এবার ভারতীয় বিমানের রুট বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান!

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে তীব্র উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এবার নিজেদের আকাশপথ আংশিক বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। আকাশপথে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যকার ১১টি রুটের মধ্যে তিনটি বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

এই রুটগুলি দিয়েই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ইউরোপ, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কিছু দেশে যাতায়াত করে থাকে। এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে দু’দেশের মধ্যে চলাচলকারী সমঝোতা-

এক্সপ্রেসের সব শিডিউল বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমাদ। তিনি জানান, তিনি যতদিন পদে বহাল থাকবেন, ততদিন এই রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।

এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে দু’বার দু’দেশের মধ্যে যাতায়াত করত। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাকিস্তানের লাহোর থেকে আসার সময় সমঝোতা এক্সপ্রেসের যাত্রীরা দুপুর ১টা থেকে ওয়াঘা সীমান্তে আটকা পড়েন,

কারণ ওই ট্রেনের কর্মীরা ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত সেটিকে নিয়ে যেতে অস্বীকার করে। এসময় সমঝোতা এক্সপ্রেসের ভারতীয় কর্মীরা বলেন, ট্রেনটিকে সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে এলে তাঁরাই ভারতীয় ভূখণ্ডে ট্রেনটিকে চালিয়ে নিয়ে যাবেন।

এ প্রস্তাবে পাকিস্তানের রেল কর্তৃপক্ষ রাজি হলে প্রায় তিন ঘণ্টা পরে, ট্রেনটি আটারির উদ্দেশ্যে চালিয়ে নিয়ে আসেন ভারতের রেল কর্মীরা। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর-

এবার পাকিস্তানে ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক বিশেষ দূত ফিরদৌস আশিক আওয়ান এই তথ্য জানিয়েছেন বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে।

ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, “ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার অংশ হিসেবে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেবল সিনেমা নয়, সব ধরনের ভারতীয় সাংস্কৃতিক কনটেন্ট পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে ভারত যা করেছে, তার জবাবে কাশ্মীরকে সমর্থন দিতে পাকিস্তান সম্ভাব্য সব ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করবে।” নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কূটনৈতিকস্তরের-

সমস্ত বিষয় যাতে আগের মতোই থাকে সেজন্য পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাক সরকারের পক্ষ থেকে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

জম্মু-কাশ্মির থেকে সেরাজ্যের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করায় ভারত আজ ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানায়।

এর আগে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। এরপর ভারতের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও বন্ধ করার ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। এছাড়াও দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনার কথা জানায় পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। সুত্র: পার্সটুডে

কেঁদে ফেললেন মোদি!

১০১৩ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গি এবং প্রথম মোদী সরকারের আমলে বিদেশমন্ত্রকের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিশ্চিন্তে তুলে দিয়েছিলেন তার কাঁধে। ঠিক ততটাই ভরসা করতেন সুষমা স্বরাজকে।

কিন্তু সেই ভরসার জায়গাটা আজ আর নেই। সুষমা স্বরাজের ম’রদেহের সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল সামলাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী। নীরবে চোখের জল মুছতে দেখা গেল তাকে। সুষমার চলে যাওয়ার খবর এখনও মেনে নিতে পারেনি গোটা দেশ।

সেই হতভম্বতা গ্রাস করেছে দিল্লির রাজনৈতিক মহলকেও। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে সকলেই সুষমার বাড়িতে জড়ো হন। আসেন প্রধানমন্ত্রীও। এদিকে সুষমাকে দেখার পর তার পরিবারের মানুষদের এবং তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি তার মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে স্বান্তনা দেন। তারপর দেখা হয় সুষমার স্বামী স্বরাজ কৌশলের সঙ্গে। হাতে হাত রেখে এই দুর্যোগে পাশে থাকার বার্তা দেন মোদী। এরপর সুষমা স্বরাজের-

ম’রদেহের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর পরেই আবেগ চাপা রাখতে পারেননি মোদী। চোখে জল চলে আসে তাঁর। তবে ক্যামেরার সামনে তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মোদীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতারা।

প্রত্যেকেই নিজের শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন সুষমা স্বরাজকে। সুষমা স্বরাজের মৃ’ত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী মোদী একের পর এক ট্যুইট করেছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, ভারতের রাজনীতিতে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

তার কথায়, অসাধারণ বক্তা এবং সাংসদ ছিলেন সুষমাজি। দলের সকলে তাঁকে সম্মান করতেন। আদর্শ এবং বিজেপির স্বার্থ নিয়ে কখনওই তিনি আপস করেননি। দলের উন্নতিতে তার বড় ভূমিকা ছিল।

গত কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। যার ফলে লোকসভা নির্বাচনে লড়তেও চাননি তিনি। গত মাসে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্য্যানুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। মঙ্গলবার দিল্লির এইমসে প্রয়াত হন তিনি।

উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে সুষমা স্বরাজের সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসা পেয়েছে বিভিন্ন মহলে। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তান বিরোধী কড়া বার্তা মনে রাখার মত। যখনই কোনও ভারতীয়-

বিশ্বের কোনও প্রান্তে বিপদে পড়েছেন, তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সুষমা। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে আটকে থাকা মুক ও বধির ভারতীয় মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন সুষমা। সূত্র: কলকাতা২৪