কাপুরুষরাই নি’র্যাতন নিপীড়ন চালায়: মোদিকে ইমরান খান

আবারো কাশ্মিরের জনগনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, কাশ্মির ইস্যু আজ আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করেছে। আর ভীরু মোদি কাশ্মিরে নি’র্যাতন চালাচ্ছেন।

শুক্রবার আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে এক সংহতি সমাবেশে তিনি একথা বলেন। ইমরান বলেন, আমি নিজেকে কাশ্মিরী জনগনের দূত হিসেবে উপস্থাপন করেছি কারণ-

আমি একজন পাকিস্তানি, একজন মুসলমান ও সর্বোপরি একজন মানুষ। কাশ্মির ইস্যু এখন একটি মানবিক সঙ্কট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন,

জনগনের বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতা শুধুমাত্র ভীরুরাই চালাতে পারে। আজ ৯ লাখ ভারতীয় সেনা অধিকৃত কাশ্মিরের জনগনের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাচ্ছে। কোন সাহসী লোক এমন করতে পারে না।

তবে যত অন্যায়ই করুন না কেন, আপনি সফল হতে পারবেন না। কারণ কাশ্মিরের মানুষরা মৃত্যুকে ভয় পায় না। ইমরান খান বলেন, আমাদের সবার জানা উচিত যে নরেন্দ্র মোদি ছোটবেলা থেকেই আরএসএসের সদস্য।

এটি একটি হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদী গ্রুপ। তারা মুসলমান, খৃষ্টানসহ সব সংখ্যালঘুদের ঘৃণা করে। তারা হিটলারের নাৎসী পার্টির মতো আচরণ করছে, যে দলটি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালিয়েছিল।

ইমরান খান বলেন, কাশ্মির ইস্যুত আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌছে গেছে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কাশ্মির নিয়ে বৈঠক করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথমবারের-

মতো কাশ্মির ইস্যু জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী সমাধানে দাবি জানিয়েছে। ওআইসি বলেছে, ভারতকে অবশ্যই কাশ্মির থেকে কারফিউ তুলে নিতে হবে। ইমরান আরো বলেন, ব্রিটেনের ৪০ জনেরও বেশি এমপি কাশ্মির নিয়ে কথা বলেছেন।

মার্কিন সিনেটররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কাশ্মির ইস্যুতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে চিঠি লিখেছেন। আমি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছি। সেখানেও কাশ্মিরের জনগনের পক্ষে কথা বলবো।

সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মির প্রসঙ্গ তোলার অঙ্গীকার করেন ইমরান খান। সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মির প্রসঙ্গ তোলার অঙ্গীকার করেন ইমরান খান। সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মির প্রসঙ্গ তোলার অঙ্গীকার করেন ইমরান খান।

এবার বাংলাদেশে ঢুকে মসজিদ নির্মাণে বাধা দিল বিএসএফ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা দোলাপাড়া সীমান্তে কেরামতিয়া বড় মসজিদের দোতলা ভবন নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে-

ওই মসজিদের জানালা নির্মাণ কাজে বাধা দেন ভারতের শিতলকুচি থানার অমিত ক্যাম্পের বিএসএফের টহল দল। এ ঘটনায় বাংলাদেশি লোকজনসহ মসজিদের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মসজিদ ও মাজারটি জিরো পয়েন্টে পড়ে যায়। কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মোঘল আমলের মসজিদকে কেন্দ্র করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ নানা নিয়তে নামাজ পড়তে আসে।

মসজিদটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের অজুহাতে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয় ভারতীয় বিএসএফ। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ে মসজিদের নকশা অনুমোদন হওয়ার পর ওই বছরের ২৯ এপ্রিল দোতলা মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

কোটি টাকা ব্যয়ে এ মসজিদ নির্মাণের কাজ এখনো চলছে। কয়েক দিন ধরে মসজিদের দোতলায় জানালায় গ্লাস লাগানো হচ্ছে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে ভারতীয় বিএসএফ ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

ওই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আসাদুল ইসলাম জানান, জন্মের পর থেকেই দেখছি কেরামতিয়া হুজুরের মাজার ও মসজিদকে ঘিরে এখানে প্রতি শুক্রবার হাজার হাজার নারী ও পুরুষ আলাদাভাবে নামাজে সমবেত হয়।

কিন্তু দুই দেশের রাষ্ট্র পর্যায়ে নকশা অনুমোদন হওয়ার পরও শুক্রবার নিজে দেখলাম, ভারতীয় বিএসএফ বাংলাদেশে প্রবেশ করে নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। ওই মসজিদ কমিটির সম্পাদক আলিমুদ্দিন জানান,

দুই দেশের মধ্যে নকশা অনুমোদন হওয়ার পর আমরা মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু প্রায় সময় ভারতীয় বিএসএফ নানা অজুহাতে নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। জানালায় রঙ্গিন গ্লাস লাগাতে বাধা দিলে আমরা সাদা গ্লাস লাগাতে শুরু করি।

কিন্তু শুক্রবার সেই গ্লাস লাগাতেও বাধা দেওয়া হয়। ৬১-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির বড়খাতা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহিম মোল্লা জানান, ভারতীয় বিএসএফ মসজিদের নির্মাণ কাজে বাধা দিলেও নির্মাণ কাজ বন্ধ নেই।

ভারতীয় বিএসএফ আমাদের সাথে নিয়ে মসজিদের নির্মাণ কাজ ঘুরে দেখেছেন। এখন নির্মাণ কাজ চলছে পাশাপাশি এ বিষয়ে বিএসএফের সাথে আলোচনাও হচ্ছে। ৬১-বর্ডার গার্ড-

বাংলাদেশ বিজিবির রংপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্নেল শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।