‘আগ্রাসী আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে ভারত’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেছেন, ভারত নিজের আগ্রাসী আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও’র অনলাইন বৈঠকে ভারত দখলকৃত কাশ্মীরকে যুক্ত করে পাকিস্তানের নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারত অপদস্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। খবর ডন ও পার্সটুডের।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাতকারে কোরেশি বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ভারতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা নয়া দিল্লির জন্য অপমানজনক। বৈঠকের আয়োজক দেশ রাশিয়া ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণ করেনি। ভারত বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করে সংস্থার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।

ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত করে কোরেশি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ সীমান্ত ইস্যু সমাধানের জন্য চীন বারবার আহ্বান জানালেও ভারত আগ্রাসী আচরণ করেছে। এ কারণে পরবর্তীতে অপমানিত হয়েছে। চীন ভারতের আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার আহ্বানে ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে’র বৈঠকে কাশ্মীরকে যুক্ত করে পাকিস্তান নতুন মানচিত্র প্রদর্শন করার পর এর প্রতিবাদে ভারতের প্রতিনিধি অজিত দোভাল ওয়াক আউট করে চলে যান। কিন্তু ভারতের প্রতিবাদের পরও পাকিস্তানের প্রতিনিধিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে ঐ মানচিত্র রেখেই বক্তৃতা চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়।

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বর্ষপূর্তিতে কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। নতুন মানচিত্রে গুজরাটের জুনাগড়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভারত সীমান্তের কাছে চীনের এইচ-৬ বোমারু বিমান মোতায়েন

হিমালয় সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই চীন মনে হচ্ছে ‘নেকড়ে যোদ্ধার’ ভীতি প্রদর্শণের কৌশলটাই ধরে রাখতে চাচ্ছে।

মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন জানিয়েছে, চীনের পিপলস লিবারেশান আর্মির (পিএলএ) সেন্ট্রাল থিয়েটার কমান্ড নতুন ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, বিতর্কিত লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলওসি) কাছে বেশ কিছু এইচ-৬ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে চীন।

সারা দেশে চীনের ২৭০টির বেশি এইচ-৬ বোমারু মোতায়েন রয়েছে। এর একটা বড় অংশই রয়েছে পূর্ব উপকূলে। সব মিলিয়ে এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বোমারু বিমানের বহর, যেগুলো আমেরিকান বা রাশিয়ান বহরের তুলনায় যথেষ্ট নতুন এয়ারফ্রেম দিয়ে তৈরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচ-৬ বোমারু বিমানের উল্লেখযোগ্য অস্ত্রশক্তি, বেশ বিভিন্ন ধরণের ক্রুজ মিসাইল – এগুলো পিএলএকে লাদাখ অঞ্চলে ভবিষ্যতে যে কোন ধরণের সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে বড় ধরণের সুবিধা দেবে।

দুই পক্ষেই যেখানে বিমান ঘাঁটির সঙ্কট রয়েছে, সেখানে দূরপাল্লায় ভারতের ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার সামর্থটাই আকাশশক্তির ভারসাম্য পাল্টে দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নতুন সিজে-২০ ক্রুজ মিসাইলগুলো ৫০০কেজি পর্যন্ত ওয়্যারহেড বহন করতে পারে এবং এগুলো ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে এর হালকা ভার্সন ওয়াইজে-৬৩ গুলোর রেঞ্জ এর দশভাগের এক ভাগ কিন্তু সেগুলো অনেক হালকা। এর অর্থ হলো একটি বোমারু বিমান সংখ্যায় অনেকগুলো বহন করতে পারবে।

এগুলোর সুনির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত হানার সক্ষমতা এবং ইচ্ছেমতো বিচরণের সক্ষমতার কারণে ভারতের অবস্থানের জন্য এগুলো অত্যন্ত মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে।

চীনের এইচ-৬ বহরের এই মুহূর্তের প্রধান টার্গেট হলো পশ্চিম প্রশান্ত অঞ্চলের জাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলো। তারা বেশ কিছু বোমারু বিমানকে ইলেক্ট্রনিক অ্যাটাক বিমানেও বদলে নিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ভারতের সাথে উত্তেজনার মাধ্যমে অবশ্য বোঝা গেছে যে, এই বিমানগুলো এখনও কনভেনশনাল হামলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারত অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে টু-২২এম-এর মতো আধুনিক বোমারু বিমান পাওয়ার চেষ্টা করছে। মূলত নৌ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের জন্যেই তারা এগুলো কিনতে চায়।

বর্তমানে ভারত কে-১০০ এয়ার টু এয়ার মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে, যেটা সু-৩০ এমকেআই বিমান থেকে ব্যবহার করা যাবে এবং যেটা ৩০০-৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে আঘাত হানতে পারে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একই সাথে এস-৪০০ মিসাইল ব্যাটারিরও অর্ডার দিয়েছে, যেটা রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়ার পর লাদাখ অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। এই প্ল্যাটফর্ম ক্রুজ মিসাইল হামলা ঠেকাতে এবং দূর পাল্লার বোমারু বিমানের হামলা ঠেকাতেও যথেষ্ট পারদর্শী। সুত্র: এশিয়া টাইমস, এসএএম

ইসরাইলের সঙ্গে আঁতাত আরবদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে: ফিলিস্তিন

আরব জাতির জন্য আসন্ন বিপর্যয়ের দায় দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে আঁতাতকারী দেশগুলোকে বহন করতে হবে। ফিলিস্তিনের জাতীয় সংসদ এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছে।

গতরাতে বর্ণবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি সইয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি সংসদ আরও বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে আঁতাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন এর কোনোটিই নিশ্চিত হবে না বরং আরব জাতির জন্য বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমিরাত ও বাহরাইন আঁতাতের চুক্তি করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের পবিত্র শহর বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মেনে নিয়েছে এবং ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি নামের ষড়যন্ত্র অনুমোদন করেছে।

ফিলিস্তিনি সংসদ বলেছে, আরব দেশগুলো এবং ফিলিস্তিন ইস্যুর জন্য আসল বিপদ ও হুমকি হচ্ছে দখলদার ইসরাইল। দখলদারেরা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ সব ন্যায্য অধিকার চিরতরে হরণ করার জন্য সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিপদকে মেনে নিয়ে নিরাপত্তা ও শান্তি সম্ভব নয়। সৃুত্র: পার্সটুডে

এবার ‘ইসলাম শিক্ষা’ পাঠদানের আসর চালু হলো স্পেনে

স্পেনের স্কুলগুলোতে এবার চালু হচ্ছে ‘ইসলাম শিক্ষা’ পাঠদানের আসর। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিত্তশালী স্বায়ত্ত্বশাসিত অঙ্গরাজ্য কাতালোনিয়ার সরকারি স্কুলে প্রাথমিক স্তরের প্রথম বছর পরীক্ষামূলক ‘ইসলামিক রিলিজিওন’ বিষয়ে পাঠদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রদেশটির শিক্ষা বিভাগ। সম্প্রতি স্পেনের কাতালোনিয়া প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ ঘোষণা দেয়।

কাতালোনিয়ার চারটি প্রদেশ বার্সেলোনা, গিরোনা, লেইদা এবং তারাগোনা অঞ্চলের স্কুলগুলোতে এই পরিকল্পনার অধীনে ইসলাম ধর্মের পাঠদান করা হবে। ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এটি চালু হবে বলে জানানো হয় স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে।

কাতালোনিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন অব দ্যা জেনেরালিতাতের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অগ্রধিকারের ভিত্তিতে ‘ইসলামিক রিলিজিওন’ বিষয়ে শেখানো হবে।

প্রদেশটির বাধ্যতামূলক মাধ্যমিক শিক্ষা (ইএসও) স্তরেও ‘ইসলামিক রিলিজিওন’ বিষয়ে পাঠদান করা হবে বলে জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।
স্পেনের ২০ লাখ মুসলিমের মধ্যে শুধুমাত্র কাতালোনিয়া প্রদেশেই ১৫ লাখ মুসলিমের বসবাস।

স্পেনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংগঠন ইউনিয়ন অব ইসলামিক কমিউনিটির তথ্য মতে, স্পেনের মোট জনসংখ্যার ৩.৮ ভাগ মুসলিম। তাঁদের মধ্যে ৬০ ভাগ অভিবাসী মুসলিম।
কাতালোনিয়ার রাজধানী এবং সর্ববৃহৎ শহর বার্সেলোনা, যা মাদ্রিদের পর স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। কাতালোনিয়ার আয়তন ৩২,১১৪ বর্গ কিলোমিটার এবং এর জনসংখ্যা ৭,৫৩৫,২৫১।

কাতালোনিয়া অঞ্চলের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো। এই অঞ্চলের ছিলো নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পার্লামেন্ট, জাতীয় পতাকা ও সংগীত। কাতালোনিয়ায় নিজস্ব পুলিশ বাহিনী আছে। স্পেনের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ এই কাতালোনিয়ায়। বার্সেলোনা বিশ্বের অত্যন্ত জনপ্রিয় শহরগুলোর একটি, ফুটবল এবং একই সাথে পর্যটনের কারণে।

সূত্র: এ্যাবাউট ইসলাম

জম্মু-কাশ্মীরের পর এবার লাদাখ এবং গুজরাতকে নিজেদের দাবি পাকিস্তানের

জম্মু-কাশ্মীরের পর এবার লাদাখ এবং গুজরাতকে নিজেদের দাবি পাকিস্তানের
তীব্র উত্তেজনার মধ্যে নতুন খবর হলো জম্মু-কাশ্মীরের পর এবার লাদাখ এবং গুজরাতকে নিজেদের দাবি পাকিস্তান। মঙ্গলবার এক সভায় এমনটাই দাবি করেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।

পাকিস্তানের নতুন ম্যাপ ৫ আগস্ট প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ম্যাপে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এবং পশ্চিম গুজরাটের কিছু অংশ পাক এলাকা হিসাবে দেখানো হয়েছে। তবে এই প্রথম এটি কোনো আন্তর্জাতিক বৈঠকে ভারতের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করা হল।

যখন দিল্লি আর বেইজিং এর সংঘাত নিয়ে দুই দেশেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তখন পাকিস্তান ভারতের জন্য নতুন চিন্তার উদ্রেগ করলো। ভারতের একাধিক ভূখণ্ড তাদের মানচিত্রে সংযুক্ত করে ভারতকে ভালোই বিব্রত করলো পাকিস্তান।

‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে’র সদস্য দেশগুলির আয়োজনে ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)। এই মিটিংয়ে পাকিস্তানের নতুন এই ম্যাপ দেখার পর ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইসার (এনএসএ)-র এই ভার্চুয়াল মিটিং থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বের হয়ে যায় ভারত।

এই মিটিংয়ে পাকিস্তান তাদের দেশের যে নতুন ম্যাপটি তুলে ধরে তাতে দেখা যায়, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এবং গুজরাতের কিছু অংশ অবলীলায় পাকিস্তানের সেই মানচিত্রে রয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, যে মানচিত্রটি পাকিস্তান দেখিয়েছে তা আগস্ট মাসের ৪ তারিখে তৈরি করেছিল। মিটিংয়ে পাকিস্তানের এরকম আচরণ স্বভাবতই ভালভাবে নেয়নি ভারত। তাই ভারত রেগেমেগে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। পাকিস্তানের এই আচরণকে ‘এক্সারসাইজ ইন পলিটিক্যাল অ্যাবসারডিটি’ বলে উল্লেখ করল নয়াদিল্লি।

এই ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এনএসএ-র এই মিটিংয়ে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কাল্পনিক মানচিত্র তুলে ধরেছে। যে কোনও আলোচনার আসরে এই ধরনের কাজ তো মিটিংয়ের মূল লক্ষ্যটিকেই ব্যাহত করে। তা ছাড়া মিটিংয়ের হোস্টের পক্ষেও এটা বেশ অবমাননাকর ব্যাপার।

ঘটনা হল, আসল মানচিত্র যা-ই হোক, আর পাকিস্তান যে মানচিত্রই বৈঠকে তুলে ধরুক তার তুল্যমূল্য বিচার নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও স্পষ্ট ও স্বচ্ছ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ভারতকে সমালোচনা করতেও ছাড়েনি তারা।

পাকিস্তান জানায়, যে-ফোরামের কাজই সহযোগিতার আবহ তৈরি করা সেই রকম একটি মঞ্চ থেকে ভারতের এই ভাবে বেরিয়ে যাওয়াটা বেশ বাজে একটা ব্যাপার।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া ট্রাম্প- বাইডেন কারো সাথে আলোচনা করব না: ইরান

আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন যদি নির্বাচিত হন তাহলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর মার্কিন সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেগুলোও প্রত্যাহার করা হবে না।

ইরানের বেশিরভাগ জনগণের ধারণা এমনই। এ অবস্থায় তারা বলছেন, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ট্রাম্প কিংবা বাইডেন কারো সঙ্গে আলোচনা করা উচিত হবে না।

ইরানের জনগণ আরো মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা হয় তাহলে ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা তেহরানের উচিত হবে না। এছাড়া, ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার কোনো ইস্যু হতে পারে না।

ইরানের বহুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও একই ধরনের মতামত। তারা বলছেন, বাইডেন এরইমধ্যে এক বক্তৃতায় বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আরো ‘স্মার্ট উপায়’ রয়েছে। তার এই বক্তব্যের মধ্যদিয়ে প্রমাণ হয় যে, বাইডেন নির্বাচিত হলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন না।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময় বলেছেন যে, যখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের ইস্যু আসবে তখন তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ছাড়া কোনো ইতিবাচক ফলাফল আসবে না। সুত্র: পার্সটুডে

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি হবে না: মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। একইসঙ্গে গতকাল (মঙ্গলবার) হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তি করেছে তার কঠোর নিন্দা করেছেন তিনি।

মাহমুদ আব্বাস বলেন, অধিকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে এবং আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হলেই শুধুমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা মাহমুদ আব্বাসের এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

গতকাল হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরাইল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করার কিছুক্ষণ পরই মাহমুদ আব্বাস এই বিবৃতি দেন।

হোয়াইট হাউসে চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠান
মাহমুদ আব্বাস বলেন, চুক্তি সই করা দেশগুলোর সঙ্গে মূল সমস্যা জড়িত নয়, বরং মূল সমস্যা ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে জড়িত যারা কয়েক যুগ ধরে দুর্দশা মধ্যে রয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, “আজকে হোয়াইট হাউসে চুক্তি সইয়ের নামে যা ঘটল তার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউসে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায়) চুক্তিতে সই করেন আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আলে নাহিয়ান এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যিয়ানি।

মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসার দখলদার ইসরাইলের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন বর্ণবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পার্সটুডে