নাগার্নো- কারাবাখে আজারবাইজানের অভিযান, ১০০ আর্মেনীয় সেনা আটক

আর্মেনিয়া নিয়ন্ত্রিত নাগার্নো-কারাবাখে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ আর্মেনীয় সেনাকে আটক করেছে আজেরি বাহিনী । এর প্রতিবাদে আর্মেনিয়াতে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে নাগার্নো-কারাবাখের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণলায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেশ কয়েকটি সেনা পোস্টের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এদিকে আজারবাইজানের পক্ষ থেকে আর্মেনীয় সেনা আটকের বিষয়ে এখনো কিছু বলা হয়নি।

টানা ছয় সপ্তাহ সংঘর্ষের পর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এর ফলে নাগোরনো- কারাবাখের আর্মেনীয় অধ্যুষিত এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হয়েছে আর্মেনিয়াকে। এমনকী ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে তারা যে ছয়টি জেলা অধিকার করেছিল, সেগুলোও আজারবাইজানকে দিয়ে দিতে হয়েছে।

ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির পর রোগীকে জোর করে সিজার!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নরমালে সন্তান ডেলিভারি হওয়ার পর রাণী বেগম নামে এ প্রসূতিকে জোর করে সিজার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

এমন অভিযোগে বুধবার সকালে প্রসূতির স্বামী আল-আমিন কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। রাণী বেগম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কয়ারগাছি গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ ডিসেম্বর রাতে রাণী বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে কালীগঞ্জ শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ সময় উপস্থিত ডাক্তার রোকসানা পারভিন ইলোরা বলেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে। না হলে প্রসূতি ও সন্তানকে বাঁচানো যাবে না।

এ সময় অপারেশনের জন্য ১২ হাজার টাকা চুক্তি হয়। কিছুক্ষণ পরেই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয় কিন্তু সিজারের আগেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তারপরও জোরপূর্বক ডাক্তার ও ম্যানেজার মাসুদ হোসেন সিজার করতে যায়।

প্রসূতি অপারেশনে বাধা দিলে ম্যনেজার রোগীকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়ে বলেন- তুই কি ডাক্তারের থেকে বেশি বুঝিস। বেশি কথা বললে চিরদিনের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দেব। এরপর জোরপূর্বক অজ্ঞান করে সিজার করে।

প্রসূতির স্বামী আল আমিন বলেন, অপ্রয়োজনে আমার স্ত্রীকে মারধর ও অপারেশন করা হয়েছে। আমার অসুস্থ স্ত্রীকে অমানবিকভাবে মারধর ও হত্যার হুমকির বিচার দাবি করছি।

ওই প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার ও ম্যানেজার মাসুদকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের মালিক ফিরোজ হোসেন জানান, বাচ্চা নরমালেই ডেলিভারি হয়েছে। তবে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ফলে রক্ত বন্ধ করতেই সিজার করা হয়েছিল।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: যুগান্তর

বাংলাদেশের সাথে ২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা বললেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগে থেকে নির্ধারিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্র খুব সহজেই অর্জিত হতে পারে।

এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ দূতাবাস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে তুরস্ক সফর করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সাথে নিজের বৈঠকের কথা স্মরণ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ওই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল বলে অভিহিত করেছেন।

তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের দেয়া প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কাছে থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

বাংলাদেশের প্রশংসা করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তুরস্ক অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে পুর্নব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ।

মঙ্গলবার আঙ্কারায় ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান তার পরিচয়পত্র উপস্থাপন করার সময় এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূতের সাথে এ সময় তার স্ত্রী নুজহাত আমিন মান্নান, মিশনের ডেপুটি চিফ মো. রইস হাসান সরওয়ার এবং প্রতিরক্ষা সংস্থার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাশেদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

পরিচয় পর্বের পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম কালিন, তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক ফাহরেটিন আলতুন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক রিজা হাকান তেকিনসহ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি এ সময় ২০২১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের কথা পুর্নব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও প্রতিরক্ষার মতো পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জন্য সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনাতে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নে তুর্কি নেতৃত্ব এবং কর্তৃপক্ষের সমর্থন চান রাষ্ট্রদূত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তববাদী নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের অর্জিত সাফল্যের বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত। এরদোগান বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর ও প্রসারিত করতে রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নানকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন।

তারা এ সময় বাংলাদেশ ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

সূত্র : ইউএনবি