সেই মালালা এখন অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট!

পাকিস্তানে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মালালা ইউসুফজাই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতির উপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন তিনি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নাতক হওয়ার খবর নিজেই দিয়েছেন এই তরুণী।

স্কুলে যাওয়ার পথে ১৩ বছর বয়সে জঙ্গি হামলার শিকার হন মালালা ইউসুফজাই।এই ঘটনায় বিশ্ববাসীর নজরে আসেন এই তরুণী।ভয়াবহ ওই তালেবান জঙ্গি হামলায় মালালার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তোলে।

জঙ্গি হামলা দমাতে পারেনি আত্মপ্রত্যয়ী মালালাকে।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।মালালা দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় স্নাতক হওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছেন সেটি জানা যায় গত ৮ জুন। সেদিন ইউটিউবের বিশেষ একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আর চারটি পরীক্ষা বাকি আছে।

স্নাতক হওয়ার উপলক্ষ উদযাপন করতে মালালা ঘরোয়াভাবে কেক কেটেছেন। সেই ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতির উপর ডিগ্রি শেষ করলাম। এই আনন্দ প্রকাশ করা কঠিন। সামনে কী আছে জানি না। এই মুহূর্তে নেটফ্লিক্স, পড়া এবং ঘুম নিয়েই আছি।

২০১২ সালের ৯ অক্টোবর তালেবান জঙ্গিরা গুলি করে মালালার মাথায়। এরপর পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে টানা ৪৯ দিন যুদ্ধ করেন জীবনের সঙ্গে। হারিয়ে দেন মৃত্যুকে। পরে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করেন।পৃথিবীর ইতিহাসে এত কম বয়সে নোবেল জয়ের ঘটনা এটাই প্রথম। নয়া দিগন্ত

চীনের প্রেসিডেন্ট ভেবে কিমের ছবি পোড়ালেন বিজেপি নেতা!

কোথায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, কোথায় বেইজিং আর কোথায় পিয়ংইয়ং! চিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে ইতিহাস-ভূগোল মিলিয়ে ফেললেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক নেতা ও তার অনুসারীরা।

লাদাখে চীনের সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় ফুঁসছে ভারত। চারিদিকে বিক্ষোভ। চীনা পণ্য বয়কটের ডাক ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এই ক্ষোভের জের ধরে আসানসোল বিজেপি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ছবি পোড়াতে গিয়ে আগুন দিয়ে দিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনের ছবিতে।

টুইটারের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, আসানসোলের দক্ষিণ-১ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি পরিচয় দিয়ে গণেশ মান্ডি নামের এক ভদ্রলোক বলছেন, ‘লাদাখের ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা মিছিল বের করেছি। আমরা এবার চীনের প্রধানমন্ত্রী কিম জনের ছবিতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানাব।’

গণেশ এও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন– চীনা পণ্য বর্জন করুন। স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করুন।’ তারা সবাই মিলে চীনকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

স্বাভাবিকভাবেই কিমকে চীনের প্রধানমন্ত্রী বলা নিয়ে হাসাহাসি চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।তবে আসানসোলের অন্যান্য বিজেপি নেতারা বলছেন, সেনাদের রক্ত দেখলে কোনো সাচ্চা দেশপ্রেমীর মাথার ঠিক থাকে না। এসব হতেই পারে।

নাসায় ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি নারী সিলেটের মাহজাবীন

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার প্রতিষ্ঠান নাসায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিলেটের মেয়ে মাহজাবিন হক।

মাহজাবিন হক নাসায় নিয়োগ পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি নারী। তার পিতা সৈয়দ এনামুল হক পূবালী ব্যাংক লি. এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামে।

মাহজাবিন হক এ বছরই মিশিগান রাজ্যের ওয়েন স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রী সম্পন্ন করেছেন।

পেইন্টিং ও ডিজাইনে পারদর্শী মাহজাবীন হক ২০০৯ সালে পিতা-মাতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে যান। কর্মসূত্রে পিতা সৈয়দ এনামুল হক সিলেটে অবস্থান করলেও তার সাথে আছেন মা ফেরদৌসী চৌধুরী ও একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক। সৈয়দ সামিউল হক ইউএস আর্মিতে কর্মরত। তারা সিলেট নগরীর কাজীটুলাস্থ হক ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা।

মাহজাবীন হক ওয়েইন স্টেইট ইউনিভার্সিটি অধ্যয়নকালে দুই দফায় টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ইন্টার্ণশীপ করেছেন। প্রথম দফায় তিনি ডাটা এনালিস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে মিশন কন্ট্রোলে কাজ করেন।

মাহজাবীন হক জানান, দু দফায় ৮ মাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নাসা অ্যামাজন সহ বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা কোম্পনী থেকে তিনি চাকরির অফার পেয়েছেন। এর মধ্যে নাসাকেই বেছে নেন তিনি।