তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রহণযোগ্য বললো আজারবাইজান!

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এস-৪০০ ক্রয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। সোমবার আজারবাইজান সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সহকারী ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান হিকমেত হাজিয়েভ এক বিবৃতিতে জানান, ‘রাষ্ট্রপতি আলিয়েভ তুরস্কের বিরুদ্ধে একতরফা এ নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন। যখন ন্যাটোর অন্য কিছু সদস্য একই ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, তখন তুরস্কের উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যায়।’

‘প্রেসিডেন্ট বিষয়টিকে দ্বি-মুখী নীতি এবং অন্যায় চিহ্ন হিসেবে দেখছেন,’ তিনি যোগ করেন। ‘প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ বলেছেন, তিনি নিশ্চিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুরস্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পদক্ষেপগুলোকে থামিয়ে দিতে পারবে না,’ হাজিয়েভ উল্লেখ করেছেন।

দু’দেশের দৃঢ় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট স্মরণ করেন, ১০ ডিসেম্বর আজারবাইজানের বিজয় কুচকাওয়াজে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের উপস্থিতি ছিল দু’দেশের মধ্যকার ঐক্যের উদাহরণ।

এদিকে, আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই এবং এই পদক্ষেপটিকে তুরস্কের বিরুদ্ধে দ্বি-মুখী নীতির প্রয়োগ হিসাবে দেখি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, এটি দুর্ভাগ্যজনক যে, সংলাপ এবং কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে তুরস্কের প্রস্তাবে আমেরিকা সাড়া দেয়নি। মন্ত্রণালয়টি আরো বলেছে, আজারবাইজান বরাবরের মতো তুরস্কের পাশে আছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে তার অবস্থানকে সমর্থন করে।

মন্ত্রণালয়টি তুরস্কের জাতীয় সুরক্ষার সাথে জড়িত এই বিষয়টিকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার মার্কিন রাজস্ব বিভাগ তুরস্কের রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

‘নিষিদ্ধকরণ আইনের মাধ্যমে আমেরিকার বিরোধীদের দমন (সিএএটিএসএ)’-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞাগুলো তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অফ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (এসএসবি) এবং এর প্রধান ইসমাইল দেমিরসহ তিন কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, এসএসবি জেনেশুনে এস-৪০০ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনে রাশিয়ার প্রধান অস্ত্র রফতানি সংস্থা রোসোবোরোনেক্সপোর্টের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে জড়িত।

‘এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসএসবির সকল মার্কিন রফতানি লাইসেন্স ও অনুমোদনের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং এসএসবি প্রধান ড. ইসমাইল দেমির এবং এসএসবি অন্যান্য কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ করা এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে,’ পম্পেও যোগ করেন।

এর আগে, ২০১৯ সালের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য যখন আঙ্কারা অনুরোধ করেছিল, তখন তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা তুরস্কের সাথে অন্যায় আচরণ করেছিলেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

বাংলাদেশের সাথে ২০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা বললেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগে থেকে নির্ধারিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্র খুব সহজেই অর্জিত হতে পারে।

এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ দূতাবাস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে তুরস্ক সফর করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সাথে নিজের বৈঠকের কথা স্মরণ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ওই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল বলে অভিহিত করেছেন।

তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের দেয়া প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কাছে থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

বাংলাদেশের প্রশংসা করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তুরস্ক অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে পুর্নব্যক্ত করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ।

মঙ্গলবার আঙ্কারায় ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান তার পরিচয়পত্র উপস্থাপন করার সময় এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূতের সাথে এ সময় তার স্ত্রী নুজহাত আমিন মান্নান, মিশনের ডেপুটি চিফ মো. রইস হাসান সরওয়ার এবং প্রতিরক্ষা সংস্থার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাশেদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

পরিচয় পর্বের পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে প্রেসিডেন্টের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম কালিন, তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক ফাহরেটিন আলতুন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক রিজা হাকান তেকিনসহ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি এ সময় ২০২১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের কথা পুর্নব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও প্রতিরক্ষার মতো পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জন্য সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনাতে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তা বাস্তবায়নে তুর্কি নেতৃত্ব এবং কর্তৃপক্ষের সমর্থন চান রাষ্ট্রদূত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তববাদী নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের অর্জিত সাফল্যের বিষয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত। এরদোগান বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর ও প্রসারিত করতে রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নানকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন।

তারা এ সময় বাংলাদেশ ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

সূত্র : ইউএনবি