সীমান্তে পাকিস্তানি সেনার গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত

স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের রাজৌরিতে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে গুলি বিনিময়ে ভারতীয় এক সেনা নিহত হয়েছে। নিহত ভারতীয় সেনার নাম হাবিলদার এস গুরুং।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণরেখায় নৌশেরা সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, কাশ্মীরের রাজৌরির নৌশেরা সেক্টরের শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় পাক সেনাদের গুলিতে গুরুতর ঘায়েল হন ভারতীয় সেনা হাবিলদার এস গুরুং। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ভারতীয় সেনা তরফের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ১০ জুলাই পাকিস্তানের সেনারা কোনো কথাবার্তা ছাড়াই গুলি ছুড়েছে। যার জেরে হাবিলদার এস গুরুং মারা যান।

দাবিকৃত ওই বিবৃতির তথ্যমতে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার খর্ব করার পর থেকেই তাদের সেনাদের ওপর গুলি ছোঁড়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সেনারা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও সংবাদ

করোনা সন্দেহে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলা হলো তরুণীকে, রাস্তাতেই মর্মান্তিক মৃত্যু

যেকোনও বিশেষণই এমন ঘটনার নির্মমতা বোঝাতে কম হয়ে যাবে ৷ করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে ১৯ বছরের কিশোরীকে বাস থেকে টেনে, হিঁচড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন যাত্রীরা ৷ নারকীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজ্য উত্তরপ্রদেশে ৷

ভারতীয় গণমাধ্যগুলো জানা জানায় আনশিকা যাদব নামে ১৯ বছরের কিশোরী উত্তরপ্রদেশের শিকোহাবাদ থেকে দিল্লি যাওয়ার বাসে চেপেছিলেন ৷ সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা ৷ দিল্লির মান্ডাওয়ালি নিবাসী মেয়েটি লকডাউন আবারও শুরু আগে ফিরতে চাইছিলেন বাকি পরিবারের কাছে ৷

পরিকল্পনা মতো দিল্লি যাওয়ার জন্য মাকে নিয়ে সে ১৫ জুন শিকোহাবাদ থেকে বাস ধরে ৷ বাসে ওঠার সময়ে নিরীহ মেয়েটি জানত না কোন ভয়াবহ পরিণতি তার জন্য অপেক্ষা করছে ৷
ঘটনার দিন শরীর বিশেষ ভাল ছিল না ওই কিশোরীর ৷ কিডনিতে স্টোন থাকায় চিকিৎসা চলছিল তাঁর৷ যাত্রার ধকলে, গরমে বাসে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে ৷

ব্যাপারটা চোখ এড়ায়নি সহযাত্রীদের ৷ মুহূর্তের মধ্যে কিভাবে যেন গোটা বাসে গুজব ছড়িয়ে যায় যে ওই মেয়েটি করোনা আক্রান্ত ৷ বাসের সমস্ত যাত্রী প্রচন্ড ক্ষেপে ওঠে তাদের নানা অকথা-কুকথা শোনাতে থাকে ৷ বাস থেকে নেমে যাওয়ার জন্য জোরজবরদস্তি করতে থাকেন তারা ৷

এমন পরিস্থিতিতে ভয়ে আতঙ্কে প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় কিশোরীটি ও তাঁর মা ৷ মাঝ রাস্তায় এভাবে কোথায় যাবেন তা বুঝতে না পেরে সবার কাছে বারবার কাকুতি মিনতি করতে থাকেন তারা ৷

মেয়েটি যে করোনায় আক্রান্ত নন , তাঁর মায়ের আশ্বাসবাণী কারোরই কানে ওঠেনি ৷ শেষে এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায় যে করোনা আক্রান্ত এই ভয়ে ছোঁয়া না যাওয়ায় বাসের মধ্যে থাকা একটা নোংরা কম্বল জোর করে ওই কিশোরীর গায়ে জড়িয়ে, কম্বল ধরেই তাকে সিট থেকে টেনে নামানো হয় ৷ এরপর বাসের কনডাক্টর জোর করে টেনে হিঁচড়ে ১৯ বছরের অসহায় মেয়েটিকে ওই কম্বলসুদ্ধু চলন্ত বাস থেকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দেয় ৷

আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ের উপর গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে কিশোরী ৷ কিছুক্ষণের মধ্যে ওখানেই মারাও যায় সে ৷ ঘটনায় প্রথমে কোনও অভিযোগ নিতে চায়নি মথুরা পুলিশ, দাবি নিহতের পরিবারের ৷ বলা হয়, স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরীর ৷ কিশোরীর ভাই বিপিন যাদব জানান, তার বোনকে খুন করা হয়েছে ৷

ঘটনার খবর পেতেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে রিপোর্ট চায় দিল্লি কমিশন ফর উইমেন ৷ দিল্লি কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল ট্যুইটে আশ্বাস দিয়েছেন, এমন ঘৃণ্য অপরাধের জন্য কেউই রেহাই পাবে না ৷ দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে ৷