হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার কারণে যু’দ্ধ হতে পারে: মোদিকে ইমরানের হুঁশিয়ারি

পরমাণু হু’মকির মুখে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি মোদির হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী এজেন্ডা বিপুল র’ক্তপাত এবং বিশ্বের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিণতি ডেকে আনবে বলে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বৃহস্পতিবার টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, নাৎসি জার্মানির মতো মোদির ভারতেও ভিন্নমতকে কোণঠাসা করা হয়েছে। বিশ্বকে এখন খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই মোদির ভারতের র’ক্তপাত ও যু’দ্ধের হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী এজেন্ডা রুখতে এগিয়ে আসতে হবে।

বুধবার ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে ইমরান খান এই মন্তব্য করেন। এই বিলের ফলে ভারত সরকার ২০১৫ সালের আগে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে অবৈধভাবে আসা লাখ লাখ অমুসলিমকে নাগরিকত্ব দিতে পারবে।

গত মে মাসে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পরে মোদি সরকার বলছে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মুসলিমরা নি’র্যাতিত হয় না বলে তাদেরকে রাখা হয়নি। টুইটারে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে ভারত পরিকল্পিতভাবে হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে।

এ বিল হলো মোদির হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আরেক চেষ্টা, যা শুরু হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরকে দখল করা এবং সেখানে অবরোধ অব্যাহত রাখা, আসামের নাগরিকত্ব থেকে ২০ লাখ ভারতীয় মুসলিমকে বাদ দেয়া। এগুলোর পাশাপাশি আছে মুসলিমদের পিটিয়ে হ’ত্যা করা।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নাৎসি জার্মানির প্রচারিত শ্রেষ্ঠত্ববাদী এজেন্ডার প্রতি নতজানুর ফলেই দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধের সূচনা ঘটেছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু, জৈন, পার্সি ও শিখদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব মঞ্জুর করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিন্তু মিয়ানমার থেকে নি’র্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে এই সুযোগ দেয়া হয়নি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এটি মুসলিমবিরোধী নয়। কারণ সব সম্প্রদায়ের জন্য বিদ্যমান নাগরিকত্ব বিধানটিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই আইনটি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যকে বৈধ করা হয়েছে এবং তা ভারতের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্র: দ্য ডন

নওগাঁয় এক যুগ ধরে গরিবদের ফ্রি খাওয়ান আলি আজগর!

প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০০-১৫০ জন গরিব শ্রেণির বিশেষ করে ভিক্ষুকদের পেট পুরে ফ্রিতে খাওয়ান আলী আজগর হোসেন। অভাবের সংসারে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। ২২ বছর আগে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে পরিবার নিয়ে নিজ জেলা ছেড়ে নওগাঁতে চলে আসেন।

এরপর শহরের বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ডে ২৫ টাকা বেতনে হোটেলে কাজ শুরু করেন। আর সেই হোটেল বয় আজ হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউসের মালিক আলী আজগর হোসেন। তার বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে হলেও এখন জমি কিনে নওগাঁ শহরের চকরামচন্দ্র মহল্লায় বসবাস করছেন সপরিবারে।

শহরের বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আদালত চত্বর। আদালত গেটের প্রধান ফটকের বিপরীতে রাস্তার পশ্চিম পাশে ‘হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস’। যেখানে সপ্তাহে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। হোটেল মালিক সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০০-১৫০ জন গরিব শ্রেণির বিশেষ করে ভিক্ষুকদের পেট পুরে ফ্রিতে খাওয়ান।

যেখানে খাবার মেন্যুতে থাকে মাছ, মাংস, ডিম, সবজি ও ডাল। হোটেলের সামনে চেয়ার-টেবিলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে দেখলে মনে হতে পারে কোনো ছোটোখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য দিনে ২০-২৫ জনের মতো খেয়ে থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার সবার জানা থাকায় সেদিন বেশি মানুষ হয়ে থাকে। এক যুগ ধরে এভাবে মানুষদের একবেলা খাবার দিয়ে আসছেন আলী আজগর হোসেন।

হোটেল মালিক আলী আজগর হোসেন বলেন, অভাবের মধ্য দিয়েও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ১৯৯৭ সালে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে নওগাঁতে এসে হোটেলে ২৫ টাকা দিনে কাজ শুরু করি। বেশ কয়েক বছর হোটেলে কাজ করলাম। হঠাৎ একদিন হোটেল মালিক তার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে বাড়িতে চলে গেলেন।

তিনি বলেন, পরে হোটেল মালিককে বুঝিয়ে নিয়ে আসি এবং তার দোকান চালানোর জন্য অনুমতি নেই। মালিক বললেন, যদি দোকান চালাতে পার তাহলে চালাও। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

আলী আজগর হোসেন বলেন, এরপর ২ কেজি, ৫ কেজি গরুর মাংস বিক্রি থেকে শুরু করে আজ অনেক বেচাকেনা হয়। দোকানে ৩৫ জন কর্মচারী কাজ করে। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। শহরের মাথা গুঁজার মতো একটু জায়গা হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে পড়াশোনা করছে।

বয়োজ্যেষ্ঠ নুর জাহান ও জাহিদুল বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভিক্ষা করে ভালোমন্দ খেতে পারি না। ৩-৪ বছর ধরে এ হোটেলে নিয়মিত খেতে আসি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এসে কখনও গোস্ত ও কখনও মাছ দিয়ে পেট পুরে খাবার খাই। আল্লাহ যেন দোকানদারের মঙ্গল করেন।