পাকিস্তানে ফের সেনা অভ্যুত্থানের ছক? ৩ জেনারেল-সহ সেনার ৬০ অফিসার বরখাস্ত!

পাকিস্তানে কি ফের সেনাবিদ্রোহের ঘুঁটি সাজানো হচ্ছিল? সম্প্রতি পাক সেনার তিন জেনারেল-সহ ৬০ জন গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে বরখাস্ত করার খবরে এই জল্পনা চরমে উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেসেজ চালাচালি করেছেন তাঁরা।

যদিও সেনা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কারণেই যে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, এমন খবর নিশ্চিত করা যায়নি। অন্য দিকে পাকিস্তানও সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে স্মার্ট ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সেনার ওই পদস্থ অফিসাররা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রচুর মেসেজ আদানপ্রদান করেছেন বলে অভিযোগ।

এর পরেই লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল্লা ডোগার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইজাজ চৌধরি এবং জেনারেল বিলাল আকবর-সহ বিভিন্ন ইউনিট থেকে মোট ৬০ জন সেনা অফিসারকে বরখাস্ত করে পাক সেনা। তার পর থেকেই নানা মহলে জোর জল্পনা যে,

স্মার্ট ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার প্রাথমিক কারণ হলেও মূল কারণ সেনা বিদ্রোহের পরিকল্পনা হতে পারে।

তবে সরকারি ভাবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও কেউ মুখ খোলেনি। আবার বড় কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও এই খবর নেই। পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমেও এই ধরনের কোনও খবর প্রকাশিত হয়নি।

তবে পাকিস্তানে ইমরান খানের কর্তৃত্ব কমা এবং সরকারে সেনার আধিপত্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত একাধিক খবরের ভিত্তিতে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

‘সিন্ধুদেশ’ নামে একটি টুইটার হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য হওয়ার অভিযোগে ওই তিন জেনারেল-সহ ৬০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সেনা বিদ্রোহের পরিকল্পনার জন্যই যে ওই সেনা অফিসারদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, এমন খবর নিশ্চিত করে বলা হয়নি ওই টুইটার হ্যান্ডলেও।

অন্য একটি সম্ভাবনাও অবশ্য উঠে এসেছে। গত বছরের নভেম্বরেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে কামার বাজওয়ার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়েছেন ইমরান খান। সেই সিদ্ধান্তের জেরে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধানের পদে থাকবেন।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তে পাক সেনার অভ্যন্তরের একাংশে ক্ষোভ-অসন্তোষ জমেছে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ওই অংশে কামার বাজওয়ার প্রতি আনুগত্যও কমার পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধাচারণের পরিকল্পনাও চলছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ওই গোষ্ঠীকে ছেঁটে ফেলতেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আবার এই সিদ্ধান্তের ফলে পাক সেনার অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানানো হয়েছে। ফলে অন্য কোনও গোষ্ঠীও বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারে বলে জল্পনা-গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের ৭২ বছরের ইতিহাসে সেনা অভ্যুত্থানের নজির রয়েছে একাধিক বার। কখনও তা সফল হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন সেনার পদস্থ কর্তা। উদাহরণ পারভেজ মুশারফ। কখনও আবার কড়া হাতে দমন করা হয়েছে।

আবার সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে ইমরান খান সরকারে আধিপত্য বাড়ছে পাক সেনার। দেশে অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি, বেহাল অর্থনীতির মতো একাধিক ইস্যুতে ‘কাপ্তান’ ইমরানের জনপ্রিয়তা ও কর্তৃত্ব দু’টোই কমছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আর সেই সুযোগে ইমরানের উপর চাপ বাড়ছে সেনাবাহিনীর। সরকারের অভ্যন্তরে সেনা আধিকারিকদের নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক শিবিরের একটা বড় অংশ মনে করেন,

সরকারে শীর্ষ পদে এ ভাবে সেনা আধিকারিকদের নিয়োগ করা হলে সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই সব প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দিলেও সেনা অফিসারদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা এবং অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

কাশ্মীরে বাবা-ভাইসহ বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

কাশ্মীরের বান্দিপুর জেলায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির স্থানীয় এক নেতাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শেখ ওয়াসিম নামে ওই নেতার সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা এবং ভাইও। ওয়াসিম বিজেপির জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।

বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশে এক দোকানে বসে থাকার সময়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ভারতীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মার্চের শেষ দিকে ভারতজুড়ে কঠোর লকডাউন শুরু হলে কাশ্মীরে নিরাপত্তা অভিযান জোরালো করে নয়াদিল্লি। পুলিশের হিসাবে এ বছর কাশ্মীরে নিরাপত্তা অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।

গত মাসে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে অন্তত ৩৩ জন। তবে বেশ কয়েক দিন থেকেই কমে যায় নিরাপত্তা বাহিনী ও ভারত সরকারের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা।

বুধবার স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে বান্দিপুর জেলা বিজেপি সভাপতি শেখ ওয়াসিম বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির বাইরে দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় তাদের ওপর হামলা হয়। ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়।

কাশ্মীর পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং জানিয়েছেন, ওই পরিবারের নিরাপত্তায় আট পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিল। কিন্তু ঘটনার সময়ে সেখানে কেউই উপস্থিত ছিল না। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে এসব পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

হামলাকারীদের খুঁজতে ওই এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাশ্মীর পুলিশ।

মায়ানমারের রাখাইনে এখনও চুপিসারে চলছে বিমান হামলা

বিশ্বের চোখে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে না জানি কত অভিযান চালিয়েছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। সংখ্যালঘু নাগরিকদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধিকরণ অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে খুন করে গণকবর দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অকথ্য নিপীড়ন ও অত্যাচারের কথা তো গোটা বিশ্বেরই জানা।

তবে এবার বার্মার শাসকদের বিরুদ্ধে গুরুতর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মায়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন ও চিন রাজ্যেও শিশুসহ অসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে।

রাখাইনে একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের জন্য রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ বিষয়ে বুধবার নতুন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি।

এতে বলা হয়েছে, মার্চ ও এপ্রিলে চিন রাজ্যে বেশ কিছু গ্রামে মায়ানমারের সেনাবাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে এমন নতুন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে তারা। এসব হামলায় মারা গেছেন এক ডজনেরও বেশি মানুষ।

অ্যামনেস্টিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ১৪ ও ১৫ই মার্চ পালেত্ব টাউনশিপে বিমান হামলায় মারা গেছেন তার এক চাচা, ভাই ও ওই ভাইয়ের ১৬ বছর বয়সী এক বন্ধু। একই গ্রামের আরেকটি পরিবারের দু’ব্যক্তি বলেছেন, বোমা হামলায় সাত বছর বয়সী একটি বালক সহ মারা গেছেন ৯ জন। নিহত বালকের পিতা অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, ‍‌‌‌‌‌‌’আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।’

পালেত্ব এলাকায় ৭ই এপ্রিল আরেক দফা বিমান হামলা চালানো হয়। এতে সাত জন নিহত ও আট জন আহত হন। এসব হামলায় যেহেতু অসামরিক লোকজন মারা গেছেন তাই একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আরাকান আর্মি রাখাইনের বৌদ্ধদের জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

এই রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই মুসলিম রোহিঙ্গা। এ রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে চিন রাজ্যের, যার বেশির ভাগ মানুষ খ্রিস্টান। গত বছর জানুয়ারিতে মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায়। মায়ানমার সরকার তাদেরকে সরকারিভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার পর মার্চে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সূত্র: পুবের কলম

ইসরাইলের দখলদারিত্ব নিয়ে বিশ্বের নীরবতা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল: মুসলিম ইউনিয়ন

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এলাকায় দখলকৃত জমি দখলের ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্ব নীরব থাকলে তা বিশ্বাসঘাতকতার সামিল হবে। আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন ফর মুসলিম স্কলারস (আইইউএমএস) সোমবার এমন মন্তব্য করেছে। খবর ইয়েনি সাফাকের।

আইইউএমএস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইল যদি এই জমিগুলো দখল করতে সফল হয় তবে পুরো বিশ্ব জাতিসংঘের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। বিশ্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন ফর মুসলিম বিশ্বকে ফিলিস্তিনের সাথে একাত্মতা ও ইসরাইলের সাথে সমস্ত চুক্তি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। এই সংস্থাটি ইসরাইলের আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধের মারাত্মক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফিলিস্তিনের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডেও ইসরাইলের দখলকে ধর্মে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি হবে আরব ও মুসলিম প্রজন্মের বিরুদ্ধে এক ধরনের অপরাধ।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে জর্ডান উপত্যকা পর্যন্ত দখলের প্রতিশ্রুতি করেছেন।

তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেম উভয়ই ‘অধিকৃত অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে সমস্ত ইহুদিদের অবস্থান ও নির্মাণ কার্যক্রমকে অবৈধ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

বেলজিয়ামে হিজাব নিষেধাজ্ঞা আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধকরণ আইন বাস্তবায়নের সম্ভাবনার বিষয়টি ঘোষণার পর থেকেই সুপ্রিম কন্সটিটিউশনাল কোর্ট-বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে অসংখ্য মানুষ।

এরই প্রেক্ষিতে গত রোববার (৬ জুলাই) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের একটি উন্মুক্ত ময়দানে অন্তত চার হাজার মুসলিম দেশটির সাংবিধানিক আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

শহরের একাধিক সামাজিক সংগঠনের আহবানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিক্ষোভকারীদের হাতে নানাধরণের ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছিলো- সেগুলোতে লেখা ছিলো, ‘হিজাব মানব অধিকার’, ‘কোথায় আমাদের স্বাধীনতা?’ এবং ‘যথেষ্ট হয়েছে’ ইত্যাদি হিজাব সমর্থিত বিভিন্ন শ্লোগান।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক নারী বলেন, বেলজিয়ামে বসবাসরত মুসলিম নারীরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নানাসময়ে বৈষম্যের শিকার হন। বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষকে আইন প্রণয়নে মুসলিমদেরও বিবেচনায় রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত জুনের শুরুর দিকে বেলজিয়ামের সাংবিধানিক আদালতের ঘোষণা মতে- ফ্রান্সিসকো ফেরার ইনস্টিটিউট তাদের ক্যাম্পাসে হিজাব সহ সকল ধর্মীয় প্রতীক নিষিদ্ধকরণের বৈধতা পায়। একইসঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়েও হিজাব নিষিদ্ধের সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত।

এরপর থেকেই ব্রাসেলসের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আদালতের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তা বাতিল করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, আদালত এই আইন বাস্তবায়ন করলে তা হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

আরো পড়ুন-ঐতিহাসিক ‘আয়া সোফিয়া’-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে তুরস্কের আদালতের রায়

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকা মামলার রায়ে আয়া সোফিয়া-কে জাদুঘরে রুপান্তর সংক্রান্ত আইনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়া সোফিয়া-কে মসজিদে রুপান্তর করতে আইনগত কোনো বাঁধা থাকলো না।

আজ বুধবার ( ৮ জুলাই) তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইয়েনি শাফাক’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা না করা হলেও তুরস্কের আরেকটি প্রভাবশালী দৈনিক ডেইলি সাবাহ‘র আংকারা প্রতিনিধির সূত্রে খবরটি প্রকাশ করে ইয়েনি শাফাক।

আশাকরা হচ্ছে লিখিত রায় প্রকাশ পেলে আগামী শুক্রবার থেকেই আয়া সোফিয়াতে নামাজ আদায় শুরু হতে পারে। এ রায়ের মাধ্যমে তুরস্কের ইসলাম প্রিয় জনতার দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হতে যাচ্ছে।

আয়া সোফিয়া-কে মসজিদে রুপান্তর না করতে প্রাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং রাশিয়াসহ নানা মহলের ব্যাপক চাপ ছিল। চাপকে উপেক্ষা করে এই রায় ঘোষিত হলো। এর মাধ্যমে প্রায় ৮০-৯০ বছরের দাবি, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কুটনীতির সমাপ্ত হবে।

আয়াসোফিয়াকে ইসলাম প্রিয় জনগন ইস্তান্বুল বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিম্বল মনে করে। আর এটাকেই জাদুঘরে রুপান্তর করেছিল একদলীর সেক্যুলার সরকার। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৮৫ বছর। এই রায়ের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল তার সিম্বল পুনরায় ফিরে পাবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ এব্যাপারে আদালতের রায় দেবার কথা ছিল, পরে তা পিছিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আয়া সুফিয়া মসজিদ নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হচ্ছে, এটিকে মসজিদ বলা হবে নাকি জাদুঘর বলা হবে তা নিয়ে। কারণ এক সময় এই স্থাপনাটি গীর্জার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত।

এটি নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা আয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গীর্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল। এ নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল-পাল্টা দখলের ঘটনাও ঘটে।

প্রায় ১০০০ বছর ধরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা। পরে ১৪৫৩ সালে যখন সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহের ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন একে পরিণত করা হয় মসজিদে। সেসময় থেকে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত এটি ছিলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। এর পর তুরস্ক থেকে ইসলাম নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়ার পর ১৯৩৫ সালে কামাল পাশা আতাতুর্ক ঐতিহাসিক এ মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করে।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলো। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা শুরু হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বেশ কিছুকাল আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন। এ মসজিদটি নিয়ে বরাবরের মতোই এরদোগানের সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমারা।

আয়া সোফিয়া মসজিদে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠানের ঘটনায় এথেন্সের সমালোচনার পর নতুন করে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার বাদানুবাদ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে উঠে। মসজিদের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে দু’দেশের মধ্যকার বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বহুদিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলে আসলেও নতুন করে তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রিস এবার তুরস্কের সঙ্গে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির চেষ্টা করবে। এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও বিদ্বেষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করবে।

আয়া সোফিয়ার ব্যাপারে গ্রিসের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দাবির প্রতিক্রিয়ায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।

এথেন্স এই স্থাপনাটিকে গীর্জা হিসেবে দাবি না করলেও তারা বলেছে, এটি একটি প্রাচীন জাদুঘর এবং এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা বিষয়ক ইউনিসেফের নীতিমালার লঙ্ঘন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রিসের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, এথেন্সে অনেক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে।