করোনায় এবার অসহায় সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ালেন আফ্রিদি

করোনায় এবার অসহায় সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ালেন আফ্রিদি

বিশ্বজুড়ে করোনার দাপট অব্যাহত। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে।

অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও করোনা সংক্রমণে হিমশিম খাচ্ছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে গিয়ে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।

সংখ্যালঘু লোকজনদের রেশন ও অর্থ সাহায্য দিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করছেন তিনি। সেদেশের আন্তর্জাতিক টেনিস তারকা রবিন দাসের আর্জির পর আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন বুমবুমখ্যাত ক্রিকেটার।

এক বিবৃতিতে রবিন করাচিতে করোনার সামাজিক সংক্রমণের সময়ে গৃহবন্দি সংখ্যালঘু পরিবারের সাহায্য করতে আফ্রিদিকে আর্জি জানান। এরপরই পাক তারকা অলরাউন্ডারের ফাউন্ডেশন বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। খ্রিস্টান হোন কিংবা হিন্দু, করাচির সংখ্যালঘু পরিবারের খাদ্য দিয়ে সাহায্য করছেন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানে প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য শহীদ আফ্রিদির ফাউন্ডেশন মাস্ক ও খাবারের যোগান দিয়ে দুস্থ, সহায়-সম্বলহীনদের সহায়তা করেছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ ভারতীয় দুই ক্রিকেটার হরভজন সিং ও যুবরাজ সিংয়ের নজরে আসে। পরে তারা পাকিস্তান সাবেক অধিনায়কের পাশে এসে দাঁড়ান। আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করেন ভাজ্জি-যুবি।

এবার আফ্রিদির সেই ফাউন্ডেশনই পাক সংখ্যালঘুদের সাহায্যে এগিয়ে এলো। ভাইরাস মোকাবেলায় লড়াইয়ে প্রতিদিনই মানবিকতার নতুন পরিচয় দিচ্ছেন আফ্রিদি।

সূত্র: এবিপি আনন্দ

হানিমুন নয়, করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন মুসলিম চিকিৎসক দম্পতি

বিয়ের জন্য পছন্দের পোশাক বাছাই করা শেষ, হানিমুনের জন্য বুকিং দেওয়াও হয়েছে। মহা ধুমধাম করে বিয়ে হওয়ার কথা মার্চের শেষে। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সব উলট পালট করে দিল।

কথা হচ্ছিল আমেরিকার দুই মুসলিম চিকিৎসক কাশিফ চৌধুরী ও নাইলা শেরিনের। করোনা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য তারা ধুমধাম করে বিয়ে ও হানিমুনের সমস্ত পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়।

দুই সপ্তাহ আগে তারা নিউ জার্সির এক মসজিদে বিয়ে করে। এরপর নাইলা শেরিনের বাবার বাড়িতে ছোট পরিসরে উদযাপন করে। কিন্তু এর ১২ ঘণ্টা পরেই শেরিন তার স্বামীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান।

কাশিফ চৌধুরী বলেন, আমরা একে অপরকে বিদাই জানাই, আমাদের চোখ বেয়ে পানি বের হয়ে আসে এবং আমরা বিষণ্ণ ছিলাম। আমি তাকে সেসময় তাকে একটি গোলাপ দেই।

এরপর সোমবারই কাজে যোগদান করে শেরিন। নিউ ইয়র্ক যেখানে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ চলছে সেখানে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তিনি।

শেরিন বলেন, আমরা সবাই জানি নিউ ইয়র্কের অবস্থা ভাল না এবং এও জানি ভয়াবহ অবস্থা এখনো আসেনি।

অন্যদিকে কাশিফ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিডার র‌্যাপিডস শহরের মারসি মেডিক্যাল হাসপাতালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগী দেখছেন। তবে মন পড়ে আছে নিউ ইয়র্কে। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর কাছে।

তিনি বলেন, তার জন্য আমার অনেক দুশ্চিন্তা হয়, কিন্তু সত্যি তার জন্য আমি গর্বিত।

করোনার প্রকোপে ভয়াবহ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের। ইতিমধ্যে দেশটিতে ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৭ হাজার ৩৯২ জন।

এরমধ্যে নিউ ইয়র্কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিক্ষণে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। রয়টার্স