্থাপনারও ক্ষতি হয়নি।

সিরিয়ার হামেইমিম বিমান ঘাঁটি (ফাইল ছবি)
সিরিয়ায় ২০১১ সাল থেকে বিদেশি মদদে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশের নির্মূলের মধ্যদিয়ে তার অবসান হয়।

তবে এখনো কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে অবস্থান করছে। তারা মাঝেমধ্যেই হামেইমিম বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন রুশ সেনাদের উপর ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করে। সুত্র: পার্সটুডে

চীনে ভয়াবহ বন্যায় লাখো মানুষ পানিবন্দী, এখন পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যু

লাগাতার ভারিবৃষ্টির কারণে চীনে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। কার্যত বন্যার পানিতে ভাসছে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হুবেই, জিয়াংজি এবং ঝেঝিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিতে গেছে। উঁচু বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

কিন্তু পানির চাপে বাঁধগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। কখন ভেঙে পড়ে- সেই আশঙ্কায় পালা করে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে অধিবাসীরা। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

খবরে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে চীন। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

কিন্তু বর্ষার শুরুতেই নতুন মাত্রায় ভারিবৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। লাগাতার এই বর্ষণে একাধিক নদীর পানি উপচে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এবারের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ অধিবাসী। এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১৪০ জন নিহত হয়েছে।

চীনের পূর্বাঞ্চলে জিয়াংজি প্রদেশে নদী তীরবর্তী বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ অধিবাসী। কিন্তু নদীর পানির চাপে বাঁধগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জিয়াংজি প্রদেশের শাংগ্রাওয়ের পোয়াং অঞ্চলে সি নদীর তীরবর্তী বাঁধে পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন উ শেংসন। শনিবার রাতেও তার নির্ঘুম গেছে। অঝোর বৃষ্টির মধ্যেই বাঁধ ভেঙে পড়ার ভয়ে আরও কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে সারা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন তিনি।

আগের রাতগুলোর মতো এ দিন রাতেও উ শেংসনের পাহারার পালা শুরু হওয়ার পরপরই ঝড়বৃষ্টি হয়। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। অদূরে মুহুর্মুহু বজ পাত হয়।

উ তখনও দুরুদুরু বুকে বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে এক সাক্ষাৎকারে রাত জেগে বাঁধ পাহারা দেয়ার সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে উ বলেন, ‘মনে মনে একটু ভয়ও পাই। কয়েকদিন ধরেই একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।’

উ শেংসন মূলত চীনের সর্ববৃহৎ সাধুপানির হৃদ পোয়াং লেকের কাছেই ওযানলি গ্রামে একজন সরকারি কর্মকর্তা কাজ করেন।

কিন্তু একটানা বৃষ্টির কারণে গত রোববারই ইয়াংসিকিয়াং নদীর পানি উপচিয়ে লেকের পানি ২২.৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে শানগ্রাও অঞ্চলের বহু ছোট-বড় শহর ও গ্রাম তলিয়ে গেছে।