কাশ্মীর পাকিস্তানের কাছে যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তুরস্কের কাছেও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ: পাক পার্লামেন্টে এরদোগান

পাকিস্তানে দুই দিনের ঐতিহাসিক সফরের প্রথম দিনে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ঐতিহাসিক ভাষণ রাখলেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রজব তৈয়‍্যব এরদোগান। আজ তাঁর উক্ত ভাষনে কেবল পাকিস্তান অথবা তুরস্ক নয়, প্রতিফলিত হল সমগ্র মুসলিম বিশ্ব।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দেওয়া এরদোগানের উক্ত ভাষণে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। তার মধ‍্যে ফিলিস্তীন, কাশ্মীর ও সিরিয়া সহ মজলুম বিশ্বের জন্য তাঁর বক্তব্য সবার হৃদয় কেড়েছে।

কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে তিনি বলেছেন যে, কাশ্মীর পাকিস্তানের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ তুরস্কের কাছে ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “কাশ্মীর সমস্যাটি সমস‍্যা অথবা অত‍্যাচার দিয়ে নয় বরং ন‍্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সমাধান করা যেতে পারে”।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তুরস্ক ইদলিবে রয়েছে প্রায় চার মিলিয়ন মজলুম মানুষকে ব‍্যারেল বোম দিয়ে হত‍্যা করা থেকে রক্ষা করতে। এদিন তিনি মজলুম সিরিয়া নিয়ে ও আওয়াজ তুলেছেন, তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে,

তুরস্ক ইদলিবে রয়েছে প্রায় চার মিলিয়ন মজলুম মানুষকে ব‍্যারেল বোম দিয়ে হত‍্যা করা থেকে রক্ষা করতে। তিনি এদিন পাকিস্তানের ভূয়সি প্রসংশা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি পাকিস্তান কে নিজের ঘর মনে করেন। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের লড়াইয়ে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি এদিন উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে শত্রুদের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুজাহিদদের সহায়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি এদিন উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে শত্রুদের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুজাহিদদের সহায়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি কবিসম্রাট আল্লামা ইকবাল রহঃ এঁর ভূয়সি প্রসংশা করেছেন। তিনি বলেন, কোন দূরত্ব অথবা সীমান্ত মুসলিমদের হৃদয় সমূহের মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারে না। তিনি বলেন, কোন দূরত্ব অথবা সীমান্ত মুসলিমদের হৃদয় সমূহের মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারে না।

তিনি এদিন ট্রাম্পের ডীল অফ দ‍্য সেঞ্চুরির তীব্র সমালোচনা করেছেন ও একে ‘ দখলদার প্রকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য এরদোগানের দুই দিনের এই সফর তুরস্ক ও পাকিস্তান এবং মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আবারও একই বন্ধনে আবদ্ধ হল মুসলিম বিশ্বের এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম নেতা এরদোগান!

বৈশ্বিক রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে একটি জরিপ করেছে গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনাল। এতে সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম নেতা হিসেবে সূচকে এগিয়ে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এছাড়াও বিশ্বের পঞ্চম জনপ্রিয় নেতা হলেন তিনি।

বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে এরদোগানের যেখানে ৩০ শতাংশ, সেখানে সৌদি সালমান বিন আবদুল আজিজের ২৫ শতাংশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির জনপ্রিয়তা ২১ শতাংশ।-খবর দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের

জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির চ্যান্সেলর অঞ্জেলা মেরকেলের ৪৬ শতাংশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তারপরেই রয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তার জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ। এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৩৬ শতাংশ, ট্রাম্পের ৩১ শতাংশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরেই ৩০ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে পঞ্চম স্থানে তুরস্কের এরদোগান।

১৯৭৭ সালে ডা. জর্জ গ্যালাপ প্রথম জনপ্রিয়তার এই সূচক নির্ণয় শুরু করেন। এরপর প্রতিবছরই শেষের দিকে গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড অফ ইয়ার সার্ভেই প্রকাশ করা হচ্ছে। চলতি বছরে বিশ্বের ৫০টি দেশে এই জরিপ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পঞ্চাশ হাজার ২৬১ জন জরিপে অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি দেশ থেকে এক হাজার নারী-পুরুষ এই জরিপে প্রতিনিধিত্ব করেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মুখোমুখি, টেলিফোন ও অনলাইনে তারা ভোট দিয়েছেন।