পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হলো ‘কিং অব ব্যাটলফিল্ড’ আল-খালিদ ট্যাঙ্ক-১

অস্ত্রভাণ্ডারে আল-খালিদ ট্যাঙ্ক-১ যুক্ত করার মধ্য দিয়ে আরেকটি মাইলফলক সাফল্য অর্জন করেছে পাকিস্তান। এই ট্যাঙ্ককে প্রধান সাঁজোয়া যুদ্ধযান বিবেচনা করা হয় এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন ‘কিং অব ব্যাটলফিল্ড’ বা রণক্ষেত্রের রাজা।

চীন ও ইউক্রেনের সঙ্গে যৌথভাবে এই ট্যাঙ্ক তৈরি। মঙ্গলবার হেভি ইন্ডাস্ট্রি তাকসিলায় (এইচআইটি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্যাঙ্ক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোর রেজিমেন্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষা খাতে পাকিস্তানের আত্মনির্ভরশীলতার বড় উদাহরণ হলো আল-খালিদ ট্যাঙ্ক-১ এবং এটা পাকিস্তান-চীন বন্ধুত্বেকে আরো শক্তিশালী করেছে। ড্রাইভার ডিজিটাল প্যানেল ও থার্মাল ইমেজিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এই ট্যাঙ্ক সজ্জিত।

এছাড়াও পারমাণবিক, জৈবনিক ও রাসায়কি হামলার বিরুদ্ধে নিজেকে কার্যকরভাবে রক্ষার সামর্থ্য রয়েছে এই ট্যাঙ্কের।

যুদ্ধের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত ভূমিকা পালনকারী সাঁজোয়া কোর রেজিমেন্টের কাছে এই ট্যাঙ্ক হস্তান্তর করা হয়।

দেশের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাঁজোয়া কোর রেজিমেন্ট সবসময় অনবদ্য দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। চাবিন্দা যুদ্ধে শত্রুর বিরুদ্ধে এই রেজিমেন্টের পারদর্শিতা দেখা গেছে। এটি ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ট্যাঙ্কযুদ্ধ।

১৯৬৫ সালের যুদ্ধে চাবিন্দায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী শত্রুর জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করে। এই যুদ্ধক্ষেত্র ভারতীয় ট্যাঙ্কের বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত।

১৯৪৮ সালে জাতির জনক কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ থার্ড আর্মার্ড ব্রিগেডে বক্তৃতার সময় বলেছিলেন যে ট্যাঙ্ক বাহিনীকে সব দেশ এলিট ফোর্স হিসেবে বিবেচনা করে।

আয়া সোফিয়ার মতই বিশ্বের আরেক নিদর্শন স্পেনের কর্ডোভা মসজিদ

তুরস্কের আয়া সোফিয়ার মতই বিশ্বের আরেক নিদর্শন স্পেনের কর্ডোভা মসজিদ । ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭৮৪ সালের দিকে নির্মাণ কাজ শেষ হয় এই স্থাপত্যটির ।

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানদের পরাজিত করে, কর্ডোভা মসজিদকে গির্জায় রূপান্তর করেন তৎকালীন রাজা তৃতীয় ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলা । এরপর দীর্ঘ ৭’শ বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে আজান ও নামাজ নিষিদ্ধ।

সারা বিশ্বের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন ও অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক স্পেনের কর্ডোভা মসজিদ । বাইরে এবং ভেতরে এর কারুকাজ যে কারোরই নজর কাড়ে ।

দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদে ব্যবহার করা হয়েছে মার্বেলসহ মূল্যবান পাথর আর তার সুনিপুন ও নিখুঁত কারুকাজ যে কাউকে মুগ্ধ করবে ।

স্পেনের তৎকালীন খলিফা আব্দুর রহমানের শাসনামলে ৭৮৪ সালে নির্মিত হয় ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ।

নির্মাণের পাঁচশ বছরের বেশি সময় এখানে নামাজ আদায় করেন মুসলমানরা । ইসলামি শিক্ষা ও সালিশ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার হতো কর্ডোভা । ১২৩৬ সালে রাজা তৃতীয় ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলা মুসলমানদের বিতাড়িত করে স্পেন দখলে নিলে, কর্ডোভা মসজিদ গির্জায় রূপান্তর করা হয় ।

আর তখন থেকেই একে বলা হয় দ্য মস্ক ক্যাথেড্রাল অব কর্ডোভা ।

কর্ডোভায় ঢুকতেই চোখে পড়ে যিশুর ক্রুশবিদ্ধ ভাস্কর্য । দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে খ্রিস্টধর্মীয় চিত্র ও ভাস্কর্য ।

১৯৮৪ সালে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত দেয় ইউনেস্কো । দীর্ঘ ৭’শত বছর মুসলিম সভ্যতার অনন্য এই নিদর্শনটি গির্জা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ।