ইসরাইলের দখলদারিত্ব নিয়ে বিশ্বের নীরবতা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল: মুসলিম ইউনিয়ন

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এলাকায় দখলকৃত জমি দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্ব নীরব থাকলে তা বিশ্বাসঘাতকতার সামিল হবে। আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলারস (আইইউএমএস) সোমবার এমন মন্তব্য করেছে। খবর ইয়েনি সাফাকের।

আইইউএমএস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইল যদি এই জমিগুলো দখল করতে সফল হয় তবে পুরো বিশ্ব জাতিসংঘের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। বিশ্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন ফর মুসলিম বিশ্বকে ফিলিস্তিনের সাথে একাত্মতা ও ইসরাইলের সাথে সমস্ত চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। এই সংস্থাটি ইসরাইলের আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধের মারাত্মক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফিলিস্তিনের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডেও ইসরাইলের দখলকে ধর্মে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি হবে আরব ও মুসলিম প্রজন্মের বিরুদ্ধে এক ধরনের অপরাধ।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে জর্ডান উপত্যকা পর্যন্ত দখলের প্রতিশ্রুতি করেছেন।

তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেম উভয়ই ‘অধিকৃত অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে সমস্ত ইহুদিদের অবস্থান ও নির্মাণ কার্যক্রমকে অবৈধ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বেলজিয়ামে হিজাব নিষেধাজ্ঞা আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধকরণ আইন বাস্তবায়নের সম্ভাবনার বিষয়টি ঘোষণার পর থেকেই সুপ্রিম কন্সটিটিউশনাল কোর্ট-বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে অসংখ্য মানুষ।

এরই প্রেক্ষিতে গত রোববার (৬ জুলাই) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের একটি উন্মুক্ত ময়দানে অন্তত চার হাজার মুসলিম দেশটির সাংবিধানিক আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

শহরের একাধিক সামাজিক সংগঠনের আহবানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিক্ষোভকারীদের হাতে নানাধরণের ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছিলো- সেগুলোতে লেখা ছিলো, ‘হিজাব মানব অধিকার’, ‘কোথায় আমাদের স্বাধীনতা?’ এবং ‘যথেষ্ট হয়েছে’ ইত্যাদি হিজাব সমর্থিত বিভিন্ন শ্লোগান।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক নারী বলেন, বেলজিয়ামে বসবাসরত মুসলিম নারীরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নানাসময়ে বৈষম্যের শিকার হন। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে আইন প্রণয়নে মুসলিমদেরও বিবেচনায় রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত জুনের শুরুর দিকে বেলজিয়ামের সাংবিধানিক আদালতের ঘোষণা মতে- ফ্রান্সিসকো ফেরার ইনস্টিটিউট তাদের ক্যাম্পাসে হিজাব সহ সকল ধর্মীয় প্রতীক নিষিদ্ধকরণের বৈধতা পায়। একইসঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়েও হিজাব নিষিদ্ধের সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত।

এরপর থেকেই ব্রাসেলসের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আদালতের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তা বাতিল করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, আদালত এই আইন বাস্তবায়ন করলে তা হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

আরো পড়ুন-ঐতিহাসিক ‘আয়া সোফিয়া’-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে তুরস্কের আদালতের রায়

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকা মামলার রায়ে আয়া সোফিয়া-কে জাদুঘরে রুপান্তর সংক্রান্ত আইনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়া সোফিয়া-কে মসজিদে রুপান্তর করতে আইনগত কোনো বাঁধা থাকলো না।

আজ বুধবার ( ৮ জুলাই) তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইয়েনি শাফাক’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা না করা হলেও তুরস্কের আরেকটি প্রভাবশালী দৈনিক ডেইলি সাবাহ‘র আংকারা প্রতিনিধির সূত্রে খবরটি প্রকাশ করে ইয়েনি শাফাক।

আশাকরা হচ্ছে লিখিত রায় প্রকাশ পেলে আগামী শুক্রবার থেকেই আয়া সোফিয়াতে নামাজ আদায় শুরু হতে পারে। এ রায়ের মাধ্যমে তুরস্কের ইসলাম প্রিয় জনতার দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হতে যাচ্ছে।

আয়া সোফিয়া-কে মসজিদে রুপান্তর না করতে প্রাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং রাশিয়াসহ নানা মহলের ব্যাপক চাপ ছিল। চাপকে উপেক্ষা করে এই রায় ঘোষিত হলো। এর মাধ্যমে প্রায় ৮০-৯০ বছরের দাবি, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কুটনীতির সমাপ্ত হবে।

আয়াসোফিয়াকে ইসলাম প্রিয় জনগন ইস্তান্বুল বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিম্বল মনে করে। আর এটাকেই জাদুঘরে রুপান্তর করেছিল একদলীর সেক্যুলার সরকার। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৮৫ বছর। এই রায়ের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল তার সিম্বল পুনরায় ফিরে পাবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ এব্যাপারে আদালতের রায় দেবার কথা ছিল, পরে তা পিছিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আয়া সুফিয়া মসজিদ নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হচ্ছে, এটিকে মসজিদ বলা হবে নাকি জাদুঘর বলা হবে তা নিয়ে। কারণ এক সময় এই স্থাপনাটি গীর্জার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত।

এটি নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা আয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গীর্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল। এ নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল-পাল্টা দখলের ঘটনাও ঘটে।

প্রায় ১০০০ বছর ধরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা। পরে ১৪৫৩ সালে যখন সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহের ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন একে পরিণত করা হয় মসজিদে। সেসময় থেকে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত এটি ছিলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। এর পর তুরস্ক থেকে ইসলাম নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়ার পর ১৯৩৫ সালে কামাল পাশা আতাতুর্ক ঐতিহাসিক এ মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করে।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলো। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা শুরু হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বেশ কিছুকাল আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন। এ মসজিদটি নিয়ে বরাবরের মতোই এরদোগানের সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমারা।

আয়া সোফিয়া মসজিদে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠানের ঘটনায় এথেন্সের সমালোচনার পর নতুন করে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার বাদানুবাদ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে উঠে। মসজিদের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে দু’দেশের মধ্যকার বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বহুদিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলে আসলেও নতুন করে তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রিস এবার তুরস্কের সঙ্গে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির চেষ্টা করবে। এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও বিদ্বেষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করবে।

আয়া সোফিয়ার ব্যাপারে গ্রিসের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দাবির প্রতিক্রিয়ায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।

এথেন্স এই স্থাপনাটিকে গীর্জা হিসেবে দাবি না করলেও তারা বলেছে, এটি একটি প্রাচীন জাদুঘর এবং এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা বিষয়ক ইউনিসেফের নীতিমালার লঙ্ঘন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রিসের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, এথেন্সে অনেক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে