ইসলামফোবিয়া মোকাবিলার আহ্বান দিল পাকিস্তান

ভিয়েতনামের সভাপতিত্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান জোটের ২৭তম আঞ্চলিক সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছিল শনিবার। তাতে উপস্থিত ছিলেন আসিয়ান জোটের সদস্য দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীরা।

ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়েছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিও। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে কথা চললেও এই প্রথম কোনও নেতা মুসলিমদের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন সেই সম্মেলনে।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিম ভীতি এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে আসিয়ান জোটের দেশগুলোকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান কুরেশি। কুরেশি তাঁর বক্তব্যের বেশিরভাগ সময়টাই মুসলিম বিদ্বেষ রোখার পথ নিয়ে নিয়ে অন্যান্য দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

করোনা ভাইরাসেরল বিপদ কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারেও আলোচনা চলে। কুরেশি জানান বিশ্বাস এবং সম্প্রীতির বার্তা দিয়েই চলতে ভালোবাসে ইসলামাবাদ। ভারতের তীর্থযাত্রীদের জন্য কার্তারপুর সীমান্ততুলে দেওয়ার ঘটনাকেও মাইলস্টোন পদক্ষেপ বলে করেন তিনি।

নাম না নিয়েও জায়নবাদী দখদদারদের ফিলিস্তিনের বসতি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গটি টেনে এনে বলেন অবৈধ বসতি স্থাপন করে অনেক দেশই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পর্ষদের আইনকে অবমাননা করছে। আফগান শান্তি আলোচনা নিয়েও পাকিস্তানের সমর্থনের কথা জানান কুরেশি।

কামান পরীক্ষণের সময় ফাটল ব্যারেল, আহত তিন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ

ভারতের পশ্চিম রাজস্থানে ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তের জয়সলমের জেলার পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে রবিবার বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটল। তবে এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। পরীক্ষণের সময় তোপের ব্যারেল ফেটে যাওয়ায় তিনজন বিশেষজ্ঞ আহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সেনা হাসপাতালে ভরতি করানো হয়েছে।

সুত্র অনুযায়ী, পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে DRDO আর সেনার তত্বাবধানে বেসরকারি ভারতীয় কোম্পানি দ্বারা নির্মিত কামানের রবিবার অন্তিম পরীক্ষণ চলছিল। পরীক্ষণের সময় আচমকা কামানের ব্যারেল ফেটে যায়।

এই দুর্ঘটনায় তিনজন বিশেষজ্ঞ আহত হন। বিশেষজ্ঞদের তৎকাল সেনার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে গত ৩-৪ দিন ধরে পরীক্ষণ চলছিল। সেখানে ভারতীয় ১৫৫ এমএম আর ৫২ ক্যালিবারের হোয়াইটজার কামানের পরীক্ষণ চলছিল। সুত্র: বাংলা হান্ট

নিজেদের প্রাণ নিজেরা বাঁচান কারণ প্রধানমন্ত্রী এখন ময়ূর নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন: মোদিকে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী

করোনাভাইরাস অতিমারী সামলাতে মোদী সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই সোচ্চার। প্রায় নিরলস ভাবে নিয়মিত অতিমারী ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে চলেন। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না।

সকালেই টুইট করে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বলেছেন, লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় দেশের মানুষের জীবন এখন নিজেদেরই সামলাতে হবে কারণ প্রধানমন্ত্রী আপাতত ময়ূর নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

হিন্দিতে লেখা টুইটে রাহুল লিখেছেন, ‘’ভারতের করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অ্যাক্টিভ কেস ১০ লক্ষ পার হতে চলেছে। একজন মানুষের অহঙ্কার দেশকে অপরিকল্পিত লকডাউন উপহার দিয়েছে আর তার ফলেই সারা দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। মোদী সরকার যে ‘আত্মনির্ভর’তার কথা বলছে তার প্রকৃত অর্থ হল ‘নিজেদের প্রাণ নিজেরা বাঁচান’ কারণ প্রধানমন্ত্রী এখন ময়ূর নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।‘’

কোনও পরিকল্পনা ছাড়া লকডাউন করার ফলে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেলাগাম ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

হিন্দিতে একটি কবিতার সঙ্গে ওই শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তার লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে ময়ূরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদীর সকালবেলার ব্যায়াম ইত্যাদির ভিডিও ক্লিপের সঙ্গে ময়ূরকে দানা খাওয়ানোর দৃশ্যও রয়েছে শেয়ার করা ভিডিওটিতে।

আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনে রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধী উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সোনিয়া গান্ধী তার বাৎসরিক শরীর পরীক্ষা করতে বিদেশ গিয়েছেন এবং রাহুল গান্ধীও তার মা’র সফরসঙ্গী হয়েছেন।

লকডাউন এবং কোভিড–১৯ সংক্রমণ নিয়ে মোদী সরকারকে লাগাতার আক্রমণ করে চলা কংগ্রেসের নেতা গত মাসেই টুইট করে জানিয়েছিলেন দেশে কোভিড–১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লক্ষে পৌঁছবে তার এই ভবিষ্যতবাণী সঠিক ছিল।

সরকার অবশ্য তার এই সমালোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকার রাহুল গান্ধীর এই নিয়মিত টুইট করে আক্রমণ করার নাম দিয়েছিলেন ‘’প্রতিদিনের টুইট’’। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘’রাহুল গান্ধী নিয়ম করে প্রতিদিন টুইট করেন।

এটা দেখে মনে হয় কংগ্রেস এখন টুইট করা দলে পরিণত হয়েছে যেহেতু মানুষের মধ্যে গিয়ে তাদের আর কিছু কাজ করার নেই এবং একই সঙ্গে দলের একের পর এক নেতাকে খোয়াতে হচ্ছে। হতাশ ও বিষণ্ণ একটি দল সরকারের বিরুদ্ধে সমস্ত রকম আক্রমণ শানিয়ে চলেছে।‘’

সুত্র: মহানগর ২৪*৭

বিশ্বে শীর্ষ ১০ প্রভাবশালী মুসলিমের তালিকায় এমিনে এরদোগান

তুরস্কের শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের স্ত্রী এমিনে এরদোগান বিশ্বের শীর্ষ দশ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের মধ্যে স্থান পেয়েছেন। গতকাল রোববার এ তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (আইএনএসপিএডি)।

সংস্থাটি একই সঙ্গে পাকিস্তান এবং বেলজিয়াম থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। তারা প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সেরা দশ মুসলিম ব্যক্তিত্বকে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করে। এর পর তাদের মধ্য থেকে সেরা নির্বাচন করা হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার আন্তর্জাতিক শান্তি পুরষ্কার-২০২০ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন এমিনে এরদোয়ান। এ তালিকায় আরো স্থান পেয়েছেন- মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মুহাম্মদ, বাহরাইনের মহিলা পরিষদের প্রধান শাইখা নূরা আল খলিফা,

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ বিন আবদুল কারিম আল-ইসা, সৌদি আরবের মার্কিন কংগ্রেস মহিলা ইলহান ওমর, যুক্তরাজ্যের হাউস অফ লর্ডসের সদস্য লর্ড নাজির আহমেদ এবং উচ্চশিক্ষার আন্ডার সেক্রেটারি এবং দোহা আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন সালাহ আল নওমি।

এ বিষয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদলুকে আইএনএসপ্যাডের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ তাহির তাবাসসুম বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ, সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও সামাজিক সচেতনতার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করায় এমিনে এরদোয়ানকে এ পুরষ্কারের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে।

ইউরোশিয়ান প্রিমিয়ামে প্রথম পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ’

রাশিয়ান শিল্প ও ডিজাইনের আন্তর্জাতিক ফেস্টিভালে ‘ইউরোশিয়ান প্রিমিয়াম ২০২০’ পুরস্কারের আর্কিটেকচার বিভাগে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে অবস্থিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ। বিশিষ্ট স্থপতি রফিক আজমের নেতৃত্বে এক দল স্থপতি এর ডিজাইন করেন।

রফিক আজম পুরস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা এ বছর দুটি পুরস্কার পেয়েছি। এর মধ্যে আজিমপুর কবরস্থানের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ পৌনে ৫০০ ডিজাইনের মধ্যে প্রথম হয়েছে। আর আব্দুল আলিম খেলার মাঠও বিজয়ী হয়েছে।’

রাশিয়ার নগরবাদী ও ডিজাইনারদের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইউরোশিয়া প্রাইজ কর্তৃপক্ষ গত ১০ সেপ্টেম্বর এ পুরস্কার ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পেইজেও এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

জাতীয় ঐতিহ্য ও মুসলিম স্থাপত্যকলার অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আজিমপুর পুরনো কবরস্থানের অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের নামে ২৩ কাঠা জমির ওপর ৩০ হাজার ২২ বর্গফুট আয়তনের মসজিদটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।

প্রাচীন ও আধুনিক নকশার সমন্বয়ে সাজানো মসজিদটির মূল স্থপতি রফিক আজম। বাংলাদেশের মসজিদের প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে অনুপ্রাণিত এর নকশায় মসজিদটিতে নান্দনিক কারুকাজের অংশ ঢাকাবাসীর ঐতিহ্য বহন করে।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদের ভেতরে আছে উন্নতমানের বিদেশি টাইলস। নানান রঙের সুদৃশ্য বাতিতে আলোকিত হয় এটি। কারুকার্যময় নয়নাভিরাম মসজিদটির অভ্যন্তর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

মসজিদে আজানের বাংলা অর্থ বড় বড় অক্ষরে লেখা।
উঁচু মিনারে রাখা মাইকের মাধ্যমে আজানের ধ্বনি ছড়িয়ে যায়। মুসল্লিদের জন্য আছে প্রশস্ত পার্কিং সুবিধা। এতে ৩০টির বেশি গাড়ি রাখা যায়। নারী-পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা অজু ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। মসজিদটিতে একসঙ্গে ১ হাজার ৫২০ জন মুসল্লি ও একসঙ্গে ৭০ জন নারী পৃথকভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজানসহ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদে দুই হাজারের বেশি মানুষ নামাজ পড়তে সমবেত হন।

মসজিদে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। লিফট ও উন্নতমানের টয়লেট সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে জানাজা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার। নারী-পুরুষসহ সবার মৃতদেহ গোসল দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় এখানে। রয়েছে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি: চীন

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলে আসছে। একপক্ষ ইট মারলে অপর পক্ষ পাটকেল মারছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এর মধ্যেই চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিশ্ব শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

যদিও এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও এক প্রতিবেদনে বিশ্বে অস্থিতিশীলতার জন্য চীনা সেনাবাহিনীকে দায়ী করে। এ ছাড়া উভয় দেশ একে অপরের কূটনীতিক বহিষ্কারের মিশনে নেমেছে। খবর গার্ডিয়ান।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল উ কিয়ান গত মার্কিন প্রতিবেদনকে চীনের লক্ষ্য এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সঙ্গে দেশের ১৪০ কোটি মানুষের সম্পর্ক অযৌক্তিকভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বার্ষিক এক প্রতিবেদনে চীনের সামরিক বাহিনীর উন্নতি এবং লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কিয়ান বলেন, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া এবং অন্যান্য দেশে গত দুই দশকে মার্কিন কর্মকা-ের ফলে ৮ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত প্রতিবেদনে চীনের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ও সামরিক নির্মাণ সম্পর্কে মিথ্যা মন্তব্য করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ১৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে চীনের সামরিক বাহিনী কৌশলগত সক্ষমতা, মতবাদ এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। ওই প্রতিবেদনে চীনের সেনাবাহিনীকে বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্ব শান্তির জন্য চরম হুমকি।

জাতিসংঘে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে পাকিস্তান ও চীন

জাতিসংঘের এজেন্ডায় কাশ্মীর এখনও অমীমাংসিত ইস্যুই রয়ে গেছে। ভারত সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুরোধ জানিয়েছে যাতে কাশ্মীরকে তাদের সমস্যার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেয়া হয়। এতেই বোঝা যায় যে, ভারতের পদক্ষেপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতিসংঘের তালিকা থেকে সেটা বাদ পড়েনি।

বাস্তবতা এর বিপরীত – নিরাপত্তা পরিষদ এখন যে কাশ্মীর ইস্যুতে অধিবেশনে বসছে, তাতে বোঝা যায় ভারতের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।

কাশ্মীরকে নিজেদের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ মনে করার কারণেই যে শুধু ভারত নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডা থেকে কাশ্মীরকে বাদ দেয়ার অনুরোধ করেছে, তা নয়, বরং কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অব্যাহতভাবে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় এর সমাধান খোঁজার যে চেষ্টা করছে পাকিস্তান, তার জবাবেই নিরাপত্তা পরিষদে এই অনুরোধ করেছে ভারত।

২০১৯ সালের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রিপোর্টের উপর দেয়া এক বিবৃতিতে ভারত অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান “একটি পুরনো এজেন্ডাকে বারবার কাউন্সিলের এজেন্ডা হিসেবে আলোচনার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে” যেটা “কাউন্সিলের এজেন্ডা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেয়া দরকার”।

তবে, নিরাপত্তা পরিষদ যে ভারতের দাবির স্বীকৃতি দেয় না, তার প্রমাণ হলো যেভাবে তারা কাশ্মীরের ‘বিতর্কিত’ অঞ্চলে নিজেদের সরাসরি উপস্থিতি বজায় রেখেছে, এবং এখনও তারা এটাকে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ হিসেবেই উল্লেখ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডা থেকে একমাত্র তখনই কোন এজেন্ডা বাদ দেয়া হতে পারে, যখন বিষয়টির সমাধান হয়ে যায় বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যখন শেষ পর্যন্ত একটা ঐক্যমতে আসে। কিন্তু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এ সবের কোনটাই হয়নি।

কাশ্মীরকে এজেন্ডার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেয়ার যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে ভারতের, সেটার উৎস হলো তাদের অভ্যন্তরীণ সংবিধান পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ব্যাপারে কোন ঐক্যমত হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদকে কাশ্মীর ইস্যু স্থায়ীভাবে বাদ দিতে বলে মোদি সরকার শুধু তাদের [অবৈধ] ‘চূড়ান্ত সমাধানের’ জন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টাটাই করে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদ কাশ্মীরকে ইস্যু হিসেবে বাদ দিতে অস্বীকার করেছে এবং এতে বোঝা গেছে যে, ভারতের কাশ্মীরকেন্দ্রিক দুর্ভোগ এখনও সক্রিয় রয়েছে। বিতর্কিত এই অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রাখতে পাকিস্তান-চীন যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, সে কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। ভারত কাশ্মীরকে দখল করার পর থেকে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে তিনটি রুদ্ধদ্বার অধিবেশন করেছে।

চীন যে কারণে এই ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, ভারতের নিজের পদক্ষেপের কারণেই সেটা হয়েছে। ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে সংযুক্ত করেছে। লাদাখের মর্যাদা পরিবর্তনের মাধ্যমে, ভারত বোকার মতো চীনকে এ অঞ্চলে তাদের মনোযোগ টেনে আনতে বাধ্য করেছে এবং ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। চীন মনে করে যে, নয়াদিল্লীর একতরফা পদক্ষেপের কারণে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের দাবি এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং উচ্চকণ্ঠে যে দাবি করেছেন যে, আকসাই চিন ভারত ফিরিয়ে নেবে, সেই দাবি আগুনে আরও তেল যোগ করেছে এবং চীনা ড্রাগন এখন সেই আগুন উদ্গিরণ করছে মাত্র।

এতেই বোঝা যায় ভারত আর চীন কেন লাদাখ অঞ্চলে অন্তত দুই বার সঙ্ঘাতে জড়িয়েছে। বোঝা যাচ্ছে চীন লাদাখে একজন সরাসরি খেলোয়াড় এবং ভারতের একতরফা পদক্ষেপের কারণে সার্বিকভাবে কাশ্মীর বিবাদে তাদের অংশগ্রহণ বেড়ে গেছে।

অন্যভাবে বললে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যদিও কাশ্মীরকে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ হিসেবে বিবেচনা করছে, কিন্তু কাশ্মীর কার্যত আর দ্বি-পাক্ষিক অবস্থানে সীমিত নেই।

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং জাতিসংঘে তাদের সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেকে জোরালোভাবে এটা বোঝা যায় যে, বাস্তবতা মৌলিকভাবে বদলে গেছে এবং এই বিবাদটির ত্রিপাক্ষিক হয়ে ওঠা ঠেকাতে ভারতের ব্যর্থতা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

পাকিস্তান অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেছে। নতুন মানচিত্রে কাশ্মীরের ব্যাপারে পাকিস্তান শুধু নিজের অবস্থানই প্রকাশ করেনি, একইসাথে চীনের সংবেদনশীলতাকে তারা বিবেচনায় নিয়েছে এবং ভারত-চীন লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলকে (এলএসি) ‘অচিহ্নিত ফ্রন্টিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মানচিত্রে পাকিস্তানকে চীনা প্রশাসনিক অঞ্চলের সাথে যুক্ত দেখানো হয়েছে। ফলে এখানে জোরালো ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, ভারতকে ঠেকাতে চীন-পাকিস্তানের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে। এই মানচিত্রে পাকিস্তান আর চীনের দাবির একটা দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটেছে, এতে শাকসগাম উপত্যকা দিয়ে দুই দেশকে সংযুক্ত দেখানো হয়েছে। গিলগিট-বালচিস্তান অঞ্চলের এই বন্দরের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী চীন আর পাকিস্তান যুক্ত হয়েছে। এর পূর্ব দিকে রয়েছে আকসাই চিন অঞ্চল, কাশ্মীরের ব্যাপারে চীনের দাবিকৃত অঞ্চলের প্রান্ত এটা। ১৯৬২ সালের ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় থেকে এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে চীন।

নতুন মানচিত্র হয়ত কাগজে আঁকা ছবি মাত্র, কিন্তু এটা একই সাথে ‘দুই ফ্রন্টে যুদ্ধের’ ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে চীনা আর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সমন্বিত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে নতুন সীমানা টানবে।

এই মুহূর্তে চীনারা ‘ট্রান্স হিমালয়ান ইকোনমিক করিডোর’ তৈরির জন্য পাকিস্তান, আফগানিস্তান আর নেপালের সাথে কথা বলছে। এই করিডোর নেপালকে পাকিস্তানের সাথে এবং ক্রমান্বয়ে তিব্বত ও জিনজিয়াং হয়ে আফগানিস্তানের সাথে যুক্ত করবে। বাস্তবতা হলো নেপাল আর ভারত আগে থেকেই আলাদা সীমান্ত বিবাদে জড়িয়ে আছে।

এতে এ অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী খেলোয়াড় হিসেবে নেপালের গুরুত্বটা আরও জোরদার হয়েছে। সাউথ এশিয়ান মনিটর