মসজিদুল আকসার সব দরজা বন্ধ; একাধিক মুসল্লি গ্রেফতার

মুসলমানদের প্রথম কেবলা খ্যাত ফিলিস্তিনের পবিত্র মসজিদুল আল আকসায় মুসল্লিদের ওপর কঠোরতা জারি করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। গতকাল বুধবার একজন প্রহরীসহ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে দুইজন যুবককে গ্রেফতার করেছে তারা। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

জেরুসালেম ইসলামি আওক্বফের একজন কর্মকর্তার সূত্রে আল জাজিরা আরবি এক প্রতিবেদনে জানায়, আটককৃত ওই দুই মুসল্লির ওপর মসজিদে চাকু বহন করার অভিযোগ এনে দখলদার পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। তবে বাবে রহমত থেকে আটক হওয়া হামজা নামির নামের প্রহরীকে কেন আটক করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।

সূত্র জানায়, সন্ত্রাসবাদী ইসরায়েলি পুলিশ গতকাল হঠাৎই মুসল্লিদের ওপর কঠোরতা আরোপ করে। দুইজন মুসল্লি ও প্রহরীকে গ্রেফতারের পরে সাময়িক সময়ের জন্য আল আকসার সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেয় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেরুসালেমের পুরাতন শহরেরও সবগুলো দরজা দখলদার পুলিশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। এসময় সেখানে প্রবেশ ও সেখান থেকে প্রস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা। পরে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা আবার উঠিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগে জেরুসালেমের বাবুল আ’মুদের আশপাশ থেকে একাধিক যুবককে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় আটককৃত যুবকদের হামলা করার ভিডিও প্রকাশের পরই দখলদার বাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছে বলে ইহুদিবাদী এক কর্মকর্তা জানান।

গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথাকথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ ঘোষণার পর থেকে গোটা ফিলিস্তিন জুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফিলিস্তিন বিরোধী ট্রাম্পের ওই চুক্তি খোদ ফিলিস্তিনসহ তুরস্ক ইরান সৌদি আরবসহ অনেক দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসও এই চুক্তিকে স্বার্থপরতা আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আবারও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন এরদোগান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শান্তি পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম জানায়, বুধবার আফ্রিকা সফর থেকে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তখন তিনি ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতিও দেওয়া হলো।

রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সমাধান আসবে না। মুসলমানদের জন্য জেরুজালেম একটি পবিত্র স্থান। অথচ ট্রাম্পের পরিকল্পনায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প উত্থাপিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক জেরুজালেমের আল-কুদস শহরকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের।